• শিরোনাম

    বিএনপির সহায়ক সরকার কোথায়?

    | ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ | ৭:২৮ পূর্বাহ্ণ

    বিএনপির সহায়ক সরকার কোথায়?

    বিএনপির সহায়ক সরকার কোথায়?

    নিজস্ব প্রতিবেদক্

    সহায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন এবং এর রূপরেখা বা ফর্মুলা কী হবে তা প্রকাশ করার কথা গত একবছর ধরে বললেও এই দাবির প্রতি আস্থা কম খোদ বিএনপিরই। এই একবছরে সহায়ক সরকারের ফর্মুলা তো তৈরি হয়নি, এমনকি সহায়ক সরকারের কী আকার, নাকি এটি নিরাকার-সে সম্পর্কে কোনো ধারণা পর্যন্ত দিতে পারছেন না বিএনপির নেতারা। এমনকি বিএনপিপন্থি আইনজীবীরাও এর ধারণা স্পষ্ট করতে পারছেন না। আমার সংবাদের প্রশ্নের জবাবে তাদের কেউ মুখ খুলছেন না, আবার কেউ মুখ খুললেও বলতে পারছেন না কী পদ্ধতিতে সহায়ক সরকার হবে। আবার কেউ বলছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নন। সহায়ক সরকারের ফর্মুলার প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে জানতে চাইলে বলতে পারছেন না বিএনপির খোদ আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়াও। তিনি  বলেন, এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। সব বলতে পারবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ব্যাপারে জানতে বেশ কয়েকবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুঠোফোনে কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সম্প্রতি গণমাধ্যমে তিনি বলছেন সহায়ক সরকারের ধারণা থেকে তারা পিছিয়ে যাননি এবং ফর্মুলা যথাসময়ে প্রকাশ করবেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সহায়ক সরকারের এখনও কোনো খসড়াই তৈরি হয়নি। তাই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না সহায়ক সরকারের আগাগোড়াই।
    স্বভাবতই জনমনে প্রশ্ন জাগছে বিএনপির সহায়ক সরকার আসলে গেল কোথায়। এই যখন অবস্থা, তখন একাদশ জাতীয় সংসদের আর বাকি ১১ মাস। তার আগে অক্টোবরে যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন তাহলে বিএনপি রূপরেখা তৈরি এবং তা প্রকাশের সময় পাবে ৯ মাস। এদিকে বারবার বলার পরও সহায়কের রূপরেখা প্রকাশ না হওয়ার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে এ ব্যাপারে একমত হতে পারছেন না নেতারা। তাদের কেউ বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে এবং সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা সহায়ক সরকারের ফর্মুলায় থাকলে বর্তমান সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন হবে। কিন্তু এটি অনেকটা কঠিন। কারণ আওয়ামী লীগ কখনো এতে রাজি হবে না। তখন আন্দোলন ছাড়া এ দাবি আদায় সম্ভব হবে না। কিন্তু এখন বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি খুবই দুর্বল। এই শক্তি দিয়ে কঠোর আন্দোলন সম্ভব হবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এই নেতারা বলেন পুলিশকে বশে এনে দলীয় কর্মী বাহিনী নিয়ে আওয়ামী লীগ যতটা শক্তিশালী হয়েছে, ভীত কর্মীবাহিনী নিয়ে ততটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে বিএনপি। ফলে বারবার কর্মসূচি দিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে দলটি। এ অবস্থায় সহায়ক সরকারর প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে একজন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবি আদায় অসম্ভব। তাদের মতে, শেখ হাসিনাকে রেখেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর ভাগ চেয়ে সহায়ক সরকারের প্রস্তাব করা। এ দাবি আদায় সহজ। কারণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকার এ ধরনের প্রস্তাব নিজে থেকেই দিয়েছিল বিএনপিকে। এ বিষয়ে বিএনপির অন্য নেতাদের মত হচ্ছে-সহায়ক সরকারের প্রস্তাবে অবশ্যই দলীয় সরকার বাদ দিতে হবে। দলীয় বা শেখ হাসিনার অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই সহায়ক সরকারের প্রস্তাব না মানলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আন্দোলন ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হবে না।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন