• শিরোনাম

    বিএনপি নেতাদের নতুন ভাবনা

    | ১০ জানুয়ারি ২০১৮ | ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

    বিএনপি নেতাদের নতুন ভাবনা

    বিএনপি নেতাদের নতুন ভাবনা

    আফছার আহমদ রূপক

    আওয়ামী লীগ ও পুলিশের কাছে ধরাশায়ী হয়ে বিএনপির নেতারা এখন ভিন্ন কৌশলের কথা ভাবছেন। আর এটি হচ্ছে জনগণের কাছে মায়াকান্না। সহায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের আগে জনমত পক্ষে আনতে এ থেরাপি শুরু করে ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তারা। পরে এই মায়াকান্নার নাটক করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়াও সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা  বলেন, পুলিশকে বশে এনে দলীয় কর্মীবাহিনী নিয়ে আওয়ামী লীগ যতটা শক্তিশালী হয়েছে, ভীত কর্মীবাহিনী নিয়ে ততটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে বিএনপি। ফলে বারবার কর্মসূচি দিয়েও ব্যর্থ হচ্ছে দলটি। এ অবস্থায় জনগণই এখন ভরসা। সহায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলন শুরুর আগে জনগণের কাছে গিয়ে অনুনয়-বিনয় করে বলতে হবে কীভাবে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের নাম করে গণতন্ত্র ধ্বংস করছে। জনগণকে বোঝাতে হবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও দলীয় সরকার দিয়ে সুষ্ঠু হবে না। জনগণের ভোট নিজেরাই দিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম নির্বাচনের মতো জোর করে আবারো ক্ষমতায় আসতে চাইবে আওয়ামী লীগ। যদি তাই হয় তাহলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা আর সম্ভব হবে না। স্মার্টকার্ড বা অন্য যেকোনো কার্ডেই জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি হোক না কেন, সেটি কেবল ব্যক্তিগত কাজেই লাগবে। এই কার্ড দিয়ে ভোট দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে এমপি করা বা পছন্দের দলকে ক্ষমতায় দেখা সম্ভব হবে না। তাই যখনই সহায়ক সরকার ইস্যুতে আন্দোলন হবে তখনই বিএনপিকে সমর্থন দেওয়া উচিত। সহায়ক সরকারের দাবি আদায়ে হরতাল বা অন্যকোনো কঠোর কর্মসূচি দিলে তাতে অংশ নেওয়া। বিএনপি নেতারা আরো বলেন, ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে বিএনপির বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রার্থী এই মায়াকান্না থেরাপি ব্যবহার করে সফল হয়েছেন। এতে প্রচুর ভোট আসে এবং পেশিশক্তিও বাড়ে। এর প্রমাণ হবিগঞ্জের একজন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি শক্তিশালী আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পরাজিত করতে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে মায়াকান্না করেছেন। তার পক্ষে পরিবারের সদস্যরা ভোটারদের কাছে চোখের জলও ফেলেছেন। তাদের উপস্থাপনা এতটাই বিনয়ী ছিল যে, ভোটাররা ভোট তো দিয়েছেনই, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর থেকে অনেক ভোটে বিজয়ী করেন বিএনপির ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে। পরে তার ফলাফল দিতে দেরি করায় জনগণ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় ঘেরাও করে রাখে ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত। তাতে রিটার্নিং অফিসার বাধ্য হন বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতে। বিএনপি নেতারা বলেন, এভাবে জাতীয় নির্বাচন ও সহায়ক সরকারের দাবি আদায়ের আন্দোলনেও মায়াকান্না ব্যবহার করে জনগণকে বোঝালে ভালো ফল পাওয়া যাবে। দুর্বল বিএনপিও তখন জনগণকে পেয়ে চাঙা হয়ে উঠবে। এ ব্যাপারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, হত্যা ও গুমসহ বিভিন্ন কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের এমনিতেই জনপ্রিয়তা তলানিতে। কিন্তু বিএনপির জনপ্রিয়তা কমেনি, বরং বেড়েছে। এখন নিরপেক্ষ বা সহায়ক সরকার হলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় যাবে বিএনপি। মায়াকান্নার প্রয়োজন হবে না।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন