• শিরোনাম

    ৫৩টি বিষয়ে ইমাম বুখারী  রহমতুল্লাহি আলাইহি’র সাথে লা-মাযহাবী আহলে হাদিসের বিরোধ -মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী

    | ২৯ মে ২০২১ | ১০:২৩ অপরাহ্ণ

    ৫৩টি বিষয়ে ইমাম বুখারী  রহমতুল্লাহি আলাইহি’র সাথে লা-মাযহাবী আহলে হাদিসের বিরোধ -মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী

    মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী

    লা মাযহাবী আহলে হাদীসরা দাবী করে যে, তারা ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর সহীহ বুখারীর হাদিস সমূহ অনুসারী এবং অনুগামী। অথচ তিপ্পান্নটি মাসআলা এমন যেগুলোতে তারা ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি

    আলাইহি এর বিরোধিতা করে। নিম্নে বিরোধপূর্ণ ৫৩টি মাসআলা উল্লেখ করা হলোঃ
    ১। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইলমে ফিকহের পক্ষে। তিনি নিজে মুজাহিদ হওয়ার কারণে কোন ইমামের অনুসারী না হলেও কোন ইমামের অনুসারী না হলেও তিনি সহীহ বুখারীর ষষ্ঠদশ পৃষ্ঠায় একটি অধ্যায় উল্লেখ করেছেন ”
    باب من يرد الله به خيرا يفقه فى الدين”
    (অধ্যায়, আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের ব্যাপারে গভীর জ্ঞান দান করেন)

    এ অধ্যায়ে তিনি দ্বীনের মধ্যে ফিকহের জ্ঞানের কথা সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। তাতে চার ইমামের কোন একজনকে যে মান্য করা অপরিহার্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তির সমর্থন ও স্বীকৃতি ও আসে। এক্ষেত্রে আহলে হাদিসের অবস্থান বড়ই কঠোর। তারা ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর অনুসারী ও অনুগামী হওয়া সত্ত্বেও ইমাম ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে গ্রহণ না করে বলে মাযহাব মানা শিরক। মাযহাবীরা মুশরিক।

    webnewsdesign.com

    ২। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে,কেবলার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব-পায়খানা করা নিষেধ। এই বিষয়ে সহীহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজেও এমতের অনুসারী,কিন্তু আহলে হাদীসরা মনে করে কেবলার দিকে মুখ করে পর।প্রশ্রাব-পায়খানা করা জায়েজ।
    ( আহসানুল ফাতাওয়া, পৃষ্ঠা.১০৯)

    ৩। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর দৃষ্টিতে বীর্য নাপাক; কিন্তু আহলে হাদীসরা বীর্যকে পবিত্র মনে করে।
    ( সহীহ বুখারীর খন্ড.১, পৃষ্ঠা.৩৬, বদরুল আহিল্লা, পৃ.১৫)
    ৪। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে অল্প পানিতে নাপাকি পড়লে পানি নাপাক হয়ে যায়; কিন্তু আহলে হাদীসদের মতে নাপাক হয় না।
    ( সহীহ বুখারী খন্ড.১, পৃষ্ঠা.৩৭, নুযুলুল আবরার,পৃ.৩১)

    ৫। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে ওযুর অঙ্গগুলো ধারাবাহিকভাবে ধৌত করা আবশ্যক নয়; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে এটি অত্যাবশ্যক।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.১, পৃষ্ঠা.৪০,)

    ৬। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে বীর্যপাত না হলে সহবাসে গোসল ফরজ হয় না; কিন্তু আহলে হাদিসদের মতে গোসল ফরজ হবে।
    ( প্রাগুক্ত, পৃ.৪৩, নুযুলুল আবরার,খ.১, পৃ.২৩)

    ৭। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে উযূর পরে কোন মহিলাকে স্পর্শ করলে উযূ নষ্ট হয়না; কিন্তু আহলে হাদিসদের মতে উযূ নষ্ট হয়ে যায়।
    (সহীহ বুখারী,খ.১,পৃ.৫৫, ফাতাওয়ায়ে আহলে হাদিস, খ.১, পৃ.২৮১.)

    ৮। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে পাক জুতা পরিধান অবস্থায় নামাজ পড়া জায়েজ কিন্তু আহলে হাদীসরা একে সুন্নত বলে ফতোয়া দিলেও তারা কেউই এর ওপর আমল করে না। (সহীহ বুখারী খণ্ড.১, পৃষ্ঠা.৫৫,
    নুযুলুল আবরার, খন্ড.১,পৃ.৬৮,)

    ৯।ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে উট স্থানে নামাজ আদায় করা মাকরুহ নয়; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে উটের খামারে নামাজ আদায় করা হারাম। পড়ে থাকলে তা পুনরায় নামাজ পড়তে হবে।
    (সহীহ বুখারী খন্ড.১, পৃ.৬০, তাইসিরুল বারী,পৃ.৩০৪)

    ১০। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে মসজিদের মেহরাব এবং মিম্বার বানানো সুন্নত কিন্তু আহলে হাদিসের মতে সুন্নত নয়।
    ( সহীহ বুখারী খন্ড 1 পৃষ্ঠা.৭১, ফাতাওয়ায়ে সাত্তারিয়া, খন্ড ১ পৃষ্ঠা,৬৩ )

    ১১। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে খোলা স্থানে নামাজ আদায় কালীন সময়ে সুত্রা জরুরী কিন্তু আহলে হাদিসের মতে সর্বস্থানে সুত্রা জরুরী নয়।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.১,পৃ,৭২. ফাতাওয়ায়ে আহলে হাদিস খন্ড.১ , পৃষ্ঠা ৪৫৭,)

    ১১। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে গরমকালে যোহরের নামায বিলম্বে পড়া সুন্নত; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথে আদায় করে নিতে হবে মৌসুম গরম হোক অথবা ঠান্ডা হোক।
    ( সহীহ বুখারী খন্ড.১, পৃ.৭৬, ফাতাওয়ায়ে সাত্তারিয়া,খ.১,পৃ.৫৫৩)

    ১৩। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে গোসলে কুলি করা বা নাকে পানি দেওয়া ওয়াজিব নয়; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে উভয়টি ওয়াজিব।
    (সহীহ বুখারী খন্ড.১, পৃ.৪০, তাইসিরুল বারী, খন্ড.১,পৃ.১৮৮)

    ১৪। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে নাপাক ব্যক্তির জন্য কোরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে তাদের জন্য কোরআন তেলাওয়াত করা জায়েজ নেই।
    ( সহীহ বুখারী খন্ড.১ পৃষ্ঠা. ৪৪, সালাতুর রাসুল পৃষ্ঠা. ৭৩)

    ১৫। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে সহি এবং ফজরের নামাজের পরে নামাজ পড়া জায়েজ নেই; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে ফজরের সুন্নত পড়া না থাকলে তা সূর্যোদয়ের পূর্বে আদায় করতে পারবে। অনুরূপভাবে আসরের নামাজের পরে তাওয়াফের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করতে পারবে।
    ( সহীহ বুখারী খন্ড.১, পৃষ্ঠা.৮২.৮৩, আরফুল জাদী পৃষ্ঠা.১৮)

    ১৬। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে কাজা নামাজ আদায় করে নেওয়া জরুরি। কিন্তু আহলে হাদিসের মতে খাটি তওবা করে নিলেই হবে নামাযের কাযা আদায় এর প্রয়োজন নেই।
    ( সহীহ বুখারী খন্ড.১,পৃষ্ঠা ৮৩, ফাতাওয়ায়ে আহলে হাদিস পৃষ্ঠা. ৪১৫ )

    ১৭।ইমাম বুখারী রহমতুল্শাহি আলাইহি এর সহি বসে নামাজ পড়লেও মোক্তাদিরা দাঁড়িয়ে নামাজ পড়বে; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে ইমাম বসে নামাজ পড়লে মক্তাদিরাও বসে বসে নামাজ আদায় করতে হবে।
    ( সহীহ বুখারী, খণ্ড.১ পৃষ্ঠা.১৯, তাইসিরুল,খন্ড.১, পৃষ্ঠা.৪৩৯)

    ১৮। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে ইমামতির সবচেয়ে বেশি যোগ্য ব্যক্তি যিনি বড় আলেম আর আহলে হাদীসদের মতে যোগ্যতম ব্যক্তি হলেন ক্বারী।
    (সহীহ বুখারী,খন্ড.১, পৃষ্ঠা.৯৩, আরফুল জাদী,পৃষ্ঠা.৩৬)

    ১৯। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে ইমামের উচিৎ সংক্ষিপ্ত ও হালকা নামাজ পড়ানো আর আহলে হাদিসের মতে লম্বা সূরা পড়তে হবে যার কোন সীমা নেই।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.১ পৃষ্ঠা.৯৭, আল-হাইআতুল বাদাল মামাত, পৃষ্ঠা.১৩৭)

    ২০। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে নামাজে সর্বাবস্থায় “বিসমিল্লাহ” আস্তে পাঠ করা সুন্নত; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে জেহেরি নামাজে স্বশব্দে এবং সির্রী নামাজে নিঃশব্দে পাঠ করতে হবে।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.১,পৃষ্ঠা.১০২, দস্তরুল মুত্তাকী, পৃষ্ঠা.৯২)

    ২১। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে সকল নামাজে ইমামের নেয় মুক্তাদীগণের কেরাত ওয়াজিব; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে ইমামের পিছনে সুরা ফাতেহা ব্যতীত আর কোন সূরা পাঠ করা আবশ্যক নয়।
    ( সহীহ বুখারী খন্ড.১,পৃষ্ঠা.১০৪, তাইসিরুল বারী, পৃষ্ঠা.৪৯৭)

    ২২। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে চার রাকাত ফরজ নামাজের শেষ দুই রাকাতে কেবল সুরা ফাতেহা পড়তে হবে; কিন্তু আহলে হাদিসদের মতে শেষ দুই রাকাতে ফাতেহার সাথে সূরা মিলালে আপত্তি নেই।
    ( সহীহ বুখারী,খন্ড.১,পৃষ্ঠা.১০৭, নুযুলুল আবরার,খন্ড.১, পৃষ্ঠা.৭৮)

    ২৩। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে মুক্তাদী ইমামের সূরা ফাতেহা পায় নাই তাতে নামাজ হয়ে যাবে; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে ইমামের সূরা ফাতিহা না পাওয়ার কারণে সে ওই রাকাত পায় নাই। বিধায় কেবল রুকু পাওয়া ব্যক্তির রাকাত পাওয়া হয়নাই।
    (সহীহ বুখারী, খন্ড.১ পৃষ্ঠা. ১০৮,আরফুল জাদী, পৃষ্ঠা.২৬)

    ২৪। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে জুমার দিন গোসল ওয়াজিব নয়; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে জুমার দিনে গোসল করা ওয়াজিব।
    (সহীহ বুখারী, খন্ড.২ ,পৃষ্ঠা.১২০, আরফুল জাদী, পৃষ্ঠা.১৪)

    ২৫। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে জুমুয়ার ওয়াক্ত শুরু হবে সূর্য ঢলার পর; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে দ্বিপ্রহরের পূর্বে জুমার নামাজ পড়া জায়েজ আছে।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.১, পৃষ্টা.১২৩, ফাতাওয়ায়ে আহলে হাদীছ,খন্ড.২, পৃষ্ঠা.২২)

    ২৬। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে জুমার আযান মসজিদের বাহিরে এবং মিম্বারের সামনে দেওয়া সুন্নত; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে জুমার দিনে একটি আজানেই যথেষ্ট দুইটি আযান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
    ( সহীহ বুখারী,খন্ড.১ ,পৃষ্ঠা.২২৫,ফাতাওয়ায়ে সাত্তারিয়া,খন্ড.৩ পৃষ্ঠা,৮৫)

    ২৭। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে বিতর, তাহাজ্জুত, কিয়ামুল্লাইল ও নফল এগুলো পৃথক পৃথক নামাজ; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে এগুলো এক এবং অভিন্ন নামাজ।
    ( সহীহ বুখারী,খন্ড.১ পৃষ্ঠা.১৩৫, তাইসিরুল বারী, খন্ড.২,পৃষ্ঠা. ৭৭)

    ২৮। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে বিতর নামাজে দোয়ায়ে কুনুত রুকুতে যাওয়ার পূর্বে পড়া; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে দোয়ায়ে কুনুত রুকুতে পরে পড়া মুস্তাহাব।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.১, পৃষ্ঠা.১৬৬, ফাতাওয়ায়ে আহলে হাদীছ, খন্ড.১, পৃষ্ঠা.১৩২)

    ২৯। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে কসরের জন্য দূরত্ব ৪৮ মাইল অথবা ৭২ কিলোমিটার পথ ;কিন্তু আহলে হাদিসের মতে সফরের জন্য কোন দূরত্ব নেই লোকালয়ে ত্যাগ করলেই মুসাফির হয়ে যাবে তাদের কারও মতে তিন মাইল আর কারো মতে নয় মাইল পথ অতিক্রম করার নিয়ত করলে মুসাফির হয়ে যাবে এবং নামায কসর করতে হবে।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.১, পৃষ্ঠা.১৪৭, তাইসিরুল বারী, খন্ড.২ ,পৃষ্ঠা.১৩২)

    ৩০। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহির এর মতে মাগরিবের নামাযের পূর্বে নফল পড়া যাবে না এটি সুন্নত নয়; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে আযান এবং একামতের মাঝে দুই রাকাত নামাজ পড়া সুন্নত।
    (সহীহ বুখারী ,খন্ড.১৪৭, ফাতাওয়ায়ে আহলে হাদিছ,খন্ড.৪ পৃষ্ঠা.২৩৫)

    ৩১। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে মা আয়েশার ৮ রাকাতের আমল তাহাজ্জুদের জন্য ছিল। যাহা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাকী আদায় করতেন এটি তারাবীহ ছিল না। কিন্তু লা মাযহাবী আহলে হাদীসরা এই নামাজ রমজান মাসে তারাবি মনে করে জামাতের সাথে আদায় করে থাকে।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.১, পৃষ্ঠা.১৫৩,)

    ৩২।ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে জানাজার নামাজে পুরুষ হোক অথবা মহিলা হোক ইমাম কোমর বরাবর দাঁড়াবে; কিন্তু লামাজহাবী আহলে হাদিসের মতে পুরুষ হলে মাথা বরাবর আর মহিলা হলে কোমর বরাবর দাঁড়ানোর সুন্নত।
    (সহীহ বুখারী, খন্ড.১ পৃষ্ঠা.১৭৭, ফতুয়ায় উলামায়ে আহলে হাদিস, খন্ড.৫,পৃষ্ঠা.২০১২,)

    ৩৩। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে মৃত ব্যক্তি কবর থেকে শুনতে পায়; কিন্তু লা মাযহাবী আহলে হাদিসের মতে মৃত ব্যক্তি শুনতে পায় না।
    ( সহীহ বুখারী খন্ড.১, পৃষ্ঠা.১৭৮, রাসায়েলে বাহুবালি,পৃষ্ঠা.৩৪)

    ৩৪। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে নাবালক সন্তান মারা গেলে জান্নাতি; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে পিতা-মাতা কাফির-মুশরিক হলে তাদের শিশু সন্তান মারা গেলে এই শিশুসন্তান কাফের-মুশরিক হিসেবে গণ্য হয়ে জাহান্নামী হবে।
    ( সহীহ বুখারী,খন্ড.১,পৃষ্ঠা.১৮৫, আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ, খন্ড.২ পৃষ্ঠা.৬১২)

    ৩৫। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে হজ্জ বা ওমরার ক্ষেত্রে মীকাতের পূর্বে ইহরাম বাঁধা জায়েয নাই; আর আহলে হাদীসের মতে জায়েয।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.১, পৃষ্ঠা.২০৬, তাইসিরুল বারী, খন্ড.২, পৃষ্ঠা.২৩৮)

    ৩৬।ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে এহরাম অবস্থায় বিবাহ করা জায়েজ; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে জায়েজ নেই।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.১ পৃষ্ঠা.২৪৮ তাইসিরুল বারী, খন্ড.৩ পৃষ্ঠা.৪২)

    ৩৭।ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা কে বিবাহ করেছিলেন যখন তার বয়স হয়েছিল ৬ বছর আর বাসর হয়েছে ১১ বছর বয়সে অথবা নয় বছর বয়সে; কিন্তু লামাজহাবী আহলে হাদিসের মতে ৯ বছরের বর্ণনাটি জাল এবং এটি সাহাবীদের অসতর্ক বর্ণনা।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.১, পৃষ্ঠা.১৫৫, সিদ্দিকায়ে কায়েনাত, পৃষ্ঠা.৪২)

    ৩৮। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে খন্দক যুদ্ধ চতুর্থ হিজরীতে হয়েছে; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে পঞ্চম হিজরী সনে হয়েছে।
    ( সহীহ বুখারি, খন্ড.২, পৃষ্ঠা.৫৮৮, আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা.৩০১)

    ৩৯। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে ইফক তথা আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সলুল মুনাফিক কর্তৃক মা আয়েশা এর উপরে যে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল এটি মা আয়েশার সাথে সম্পৃক্ত ঘটনা; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে মা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা এর সাথে এই ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই ।
    (সহীহ বুখারী, খন্ড.২ পৃষ্ঠা.৫৯৩, সিদ্দীকায়ে কায়েনাত, পৃষ্ঠা.১০৭)

    ৪০। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে দুধ মা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এবং বিবাহ হারাম হওয়ার জন্য শিশু দাদিমার দুধ কম পান করুক আর বেশি পান করুক তাতে হুরমত তথা দুধ মাকে বিবাহ করা হারাম হয়ে যায়; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে কমপক্ষে পাঁচ চুমুক পান না করা পর্যন্ত হুরমত সাব্যস্ত হবে না।
    ( সহীহ বুখারি,খন্ড.২ পৃষ্ঠা.৭৬৪, তাইসীরুল বারী,খন্ড.৭,পৃষ্ঠা.৩২)

    ৪১।ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে কোরআন শরীফ খতম করার কোনো সময়সীমা নেই যত অল্প সময়ে এমনকি একদিন কেউ কোরআন খতম করতে চাইলে পারবে মাকরুহ হবেনা;কিন্তু আহলে হাদিসের মতে তিনদিনের কমে কোরআন খতম করা মাকরুহ ।
    (সহীহ বুখারী, দ্বিতীয় খন্ড.২ পৃষ্ঠা.৭৫৫, তাইসিরুল বারী, খন্ড.৬ পৃষ্ঠা.৫৩৫)

    ৪২। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে হায়েজগ্রস্তা মহিলাকে তালাক দিলে তা পতিত হবে; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে এই বিদঈ তালাক হারাম যা গণনায় আসবেনা।
    (সহীহ বুখারী, খন্ড.২,পৃষ্ঠা.৭৯০, তাইসিরুল বারী,খন্ড.৭, পৃষ্ঠা.২৩৫)

    ৪৩। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে এক বৈঠকে তিন তালাক তিন তালাক বলে গণ্য হবে; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে এক তালাক গণ্য হবে।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.২ পৃষ্ঠা.৭৯১ )

    ৪৪। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে স্ত্রী মুসলমান হওয়ার সাথে সাথে কাফির স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে স্ত্রীর ইদ্দত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হবে না।
    ( সহীহ বুখারী,খন্ড.২ পৃষ্ঠা.৭৯৬ তাইসিরুল বারী ,খন্ড.৭ পৃষ্ঠা.১৯৯)

    ৪৫। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে কোরবানি কেবল ১০ই জিলহজ্জ করা উচিৎ; কিন্তু আসলে হাদিসের মতে চার দিন পর্যন্ত কোরবানি করা জায়েজ।
    (সহীহ বুখারী,খন্ড.২, পৃষ্ঠা.৮৩৩)

    ৪৬। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানি ঈদগাহে করতেন; আর আহলে হাদিছ বলে কোরবানি বাড়িতে করতে হবে।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.২ পৃষ্ঠা.৮৩৩)

    ৪৭। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে দাঁড়ি এক মুষ্টি পরিমাণ লম্বা করা সুন্নত; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে দাঁড়ির নিয়ম কানুন নেই। যত ইচ্ছা লম্বা করতে পারে অথবা মুন্ডাতেও পারে আবার কেউ চাইলে এক মুষ্টির কমও রাখতে পারে।
    ( সহীহ বুখারি,খন্ড.২ পৃষ্ঠা.৮৭৫)

    ৪৮। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে কেবল তিনদিন পর্যন্ত কোরবানি করা জায়েজ এরপরে জায়েজ নেই ;কিন্তু আহলে হাদিসের মতে তিন দিন পরেও চতুর্থ দিনেও কোরবানি করা যাবে।
    ( সহীহ বুখারি, খন্ড.২ পৃষ্ঠা.৮৩৫)

    ৪৯। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে উভয় হাতে মুসাফাহা করা সুন্নত; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে মুসাফা করা হবে এক হাতে দুই হাতে নয়।
    (সহীহ বুখারী,খন্ড.২ পৃষ্ঠা.২৬, তাইসিরুল বারী,খন্ড.৮ পৃষ্ঠা.১৭৮)

    ৫০। ইমাম ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের তৃতীয় রাকাতের শেষে এবং চতুর্থ রাকাতে পূর্বে আরাম বৈঠক সুন্নত নয়; কিন্তু আহলে হাদিস গান আরাম বৈঠকে সুন্নত বলে থাকেন।
    ( সহীহ বুখারী. খন্ড.২ পৃষ্ঠা.৯৮৬ আরফুল জাদী পৃষ্ঠা.৩০)

    ৫১।ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে ইজমা শরীয়তের দলিল; কিন্তু আহলে হাদিসের মতে ইজমা এবং কেয়াস কোন অকাট্য দলিল নয়।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.২ পৃষ্ঠা.১০৮৮, আরফুল জাদী পৃষ্ঠা.৩ )

    ৫২। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মতে ইজমা শরীয়তের দলিল ;আর আহলে হাদীসরা বলে অকাট্য দলিল নয়।
    ( সহীহ বুখারী, খন্ড.২ পৃষ্ঠা.১০৮৯ )

    ৫৩। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইজতিহাদ করা জায়েজ; আর আহলে হাদীসরা বলে ইমামদের কোরআন এবং
    (সহি বুখারী, খন্ড.২ পৃষ্ঠা.১০৯২)

    এ হলো যার নাম দিয়ে এতদিন আহলে হাদিস লা মাযহাবী সালাফীরা সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিতে তাদের যারা কথায় কথায় বলে আমরা ইমাম বোখারী এবং তার সহি বুখারী মানে সহি বুখারীর হাদিস অনুসরণ করি কই তারা উপরোক্ত বিষয় কি বলবেন যে আহলে হাদিস বুখারী শরীফের নাম নিতে নিতে মুখে ফেনা তুলছেন ইমাম বুখারীর ভালোবাসা যাদের শুধু কলিজায় নয় বরং সঙ্গে জুড়ে তারা যে ইমাম বুখারীর এত বিরোধিতা তো সাধারন মানুষের জানার উপায় নেই ।

    তারা সহি বুখারী হাদিসের আমল করার মৌখিক দাবী করে অথচ তাদের অবস্থা উপরোক্ত ৫৩ টি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে কাজেই আহলে হাদিস কোন হাদীসের উপর আমল কারী দল নয় বরং এরা একটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বিরোধী দল এদের কথা শোনা যাবে না এবং তদনুযায়ী আমল করা যাবে না আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই বাতিল ফেরকা আহলে হাদিস লা-মাযহাবী থেকে আমাদের ঈমান এবং আকিদাকে হেফাজতে রাখার তৌফিক দান করুন।
    আমিন! আমিন!

    মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী
    ইমাম ও খতিব,
    হযরত মাদ্দাহ্ খাঁ (রহ:) জামে মসজিদ হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
    আরবি প্রভাষক,
    গাজীপুর (হরিপুর) দারুচ্ছুন্নাত নেছারিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, চাঁদপুর।
    সাজ্জাদানশীন,
    নয়নপুর গাউছিয়া দরবার শরীফ শাহরাস্তি, চাঁদপুর।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি