• শিরোনাম

    হৃদরোগীর সংখ্যায় বাংলাদেশ শীর্ষে

    | ০৮ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

    হৃদরোগীর সংখ্যায় বাংলাদেশ শীর্ষে

    হৃদরোগীর সংখ্যায় বাংলাদেশ শীর্ষে

    নিজস্ব প্রতিবেদক,

    দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে অন্যান্য দেশের তুলনায় হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশেই বেশি। এমনকি এ রোগের কারণে দেশে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে পরিবেশ দূষণের কারণে হৃদরোগের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা গবেষকরা।

    চিকিৎসকরা বলেছেন, বাংলাদেশে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের সংখ্যাটা বেশি। ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের সংখ্যাও ক্রমে বাড়ছে। শিশুদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৬৫ শতাংশ ঘটছে অসংক্রামক ব্যাধি থেকে। অসংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে হৃদরোগ।

    webnewsdesign.com

    ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আবদুল মালেক বলেন, হৃদরোগ মানুষে নিজেই তৈরি করে। কায়িক পরিশ্রম না করা, জাঙ্ক ফুড খাওয়া ও ধূমপান করার কারণে ঝুঁকি বাড়ছে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান বলেন, যেসব পরিবারে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, সেই পরিবারে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ধূমপান ত্যাগ করা, হাঁটাহাঁটি করা, সাইকেলিং, সাঁতার কাটা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন করা, বেশি বেশি শাকসবজি খাওয়া, চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া, আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

    বিশ্বে হৃদরোগকে এক নম্বর ঘাতকব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবছর ১ কোটি ৭৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে আড়াই কোটিতে। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতিবছর বিশ্বে মোট রোগীর মৃত্যুর মধ্যে ২৯ ভাগ হার্টের রোগে মারা যান। বিশ্বস্বাস্থ্য সম্মেলনে অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে হৃদরোগকে অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তারা বলেছেন, যারা বুকের ব্যথা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েছেন তাদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি হার্ট অ্যাটাক থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এদের শতকরা ৮৫ ভাগ রোগীই মধ্যবর্তী ঝুঁকিতে থাকেন।

    বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিবুল্লাহ বলেন, দেশে বয়স্কদের মধ্যে ১৭ শতাংশ লোক হৃদরোগে ভুগছেন। ছোটদের মধ্যে হাজারে ৮ থেকে ১০ জনের মধ্যে এই রোগের দেখা মিলছে। ২০ থেকে ২২ বছরের তরুণ রোগীও আমরা পাচ্ছি। দেশে ৫০ থেকে ৬০ বছরের বয়সীদের হৃদরোগ বেশি হচ্ছে। বহু শিশু জন্মগত হার্টের সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের হৃদরোগ বেশি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের উদ্যোগে ২০১৬ সালে প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের পরিসংখ্যান মতে, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হৃদরোগীর সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। ২০০৯ সালে বহির্বিভাগ থেকে সেবা নিয়েছিল এক লাখ ৬০ হাজার ৮ জন এবং ভর্তি হয়েছিল ৪১ হাজার ৫৫৪ জন, ২০১০ সালে বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেওয়ার সংখ্যা ছিল এক লাখ ৬১ হাজার ৯৫৮ জন এবং ভর্তি হন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৬৩ হাজার ৮১৩ জন ও ৪৩ হাজার ২৭৫ জন। ২০১২ সালে বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন এক লাখ ৭৪ হাজার ৩৬৬ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ৪৪ হাজার ৫৫৯ জন। ২০১৩ সালে বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেওয়ার সংখ্যা ছিল এক লাখ ৭২ হাজার ২৬৯ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৪৩ হাজার ৩৪১ জন। ২০১৪ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় দুই লাখ ৫৩৩ এবং ৪৯ হাজার ২৮৩ জনে। ২০১৫ সালে বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই লাখ ২২ হাজার ১৮৬ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন ৬৩ হাজার ৩৯০ জন। এদিকে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এ রোগীর সংখ্যা পূর্বের ইতিহাস ছাড়িয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শিশু এবং নারীরাই বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকে। হার্ট সুস্থ রাখার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আয়োজনে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলা কার্ডিও-২০১৭’ সম্মেলনের শেন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসা গবেষকরা অংশ নেন।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন