• শিরোনাম

    হুমকির মুখে নদী খনন প্রকল্প

    | ২২ নভেম্বর ২০১৭ | ১২:২৩ অপরাহ্ণ

    হুমকির মুখে নদী খনন প্রকল্প

    হুমকির মুখে নদী খনন প্রকল্প

    নিজস্ব প্রতিবেদক্।

    দক্ষ জনবলের অভাবে নদী খনন প্রকল্প হুমকির মুখে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ( বিআইডব্লিউটিএ) ১৪টি ড্রেজার ও ২৭টি জলযান পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। ভাড়াটে ও অদক্ষ লোকই এখন ভরসা। এতে সংগৃহীত ড্রেজার ও জলযান বেশিরভাগ সময় অলসভাবে পড়ে থাকে। ফলে ৫৩টি নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন গতি হারাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে একথা জানাগেছে।

    বিআইডব্লিউটিএ’র ১৪টি ড্রেজার ও ২৭টি জলযান পরিচালনার জন্য ৩৬১ পদে লোক দরকার। বাস্তবে এসব পদগুলোর লোক নেই। দক্ষ জনবলের অভাবে ভাড়াটে লোকদিয়ে ড্রেজার ও জলযানগুলো পরিচলানা করতে হচ্ছে। এই ভাড়াটে লোকদিয়ে ড্রেজার পরিচালনা করায় প্রায়ই ড্রেজারে দেখা দিচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি। মাঝপথে থমকে যাচ্ছে খনন কাজ। ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের নদী খনন প্রকল্প। জানা গেছে, ১৪টি ড্রেজার ও ২৭টি জলযান পরিচালনার জন্য বিআইডব্লিউটিএ ৩৬১ পদে জনবল নিয়োগের একটি প্রস্তাব পাঠায় জনপ্রশানর মন্ত্রণালয়ে।
    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর ৩১২ পদের নিয়োগের জন্য সম্মতি প্রদান করে অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এর পর চলতি সালের ১১ জুলাই অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ৩১২পদে লোক নিয়োগের সম্মতি দেয়। পদগুলো বেতন স্কেল ভেটিং করার জন্য নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় গত ৩০ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু ফাইলটি এখনো অর্থমন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার ভিত্তিক ৫৩ নদী খনন প্রকল্পের গতি বাড়াতে ৯১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালে ৩টি, ১৪ সালে ১০টি এবং ২০১১ সালে ৩টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযান কেনা হয়। ২০১৬ সালে ৩টি ড্রেজারসহ মোট ১৪টি ড্রেজারসংগৃহীত হয়।
    এই ১৪টি ড্রেজার পরিচালনার জন্য টাগবোট, ক্রেনবোট, ক্র-হাউজবোট ও অফিসার হাউজবোটসহ ২৭টি জলযান ক্রয়ও ক্রয় হয়। ড্রেজার ও জলযানগুলো পরিচালনা, মেরামত এবং ব্যবস্থাপনার জন্য কারিগরি কর্মকর্তাসহ জনবল নিয়োগের প্রস্তাব করে বিআইডব্লিউটিএ। কিন্তু ২ বছরেও জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। ভাড়াটে ও অদক্ষ লোকই এখন ভরসা। ফলে ড্রেজারগুলোর বেশির ভাগই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হচ্ছে। কোনো কোনো ড্রেজার ১৫০ দিন থেকে ২২৫ দিন পর্যন্ত কাজ করার পর ত্রুটি দেখা দেয়ায় ড্রেজিং বন্ধ রাখতে হয়। এতে বিআইডব্লিউটিএ’র কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ছে।
    জনবল নিয়োগ সম্পর্কে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগকে জানানো পর দীর্ঘদিন হয়ে গেল কোন কাজ করেনি। বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রীকে জানিয়েছি। এখন একটা ব্যবস্থা হবে। আমরা দ্রুত নিয়োগ দিতে পারবো। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিশাখা-৩ এর উপ-সচিবকে গত এক মাস আগে জানিয়েছি। কিন্তু এক মাসেও কোন কাজ হয়নি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানানো হয়েছে।
    প্রসঙ্গত, একটি ড্রেজার পরিচালনার জন্য ১ জন ড্রাইভার-১, ১ জন মাস্টার-২, ৩ জন লিভার ম্যান, ৩ জন ড্রাইভার-২, ৩ জন গ্রীজার, ৪ জন লস্কর, ১ জন তোপাষ, ২ জন ভান্ডারসহ ১৮ জন প্রয়োজন হয়। এভাবে ১৪টি ড্রেজারের জন্য ২৫২জন জনবল প্রয়োজন।
    একটি টাগ বোট পরিচালনার জন্য ১ জন মাষ্টার-১, ১ জন ড্রাইভার-১, ২ জন কোয়াটার মাষ্টার, ১ জন অফিসার কুক, ৩জন গ্রীজার, ২ জন লস্কর, ১ জন তোপাষ, ১জন ভান্ডারিসহ মোট ১২ জন জনবল প্রয়োজন হয়। ৩টি টাগ বোটের জন্য ৩৬ জন জনবল প্রয়োজন।
    বর্তমানে একজনও নেই। ১টি অফিসার হাউজবোট পরিচালনার জন্য ১ জন অফিসার কুক, ১ জন গ্রীজার, ১ জন লস্কর, ১ জন তোপাষসহ মোট ৪ জন হলে ৪টি অফিসার হাউজবোট পরিচালনার জন্য ১৬ জন জনবল প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে এখনও এসব পদে কোনো লোক নিযোগ দেয়া হয়নি, ফলে এসব জলযানগুলো অসল হয়ে যাচ্ছে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর