• শিরোনাম

    হাজীগঞ্জ ইসলামীয়া মর্ডাণ হাসপাতাল থেকে ভূয়া ডাক্তার ও সহকারী আটক

    | ১৭ অক্টোবর ২০১৭ | ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

    হাজীগঞ্জ ইসলামীয়া মর্ডাণ হাসপাতাল থেকে ভূয়া ডাক্তার ও সহকারী আটক

    গত ৬ মাস থেকে হাসপাতালের নিয়মিত ডাক্তার এম.এস জামান চৌধুরী মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও কসমেটিকস্ রোগে বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারনা
    হাজীগঞ্জ ইসলামীয়া মর্ডাণ হাসপাতাল থেকে ভূয়া ডাক্তার ও সহকারী আটক
    নিজস্ব প্রতিবেদক॥
    হাজীগঞ্জের পূর্ব বাজার সেন্ট্রাল হসপিটাল থেকে ডাক্তার মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান (৩৮) নামে এক ভুয়া ডাক্তার আটকের পর ২ দিনের মাথায় এবার মধ্য বাজারস্থ ইসলামীয়া মর্ডাণ হাসপাতাল থেকে অষ্টম শ্রেণি পাশ ভূয়া ডাক্তার ও তার সহযোগীকে আটক করেছে স্থানীয় ডাক্তাররা। এ সময় হাসপাতালে অবস্থান রত স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ভূয়া ডাক্তার জানতে পেরে বেদম মারধর করে, পরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

    ইসলামীয়া মর্ডাণ হাসপাতাল থেকে আটক অষ্টম শ্রেণি পাশ ভূয়া ডাক্তার হলেন এম.এস জামান চৌধুরী (৩৫) ও তার সহকারী ইমরুল হোসেন পাটওয়ারী(৪৮)।

    হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় ডাক্তার সুত্রে জানাযায়, গতকাল সোমবার ১৬ অক্টোবর দুপুরে স্থানীয় ডাক্তার এ.কে আজাদ ও ডেন্টাল ডাক্তার মো. জামাল হোসেন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. তানভীরসহ এই ভুয়া ডাক্তারের কাছে তার বিভিন্ন ডিগ্রী বিষয়ে জানতে চাইলে তার কোনো সঠিক উত্তর চুপ করে থাকে। এক পর্যায় সে চশমার কথা বলে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর পূর্বেই তার সহকারী ইমরুল হোসেন পাটওয়ারীকে হাসপাতালের একটি কক্ষে আটক করা হয়। পরে তারা উভয স্বীকার করে ডাক্তার এমএস জামান চৌধুরী একজন ভূয়া ডাক্তার।

    webnewsdesign.com

    আটক অষ্টম শ্রেণি পাশ ভূয়া ডাক্তার এম.এস জামান চৌধুরী চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার বাজপ্তি গ্রামের আসাদুজ্জামান এর ছেলে এবং সহকারী ইমরুল হোসেন পাটওয়ারী রূপগঞ্জ উপজেলার মুগরাপুল গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন পাটওয়ারীর ছেলে। এ দুজন দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারনা চালিয়ে যাচ্ছে।


    অষ্টম শ্রেণি পাশ ভূয়া ডাক্তার এম.এস জামান চৌধুরী মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও কসমেটিকস্ রোগে বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারনা চালিয়ে যাচ্ছে। সে নিজেকে কখনও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, কখন সার্জেন, আবার কখনও মেডিকেল কলেজের সহকারী, সহযোগী অধ্যাপক ও ঢাকা মেডিনোভা মেডিকেল সার্ভিসেস এবং ঢাকা ল্যাবএইড ডায়াগনষ্টিক মিমিটেডের সিনিয়র কন্সালটেন্ট পরিচয় দিয়ে থাকে। গত ৬ মাস যাবৎ সে ইসলামীয়া মর্ডাণ হাসপাতালে রোগী দেখে আসছেন। এখানে তিনি নিজেকে মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও কসমেটিকস্ রোগে বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছিলেন। এমন কি প্রতি রোগীদের থেকে এ ভুয়া ডাক্তার ৫০০ টাকা করে ভিজিট নেন। গতকাল সোমবারও তার প্রায় ৩০/৩৫ জন রোগী আসে। পরে ভুয়া ডাক্তার পরিচয় জানতে পেরে হাসপাতাল থেকে সকল রোগী চলে যায়।

    মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও কসমেটিকস্ রোগে বিশেষজ্ঞ অষ্টম শ্রেণি পাশ ভূয়া ডাক্তার এম.এস জামান জানান, হাজীগঞ্জ ইসলামীয়া মর্ডাণ হাসপাতালসহ আরো দুটি হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। একটি হলো নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ ইউনাইডেট হাসপাতালে প্রতি রবিবার ও কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ নাথেরপেটুয়া মোহাম্মদ সহিদ উল্যাহ ভূঁইয়া মেডিকেল সেন্টারের নিয়মিত ডাক্তার সে।

    তিনি আরো জানান, ইসলামীয়া মর্ডাণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যত রোগীই ব্যবস্থাপত্র নেন তা থেকে মাত্র প্রতি সাপ্তাহে ৫০০০ বা ৬০০০ হাজার টাকা দিয়ে থাকে। বাকী সব হাসপাতালের।
    এ ছাড়াও অষ্টম শ্রেণি পাশ ভূয়া ডাক্তার এম.এস জামান সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারনা করার জন্য তার ভিজিটিং কার্ডে লিখেন, তিনি মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও কসমেটিকস্ রোগে বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, এমবিবিএস (ঢাকা মেডিকেল কলেজ), বিসিএস স্বাস্থ্য (অব.) এমডি (মেডিসিন), ডিডিভি (চর্ম ও যৌন) অষ্ট্রিয়া, সিএ- ডার্মাটোলজী (লন্ডন)সহ বিভিন্ন ডিগ্রী ব্যবহার করে আসছে। আর এ ভূয়া ডাক্তারের এমন ডিগ্রী ব্যবহার করে ইসলামীয়া মর্ডাণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার নামে মাইকিং ও বিভিন্ন প্রচার হেন্ডবিল, ভিজিটিং কার্ড ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের সাথে প্রতারনা
    চালিয়ে গেছে।
    ইসলামীয়া মর্ডাণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ভুয়া ডাক্তারের নামে প্রচারের কারনে প্রতি সাপ্তাহের সোমবার প্রায় ৩০/৩৫জন রোগী আসে তার কাছে চিকিৎসা নিতে।
    অষ্টম শ্রেণি পাশ ভূয়া ডাক্তার এম.এস জামান এর কাছে চিকিৎসা নেয়া হাজীগঞ্জ বাজারের একজন ব্যবসায়ী ফখর উদ্দিন জানান, আমি চিকিৎসা নেয়া অবস্থায়ই মনে হলো ইনি তেমন কোনো বড় ডাক্তার নন। তার কিছুক্ষন পর যখন জানতে পারলাম এই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হলো ভুয়া, তখনই আমরা আমাদের ভিজিটের টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরৎ চাই।


    এ বিষয়ে ইসলামীয়া মর্ডান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অষ্টম শ্রেণি পাশ ভূয়া ডাক্তার এম.এস জামান বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো কথা না বলে এড়িয়ে যান। এ ছাড়াও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ভুয়া ডাক্তারের নামে প্রচারের জন্য মাইকিং, ভিজিটিং কার্ড ও সাইনবোর্ড বানিয়ে প্রচার করে সাধারণ রোগীদের সাথে প্রতারনা করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সাধারণ রোগীরা জেলা সিভিল সার্জেন্টের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

    হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাং জাবেদুল ইসলাম জানান, ইসলামীয়া মর্ডাণ হাসপাতাল থেকে আটক অষ্টম শ্রেণি পাশ ভূয়া ডাক্তার এম.এস জামান চৌধুরী ও তার সহকারী ইমরুল হোসেন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে নিয়মিত মামলা দিয়ে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হবে। এ ছাড়াও হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা সিভিল সার্জেনের সহযোগীতা চাওয়া হবে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ