• শিরোনাম

    হাজীগঞ্জে যুবদলের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে আটক ৭

    | ২৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ

    হাজীগঞ্জে যুবদলের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে আটক ৭

    বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ৪ পুলিশসহ আহত ১৫
    হাজীগঞ্জে যুবদলের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ আটক ৭
    হুমায়ুন কবির,

    হাজীগঞ্জে উপজেলা যুবদলের আয়োজনে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পুলিশের সাথে যুবদল নেতা-কর্মীদের ৩ দফা সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তা ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতাসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদলের কমপক্ষে ৩০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে বিএনপি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে। সংঘর্ষ চলাকালে ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশকে ১৪ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৫৫ রাউন্ড রাবার বুলেট ব্যবহার করতে হয়েছে বলে চাঁদপুর কণ্ঠকে জানিয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) আফজাল হোসেন।

    হাজীগঞ্জে গতকাল শনিবার যুবদলের প্রতিষ্ঠবার্ষিকী উদ্যাপনের লক্ষ্যে বিএনপির দুইপক্ষ পৃথকভাবে কর্মসূচির আয়োজন করে। বিকেলে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিঃ মমিনুল হকের পক্ষ হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ দলীয় কার্যালয়ে এবং সাবেক সাংসদ এম.এ মতিনের পক্ষ হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারস্থ দলীয় অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচির আয়োজন করে।
    যুবদলের নেতা-কর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলা ৩টার দিকে ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হকের পক্ষের কর্মসূচি দলীয় কার্যালয়ে শুরু হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মীরা ব্যানারসহ খ- খ- মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এসে কার্যালয়ের সামনে সড়কের উপর জড়ো হয়ে থাকা নেতা-কর্মীদের পুলিশ রাস্তা ছেড়ে দিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে বলেন। এ সময় নেতা-কর্মীদের সড়ক থেকে সরাতে পুলিশ বাঁশি বাজালে সভার বিপরীত দিকের একটি ভবনের সামনে থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে কে বা কারা কয়েকটি ইটের টুকরো ছুঁড়ে মারে। এরপরেই পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে যুবদল নেতা-কর্মীদের রামগঞ্জ সড়ক ধরে রান্ধুনীমুড়া এলাকার দিকে নিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
    এদিকে পুলিশ যখন যুবদল নেতা-কর্মীদের রান্ধুনীমুড়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছিল তখনই হাজীগঞ্জ মধ্য বাজারে যুবদলের আরেকটি অংশ সড়কের উপর ব্যানারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মমিন ভাই মমিন ভাই বলে সস্নোগান দিতে থাকে। এ সময় সড়কের উভয় পাশে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে কিছু সময় অতিবাহিত হবার পরেই পুলিশ মধ্য বাজারে এসে যুবদল নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আহসান হাবীব অরুণ, সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন, হাজীগঞ্জ থানার ক’জন পুলিশ অফিসার ও পুলিশ সদস্যসহ বেশ ক’জন আহত হন। পুলিশ যুবদল নেতা কর্মীদের লাঠিচার্জ করতে করতে পূর্ব বাজার হয়ে আলীগঞ্জ পর্যন্ত নিয়ে যায়। এতে বাজারে আসা সাধারণ মানুষজন নিরাপত্তাহীনতায় ছোটাছুটি শুরু করে। এভাবে প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলার পর সন্ধ্যার পরে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে।

    এ দিকে একেবারে শেষ বিকেলে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে পূর্ব বাজারে গিয়ে মতিন গ্রুপের সভাস্থলে গিয়ে মঞ্চের কিছু চেয়ার ও গেইট ভাংচুর করে। অবশ্য এর পূর্বেই মতিন সমর্থিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা ও আলোচনা সভা শেষ হয়ে যায়।
    হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আহসান হাবিব অরুণ ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গেলে আমাদের উপর যুবদলের নেতা-কর্মীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। ইটের আঘাতে আমরা দুজনেই পায়ে আঘাত পাই। এদিকে উপজেলার বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা তাদের প্রায় ৩০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে মুঠোফোনে চাঁদপুর কণ্ঠকে জানিয়েছেন।
    এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জাবেদুল ইসলাম ৭ জনকে আটকের বিষয়টি চাঁদপুর কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) আফজাল হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আমাদের অফিসারসহ ৪ পুলিশ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। আর এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে। অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশকে ১৪ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৫৫ রাউন্ড শেল রাবার বুলেট ছুড়তে হয়েছে।

    webnewsdesign.com

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন