• শিরোনাম

    হাজীগঞ্জসহ জেলার শতাধিক শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নির্বিঘেœ চলছে জামায়াত-শিবিরের কর্মকান্ড

    | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৪:১২ অপরাহ্ণ

    হাজীগঞ্জসহ জেলার শতাধিক শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নির্বিঘেœ চলছে জামায়াত-শিবিরের কর্মকান্ড

    খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে
    বড়ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা
    হাজীগঞ্জসহ জেলার শতাধিক শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নির্বিঘেœ চলছে জামায়াত-শিবিরের কর্মকান্ড
    মুনছুর আহমেদ বিপ্লব॥
    খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় নিয়ে বেশ সোচ্চার হয়েছে। বাড়িয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতাও। রায়ের দিন লাখো কর্মীকে রাজপথে থাকা এবং রায় বিপক্ষে গেলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
    এ ছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী এবং মওদুদীর বিতর্কিত মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম বলতে গেলে নির্বিঘেœই চলছে চাঁদপুর জেলায়। যদিও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে প্রকাশ্যে মিটিং-মিছিল তারা করতে পারছে না। কিন্তু তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ নেই। আর এ কাজে তারা ব্যবহার করছে তাদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পাঠাগার, ইন্স্যুরেন্সসহ নানা ছদ্ম নামের প্রতিষ্ঠান। চাঁদপুর জেলায় জামায়াতের নিজস্ব পরিচালনায় এমন শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অবশ্য এগুলো সরাসরি দলের নামে পরিচালিত না হয়ে তাদের নানা ট্রাস্ট ও সোসাইটির নামে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া জামায়াত-শিবির পরিচালিত অসংখ্য মেস রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ও মেসই হচ্ছে চাঁদপুরে জামায়াত-শিবিরের ঘাঁটি।
    বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে চাঁদপুরে জামায়াত-শিবিরের এসব প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ের ব্যাপক তথ্য পাওয়া গেছে। চাঁদপুর জেলা শহরে রয়েছে জামায়াত-শিবিরের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেথ শহরের আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ, ট্রাক রোড এলাকাস্থ আল-আমিন মডেল মাদ্রাসা, হিফজুল কোরআন শিক্ষা ও গবেষণা ফাউন্ডেশন, তরপুরচ-ী এলাকাস্থ আলী দাখিল মাদ্রাসা, চেয়ারম্যানঘাট এলাকাস্থ আল-ইহসান ক্যাডেট মাদ্রাসা, ইসলামপুর গাছতলাস্থ ইশায়াতিল উলুম আলিম মাদ্রাসা, ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নস্থ লক্ষ্মীপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, বহরিয়া নূরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যারা চাকুরি করছেন তাদের সবাই জামায়াত মতাবলম্বী। এসব প্রতিষ্ঠানেই তাদের ঘরোয়া ও গোপনীয় মিটিংসহ নানা সাংগঠনিক কার্যক্রম চলে। এসব প্রতিষ্ঠানের সকল স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের জামায়াত-শিবিরের মিটিং-মিছিলসহ নানা কর্মকা-ে দেখা যায়। এছাড়া চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহলস্নায় শিবির পরিচালিত অসংখ্য মেস রয়েছে। যেগুলোতে শুধু শিবিরের নেতা-কর্মীরাই থাকে। শহরের বিষ্ণুদী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা সংলগ্ন বড় পরিসরে দু’টি মেস বাড়ি রয়েছে। যেখানে শুধু শিবিরের কর্মী ও ক্যাডাররাই থাকে। না জেনে যদি কোনো অভিভাবক তার ছেলেকে ওইসব মেসে থাকতে দেয় তাহলে তাকেও ছাত্রশিবির করতে হয় বাধ্যগতভাবে। এই মেসগুলোকে তারা এতটাই সংরক্ষিত ও গোপনীয়ভাবে রাখে যে, সেখানে বিনা অনুমতিতে অপরিচিত কাউকে এমনকি কোনো অভিভাবককেও ঢুকতে দেয়া হয় না। এই মাদ্রাসা রোডে আরো কিছু মেস রয়েছে যেখানে শিবিরের নেতা-কর্মীরা থাকে। এছাড়া চাঁদপুর কলেজের আশপাশ প্রফেসর পাড়া, নাজির পাড়া, মমিন পাড়া, মোলস্না বাড়ি রোড, ভূঁইয়া বাড়ি রোড, উকিল পাড়া, মিশন রোড, ছৈয়াল বাড়ি এলাকাস্থ আলী রাজা জামে মসজিদ সংলগ্ন মেস ও ট্রাক রোড এলাকায় অনেক মেস রয়েছে যেগুলো শিবির নিয়ন্ত্রণাধীন। এছাড়া গুয়াখোলা আল-আক্সা মসজিদ সংলগ্ন মেস ও কোড়ালিয়া এলাকায় কিছু মেস রয়েছে, যেগুলোতে শিবির কর্মীরা থাকে। কিছুদিন যাবৎ শহরে জামায়াত-শিবিরের ঝটিকা মিছিল ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার ঘটনায় এসব প্রতিষ্ঠান ও মেস থেকেই জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা অংশ নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
    জেলা শহরের বাইরে হাজীগঞ্জ উপজেলায় জামায়াত-শিবিরের শক্ত অবস্থান বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এই উপজেলার ৬নং বড়কুল ইউনিয়ন জামায়াত-শিবিরের ঘাঁটি বলে সকলের জানা। এখানে জামায়াতের মহিলা দলও বেশ সক্রিয়। এছাড়া হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত আল-কাউছার স্কুল ও আল-কাউছার ক্যাডেট মাদ্রাসা হচ্ছে তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। হাজীগঞ্জ বাজার ও বড় মসজিদের আশপাশে অনেক মেস রয়েছে, যেগুলোতে জামায়াত-শিবিরের শক্ত অবস্থান রয়েছে। এছাড়া হাজীগঞ্জ আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসার অনেক ছাত্র-শিক্ষক জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত। এই উপজেলায় হাজীগঞ্জের পরে বাকিলায় জামায়াত-শিবিরের শক্ত অবস্থান। এখানে আল-আমিন কিন্ডারগার্টেন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে জামায়াতের। এছাড়া এ উপজেলায় বলাখাল, রামপুর, প্যারাপুর, রামচন্দ্রপুর ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, ফিরোজপুর ফাজিল মাদ্রাসা, নেছারাবাদ ফাজিল মাদ্রাসা, সপ্তগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রান্ধুনীমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বলাখাল ডিগ্রী কলেজ, দেশগাঁও ডিগ্রী কলেজসহ বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে জামায়াত নিয়ন্ত্রনে।
    এ সকল প্রতিষ্ঠানের হাজীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির হাফেজ মাওলানা মীর হোসাইন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন পরাণ, সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবু জাফর ছিদ্দিকী, ফয়েজুল ইসলাম, আবুল কাশেম মজুমদার, কবির হোসেন, জামায়াত ও শিবির কর্মী মহসিন উদ্দিন, মোস্তফা মিয়া, রাশেদ, কাউছার হোসেন, আরিফ হোসেন, আবদুর রহমান, মো. জাকির হোসেন, মো. মোস্তফা কামাল, মনির হোসেন, মো. হেফজুর রহমান, শফিুকল ইসলাম, মাওলানা মো. মিজানুর রহমান, মো. নাজিম উদ্দিন, মাওলানা মো. শাহজাহান, মো. শফিকুর রহমান, মো. আজহারুল কবির, মোহাম্মদ আবদুর রব, মো. ছগির হোছাইনসহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকগন। এ ছাড়াও টোরাগড় গ্রামের আহছান ও স্বপন পিতা আব্দুল মান্নান (৮নং ওয়ার্ড), মকিমাবাদ সর্দার বাড়ী জামে মসজিদের ইমাম সলিমুল্লাহ সেলিম।
    ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরে রয়েছে আদর্শ একাডেমী নামে জামায়াতের একটি প্রতিষ্ঠান। ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা আব্দুল মোতালেবের মালিকানাধীন ‘একতা প্রপার্টিজ’ নামে জমি বেচা-কেনা প্রতিষ্ঠানটি জামায়াতের অর্থ যোগান দিয়ে থাকে। ফরিদগঞ্জের জয়া পস্নাজার তৃতীয় তলায় হচ্ছে এর অফিস। এখানে যারা কর্মরত তাদের সবাই জামায়াত-শিবিরের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকা, ১২নং চরদুঃখিয়া পশ্চিম ও ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নে জামায়াতের ভালো অবস্থান রয়েছে। এছাড়া এ উপজেলায় আরো কিছু শিৰা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোতে জামায়াত-শিবিরের আধিপত্য রয়েছে।
    কচুয়া উপজেলায়ও জামায়াতের বেশ কিছু শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কচুয়া বাজারের পাশে রয়েছে আল-আমিন ক্যাডেট মাদ্রাসা, পৌর এলাকার পলাশপুর মহলস্নায় রয়েছে আল-ফাতেহা দারুল ইসলাম মাদ্রাসা, ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ, কচুয়া প্রপার্টিজ নামে জমি বেচা-কেনার প্রতিষ্ঠান, কড়ইয়া এলাকায় দিশারী ক্যাডেট স্কুল এবং ৭নং কচুয়া দৰিণ ইউনিয়নে রয়েছে তুলপাই আয়েশা ইসলাম মহিলা মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠান জামায়াত নিয়ন্ত্রিত।
    শাহরাস্তিতে ঠাকুরবাজার-কালীবাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে শাহরাস্তি মডেল স্কুল নামে জামায়াতের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া সেখানে জামায়াতের অঙ্গ-সংগঠন চাষী কল্যাণ সমিতি ও ইউনিক বিজ্নেস নামে জামায়াতের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উনকিলা ও শাহরাসৎিদ বাজার এলাকায় জামায়াতের ভালো অবস্থান রয়েছে।
    মতলব দক্ষিণ উপজেলার পৌর এলাকায় আদর্শ স্কুল মতলব ও ধনারপাড় এলাকায় আদর্শ স্কুল নামে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে জামায়াতের।
    এমনিভাবে জেলার আটটি উপজেলা ও পৌর এলাকার আনাচে কানাচে জামায়াতের অনেক শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া আল-আমিন সোসাইটি, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, হিফজুল কোরআন শিক্ষা ও গবেষণা ফাউন্ডেশনসহ ইত্যাদি নানা ট্রাস্ট ও সংস্থা রয়েছে যেগুলো জামায়াত ও শিবির নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে যারা চাকুরি করেন তাদের সবাই জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত তো আছেন-ই এমনকি এসব প্রতিষ্ঠান থেকে জামায়াতের রাজনীতিতে অর্থের যোগানো দেয়া হয়ে থাকে। জামায়াত-শিবিরের মিটিং-মিছিলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকা-ে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা এমনকি শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করে থাকে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, এসব প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কিছু কিছু নেতা সহযোগিতা করেন এবং তাদের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিতও থাকেন। তা জেনে হোক আর না জেনেই হোক। এমনকি কিছু কিছু আওয়ামী লীগ নেতা জামায়াতের এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সাথেও সম্পৃক্ত আছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন