• শিরোনাম

    সালিশে কিশোরীকে জুতাপেটা করালেন কাউন্সিলর

    | ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

    সালিশে কিশোরীকে জুতাপেটা করালেন কাউন্সিলর

    সালিশে কিশোরীকে জুতাপেটা করালেন কাউন্সিলর

    জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
    সালিশে কিশোরীকে জুতাপেটা করালেন কাউন্সিলর

    মাদারীপুর শহরের মধ্য খাগদি এলাকায় সালিশি বৈঠকে এক কিশোরীকে জুতাপেটা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৌর কাউন্সিলর ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা সালিশি বৈঠকে ওই কিশোরীকে জুতাপেটা করার নির্দেশ দেন।

    স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে শহরের মধ্য খাগদি এলাকার এক কিশোরীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যায় একই এলাকার কুদ্দুস শরীফের ছেলে হাসান শরীফ। এরপর মেয়েটিকে তামান্না নামে এক নারীর কাছে বিক্রি করে দেয় হাসান। বিষয়টি ওই কিশোরীর পরিবার জানতে পেরে মাদারীপুর সদর উপজেলার খাকছড়ার করম বাজার থেকে গত শুক্রবার তাকে উদ্ধার করে। পরে কিশোরীর পরিবার স্থানীয়দের জানালে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে।

    সালিশ বৈঠকে মাদারীপুর পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আইয়ুব খান, ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজাম খান, সাবেক কাউন্সিলর সামসুল হক খান, স্থানীয় প্রভাবশালী সেলিম মীরা, খবির খান, আকলিমা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    webnewsdesign.com

    কাউন্সিলর আইয়ুব খান, আওয়ামী লীগ নেতা মুজাম খান ও সামসুল হক খানের সিদ্ধান্তে ওই কিশোরীকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০টি জুতাপেটার নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে হাসান শরীফকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১০টি জুতাপেটার নির্দেশ দেয়া হয়। নিদের্শ পেয়ে সালিশে উপস্থিত আকলিমা বেগম নামে এক নারী কিশোরীকে জুতাপেটা করেন।

    এ ঘটনার পর থেকে ওই কিশোরীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। লোকলজ্জার ভয়ে বাড়ির বাইরে বের হতে পারছে না।

    লাঞ্ছিত ওই কিশোরীর ভাই জসিম ফকির বলেন, আমার বোনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বিক্রি করে দেয় হাসান। এরপর আমরা বোনকে উদ্ধার করি। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়ার নামে আমার বোনকে জুতা পেটা করেছে।

    লাঞ্ছিত ওই কিশোরী বলে, আমার অনেক বড় ক্ষতি করেছে ওরা। এর বিচার তো পাইনি, উল্টো সালিশের নামে আমাকে জুতা পেটা করেছে। আমি এর বিচার চাই।

    লাঞ্ছিত কিশোরীর ফুফু আকিমন বেগম বলেন, আমার ভাই গরীব মানুষ। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালায়। আমরা গরীব বলে আমাদের সঙ্গে ওরা অবিচার করেছে। আমরা ওদের বিচার চাই।

    স্থানীয় আওয়ামীগ নেতা মুজাম খান বলেন, মেয়ের চরিত্র খারাপ। সালিশে দোষী প্রমাণ হওয়ায় আমার জুতা পেটা করেছি।

    এ ব্যাপারে স্থানীয় কাউন্সিল আইয়ুব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে স্থানীয় নারী আকলিমা বেগম বলেন, সালিশে সিদ্ধান্ত হয় জুতা পেটা করার। আমি নির্দেশ পালন করেছি। জোরে জোরে না পিটিয়ে আস্তে পিটিয়েছি।

    এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক গোলাম মাওলা আকন্দ বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সালিশযোগ্য নয়। এরপর সালিশে জুতা পেটার অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সরোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। যদি ওই কিশোরীর পরিবার থেকে অভিযোগ দেয়া হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানার পর পুলিশকে অবহিত করেছি। দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য বলা হয়েছে।

    তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা সালিশে মীমাংসাযোগ্য নয়। সালিশ বৈঠকে মীমাংসার নামে যারা কিশোরীকে জুতা পেটা করেছে তারা অন্যায় করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ