• শিরোনাম

    সংকট কাটিয়ে লক্ষ্যের দিকেই হেঁটেছে আ.লীগ

    | ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ

    সংকট কাটিয়ে লক্ষ্যের দিকেই হেঁটেছে আ.লীগ

    ফিরে দেখা রাজনীতি ২০১৭

    সংকট কাটিয়ে লক্ষ্যের দিকেই হেঁটেছে আ.লীগ

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    বিদায়ী বছর রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় একে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাফল্য ও অর্জন হিসেবে দেখা যেতে পারে।

    দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় ভূমিকা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করে লক্ষ্য অর্জনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে দলটি। বিদায়ী বছরে রাষ্ট্র পরিচালনায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনা থাকলেও দলটির সাফল্যের পাল্লা ভারী।

    এ বছর কোনো ধরনের বাড়তি রাজনৈতিক চাপ সরকারকে মোকাবিলা করতে না হলেও বেশ কিছু ঘটনা ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে বেগ পেতে হয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম

    webnewsdesign.com

    সহনীয় পর্যায়ে রাখতে না পারায় সমালোচনার শিকার হতে হয়। তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়ায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে দলটির নেতাকর্মীরা। এখন তাদের মনোযোগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলকে প্রস্তুত করতে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে বছরজুড়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেসকো কর্তৃক ‘বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়াকেও বিশাল অর্জন বলে মনে করেন দলটির নেতারা। আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব বেড়েছে বাংলাদেশের।

    দলটির নেতৃত্বের ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্কও ছিল স্বাভাবিক। বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ‘ছাড়’ দিয়ে জোটের মন রক্ষায় কৌশলী রাজনীতিতেও সফল দলটি। রাজপথের বিরোধী দল বিএনপিকে মোকাবিলা, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে নিয়ন্ত্রণ, দলের দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা সরকারের বড় সাফল্য। উন্নয়ন, অগ্রগতি ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

    এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ বিষয়েও সফলতা দেখায় দলটি। নির্যাতিতরা জলস্রোতের মতো সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে থাকেন। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসে কক্সবাজার এলাকায় অবস্থান নেয়।

    তাদের আশ্রয়, খাদ্যের ব্যবস্থা ও স্বদেশে ফেরত পাঠানো ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাথমিকভাবে আশ্রয় ও খাদ্যের ব্যবস্থা হলেও তাদের ফেরত পাঠানোর কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখনো জারি রেখেছে সরকার।

    যার ফলে সারাবিশ্বে এ নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ধিক্কার উচ্চারিত হয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কণ্ঠ সোচ্চার হয়। শেখ হাসিনার কূটনৈতিক সাফল্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রায় পুরো বিশ্ব বাংলাদেশের পক্ষে।

    পাশাপাশি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল-সংক্রান্ত সর্বোচ্চ আদালতের রায় নিয়ে বেশ রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ায়। সরকার এ নিয়ে সৃষ্ট সার্বিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। দলটির নেতৃত্বের সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কূটনীতি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুত্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে বেশ সাফল্য অর্জন করেন বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা।

    নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণকাজের আশানুরূপ অগ্রগতিরও দাবি করা হচ্ছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতীয় সংসদের বাইরের বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বের ২০ দলীয় জোটসহ দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলার পথে বাধা হতে পারেনি। চলতি বছর সরকারের বৃহৎ দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে দৃশ্যমান সফলতা আসে। বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে শুরু করা পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যানটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে। নির্মাণকাজ পুরোপুরি দৃশ্যমান হয় গত ১ অক্টোবর।

    তবে জাতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরে সবচেয়ে আলোচিত অবকাঠামো পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করাটা সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সেতুর অবকাঠামো দৃশ্যমান করা হলেও নির্ধারিত সময় ২০১৮ সালের নভেম্বরের মধ্যে মূল সেতুর কাজ শেষ হবে কি-না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া গত ১ ডিসেম্বর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মূল পর্বের কাজটি শুরু হয়। সরকারের চলমান জঙ্গি দমন অভিযান প্রায় বছরজুড়ে অব্যাহত থাকে। বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি দমনে সফল অভিযান চলে। এসব ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সরকার বেশ সফলভাবেই বছরটি পার করে।

    অন্যদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলকে প্রস্তুত করতে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করতে এ বছর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় আওয়ামী লীগ। এতে আওয়ামী লীগ সফল হয়েছে বলে দাবি দলের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের। গত এক বছরে দলটির প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা, জেলা কর্মিসভা, জেলা কমিটি অনুমোদন ও কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল অধিবেশন হয়।

    ২০১৬ সালে বেশ কিছু জেলায় আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছিল না। অনেক জেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তৃণমূল আওয়ামী লীগও বেশ এলোমেলো অবস্থায় ছিল। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বিভিন্ন জেলায় নিজ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনাও ঘটে। এসব বিষয় মাথায় রেখে চলতি বছর সংশ্লিষ্ট জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল অনেকটা নিরসন করেছে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত এ দল। তবু এখনো কিছু জায়গায় কোন্দল রয়ে গেছে। গত এক বছরে দেশব্যাপী শক্তিশালী সাংগঠনিক ঐক্য নিশ্চিত করার জন্য একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরির কার্যক্রম চলছে।

    সর্বশেষ গত ২৩ ডিসেম্বর সভাপতিমণ্ডলীর সভায় দলকে আরো চাঙা করতে ও আগামী নির্বাচনে দলকে প্রস্তুত করতে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। সভায় বিভাগীয় দায়িত্ব নিয়ে প্রতিটি জেলায় সাংগঠনিক সফর করবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা—এ বিষয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে আগামী ৬ জানুয়ারি। ওই দিন সন্ধ্যায় শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। নতুন বছরের শুরু থেকে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরে বের হবেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। অর্জন ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে বছরের শুরু থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দলটি।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন