• শিরোনাম

    শব্দ দূষণে পেরেশান : নিশ্চুপ প্রশাসন

    | ১০ নভেম্বর ২০১৭ | ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ

    শব্দ দূষণে পেরেশান : নিশ্চুপ প্রশাসন

    শব্দ দূষণে পেরেশান : নিশ্চুপ প্রশাসন

    ‘সুখবর, সুখবর, সুখবর। বরগুনারবাসীর জন্য সুখবর। ডাক্তার সাহেব প্রতি সোমবার ও শুক্রবার নিয়মিত রোগী দেখবেন।’ ‘মেলা মেলা মেলা। চিংড়ি মাছের মেলা….।’ ‘আগামীকাল বরগুনার মাংস বাজারে একটি বিরাট মহিষ জবাই করা হবে…।’

    এ ধরনের মাইকিং এখন বরগুনা শহরের নিত্য যন্ত্রণা। এছাড়াও রয়েছে ইটভাঙা মেশিন ও কাঠের ও স্টিলের আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রের বিকট শব্দ। রয়েছে যত্রতত্র দোকানের উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্সের শব্দ। গাড়ির হর্ন তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে কানের পর্দা ফাটার অবস্থা। নেই কোনো বিধি নিষেধ। নেই দেখভালের কোনো দফত

    বরগুনা সদর রোডের এক ব্যবসায়ী আল-আমীন বলেন, প্রতিদিনি ডজনখানেক গাড়ি দোকানের সামনে থেমে বিকট শব্দে মাইকে বিভিন্ন ঘোষণা দেয়। এর প্রতিবাদ করেও কোনো সমাধান পাচ্ছি না।

    webnewsdesign.com

    বরগুনার নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, বিষয়টি অনেক আগেই অত্যাচার পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রসাশনের সহযোগিতা না থাকায় প্রতিবাদ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

    বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মো. জসিম উদ্দীনের ভাষ্য, অতিরিক্ত শব্দদূষণ শিশুসহ সব বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত শব্দে মস্তিষ্কে বিরক্তির কারণ ঘটে। ফলে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি হয়, কর্মক্ষমতা কমে যায়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, বিশ্লেষণ ক্ষমতা কমে যায়। কাজকর্মে মন বসে না। মানুষ যখন ধীরে ধীরে বার্ধক্যে পৌঁছে যায় তখন শব্দ দূষণের মারাত্মক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

    অথচ ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। যাতে নির্দিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট ডেসিবল মাত্রায় মাইকে প্রচার করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়। নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে ইট বা পাথর ভাঙা মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। নির্দিষ্ট মাত্রার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি হলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে টেলিফোন, মৌখিক অথবা লিখিতভাবে জানানো যাবে।

    বিধিমালায় আরো বলা হয়েছে, শব্দের মাত্রা অতিক্রমকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নীরব এলাকা ব্যতীত অন্যান্য এলাকায় ব্যবহারের জন্য আগে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। সেক্ষেত্রে শব্দদূষণ মাত্রা অতিক্রমকারীকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মৌখিকভাবে অথবা লিখিত নির্দেশ দেবেন। এ নির্দেশ লঙ্ঘনকারীর যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি আটক করা যাবে।

    এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, শব্দদূষণ অবশ্যই একটি বড় ধরনের সমস্যা। আমরা এ বিষয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন