• শিরোনাম

    শনাক্ত ৫ শতাংশের নীচে আনতে পারলে ‘করোনা নিয়ন্ত্রণ’ সম্ভব

    নিজস্ব প্রতিনিধি | ১৭ আগস্ট ২০২০ | ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ

    শনাক্ত ৫ শতাংশের নীচে আনতে পারলে ‘করোনা নিয়ন্ত্রণ’ সম্ভব

     

    দেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের ১৬২তম দিনে শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। যা শুরু থেকে এখনও উর্ধ্বমুখী। করোনার শনাক্তের হার যদি ৫ শতাংশের নীচে নামানো যায় তবেই ‘করোনা নিয়ন্ত্রণ’ সম্ভব হবে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফর্মুলা অনুযায়ী কোন দেশে যদি পর পর তিন সপ্তাহ নতুন রোগী শনাক্তের হার নিম্নমুখী থাকে তাহলে ধরে নেয়া হয় ওই দেশটিতে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশের সংক্রমণের হার পাঁচ মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী।

    এমন অবস্থায় শনাক্তের সংখ্যার হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক তালিকায় বর্তমানে ১৬তম স্থানে উঠে এসেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখনো কোভিড-১৯ এ চিকিৎসাধীন আছেন ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৮৫০ জন।

    সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা.মোস্তাক হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘করোনা শনাক্তের শতকরা হার ৫ ভাগের নীচে না নামলে বলা যাবে না, করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে। এখনো করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২০ কিংবা মাঝে মাঝে ২৪ শতাংশ।’

    দেশে করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটি গত জুনের ১২ তারিখে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মোট ৪৫টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির ১৭ এবং দক্ষিণ সিটির ২৮টি এলাকা ।

    এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১১টি এলাকা রেড জোনের মধ্যে পড়েছিল। সিটি করপোরেশনের বাইরে তিন জেলার মধ্যে গাজীপুরের সবক’টি উপজেলাকে রেড জোনের আওতার মধ্যে আনা হয়েছিল।নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, সদর এবং পুরো সিটি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করাও হয়েছিল।

    ডা. মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে আমাদের দুর্বলতা রয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে গ্রাম অঞ্চলগুলোতে একটা কাঠামোর মধ্য দিয়ে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হলেও রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে কার্যত বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।’

    ‘সিটি করপোরেশনের উচিত শনাক্তদের আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইনের পাশাপাশি এলাকাগুলো স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষনীয় অনুষ্ঠান করা। এদিক দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সফল, তারা কোভিড-১৯ প্রতিরোধে নানান কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত করেছে। কিন্তু রাজধানী ও চট্টগ্রামে বিষয়গুলোর দেখা মেলেনি।’

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে: জনগণের সচেতনার অভাব, করোনার শুরুর দিকে দুই-একজন মানুষ মারা গেলেও রাস্তা খালি থাকত কিন্তু এখন ত্রিশ-চল্লিশ জন মারা গেলেও মানুষের ভয় নেই। তারা করোনার সঙ্গে বসবাস করা শিখে গেছে। তবে অধিকাংশরাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল ও জীবন যাপন করছে না। কিন্তু এই বিষয়গুলোতে নজর দিতে সব সময়ই আমরা বলে থাকি।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এলাকা পূর্ব রাজাবাজার ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ারী এলাকার পর আর কোন লক ডাউন দেখা যায় নি। যদিও সেখান থেকে ভালো একটি সাড়া পেয়েছিল সরকার।

    বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘এলাকা ভিত্তিক লকডাউন বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এক সঙ্গে পঞ্চাশের অধিক এলাকায় কর্মী, লোকবল, অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া অনেকটাই কঠিন। যার কারণে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাগুলো ধীর গতি হয়ে গেছে। বস্তুত ওয়ারীর পর আর নতুন করে কোনো এলাকা লকডাউন করা হয় নি।’

    আবারও রাজধানীতে এলাকা ভিত্তিক লকডাউন হবে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহপরিচালক এসেছেন, প্রয়োজনে তার সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে আমরা করোনার সঙ্গে বসবাসে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি, ভয়ও অনেক কমে গেছে, এলাকাভিত্তিক লকডাউন আবার হবেও কি না সেটা বলা যাচ্ছে না।’

    করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুতে যেসব দেশ আক্রান্ত হয়েছিল বিশেষ করে চীন ও ইটালিতে সংক্রমণ শুরু হওয়া থেকে সর্বোচ্চ শিখরে উঠে আবার নেমে যেতে সময় লেগেছিল তিন থেকে চার মাস। কিন্তু বাংলাদেশে সেটার প্রবণতা অনেকটাই ধীর গতি।

    আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা.মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘‘ঢাকাতে যারা শনাক্ত হচ্ছে তাদের সঠিকভাবে আইসোলেশন করা হচ্ছে কিনা, যাদের সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা তারা নিজেরাই হাসপাতালে যাচ্ছে এসবের কি কোন ফলোআপ হচ্ছে, হচ্ছে না। এভাবে পরিস্থিতি কিভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে?”।

    তিনি বলেন, রাজধানীর দুই সিটিতে মাত্র দুই এলাকায় লক ডাউন হলেও সেখানে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা ছিল, সেচ্ছাসেবীরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছে। পাশাপাশি লক ডাউন এলাকার মানুষরাও জ্বর হলে কিভাবে কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশন করবে সেটা শিখতে পেরেছে।

    কিভাবে কোয়ারেন্টাইন বা আইসোলেশন করা হবে সেটা যদি অনানুষ্ঠানিক ভাবেও শহরের এলাকাগুলো শেখানো হতো তাহলে জনস্বাস্থ্যের প্রশিক্ষিত কর্মীদল তৈরি হতো, যারা করোনা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারত, পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগকে তৎপর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মোস্তাক হোসেন।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি