• শিরোনাম

    রোগীদের ব্যয় বাড়ছে ডাক্তারদের কমিশনে!

    | ২৭ নভেম্বর ২০১৭ | ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

    রোগীদের ব্যয় বাড়ছে ডাক্তারদের কমিশনে!

    রোগীদের ব্যয় বাড়ছে ডাক্তারদের কমিশনে!
    বিশেষ প্রতিবেদক॥

    অনেকেই বলে থাকেন সৃষ্টিকর্তার পরে ডাক্তারদের বিশ্বাস করেন রোগীরা। কিন্তু কতিপয় ডাক্তার যখন এই বিশ্বাস ভঙ্গ করেন, তখন কেমন লাগে বলুন তো। হ্যাঁ, ডাক্তারদের কেউ কেউ এই আস্থাহীনতার কাজটিই করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।

    নীতি- নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে গাড়ি-বাড়ি কিংবা সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার নেশায় রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম থেকে কমিশন নিচ্ছেন অবলীলায়। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।

    webnewsdesign.com

    কমিশন গ্রহণের কারণে রোগীদের চিকিৎসাব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। তাতে সর্বস্বাস্ত হয়ে পড়ছেন তারা। খ্যাতিমান ডাক্তারদের তথ্য অনুযায়ী সিনিয়র ডাক্তারদের কেউ কেউ রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে কমিশন না নিলে চিকিৎসাব্যয় কমত অন্তত ৪০ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি কয়েকবছর আগে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের একটি সেমিনারে বলেছিলেন, কতিপয় ডাক্তার কমিশন গ্রহণে এতটাই বেপরোয়া যে, প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে তো কমিশন নিচ্ছেনই, এমনকি বেড ভাড়া থেকেও কমিশন আদায় করছেন।

    অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোনও কোনও ডাক্তার অপারেশনের সময় ব্যবহৃত চিকিৎসা-সরঞ্জাম বা ডিভাইস থেকেও কমিশন নিচ্ছেন। যেমন হাটের্র রিং, পেসমেকার, ভাল্ব, অক্সিজেনেটর, কৃত্রিম হিপ ও হাঁটু ও হাঁটুর স্ক্রু, হাত-পায়ের ভাঙা স্থান জোড়া লাগাতে প্লেট বা রড, মেরদন্ডের স্ত্রু ইত্যাদি। এগুলোর একেকটি থেকে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমিশন নিচ্ছেন কোম্পানির কাছ থেকে। কিছুদিন আগে সবথেকে বেশি কমিশন নেওয়া হতো জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে আসা রোগীদের রিং বসিয়ে। কিন্তু সরকার রিংয়ের দাম বেঁধে দেওয়ায় এখন কমিশন ব্যবসায় ভাটা পড়েছে।

    আগের মতো আর অবৈধ রোজগার নেই কমিশনলোভী হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের। আগে যে রিং বিক্রি হতো ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় এখন সরকার নির্ধারিত মূল্য ৬২ হাজার টাকা। এই এক লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার টাকা পকেটে যেত কমিশনভোগী ডাক্তারের। অথচ ডাক্তাররা সৎ হলে একই রিং আগেও ৬২ হাজার টাকায় পেত রোগীরা। এত টাকা অতিরিক্ত দিয়ে নিঃস্ব হতো না। এখনও কমিশন আছেÑ তবে পরিমাণ কমেছে।

    এদিকে রক্ত, এমআরআই, সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষায় কমিশন নেওয়া হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। জানা গেছে প্রাইভেট হাসপাতালে সরাসরি ব্রেন বা মেরুদন্ডের এমআরআই পরীক্ষা করাতে গেলে রোগীর কাছ থেকে রাখা হচ্ছে কমপক্ষে ৭ হাজার টাকা। এ টাকা থেকে ৩ হাজার যায় সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের পকেটে। আর ওই ডাক্তার যদি কমিশন না নেন এবং ছাড় লিখে দেন তাহলে একই এমআরআই মাত্র ৪ হাজার টাকা।

    একইভাবে কমিশনের লেনদেন হচ্ছে অন্যান্য পরীক্ষায়ও। এই কমিশনের টাকা একটি খামেপুরে প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এ ধরনের কমিশনলোভী ডাক্তারদের অপরাধ দেখার দায়িত্ব বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)। কয়েকদিন আগে বিএমডিসির রেজিস্ট্রার ডা. জাহেদুল হক বসুনিয়ার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, কমিশন নেওয়ার অভিযোগ তারা এখনও পাননি।

    পেলে অবশ্যই তদন্ত করে দেখবেন এবং প্রমাণ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন। এ ধরনের অপরাধে ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ নগদ জরিমানার বিধান রয়েছে।

     

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন