• শিরোনাম

    রাজশাহী জেলার বাঘায় ভুল চিকিৎসায় একজন রোগীর মৃত্যু

    | ০২ নভেম্বর ২০১৭ | ২:০৫ অপরাহ্ণ

    রাজশাহী জেলার বাঘায় ভুল চিকিৎসায় একজন রোগীর মৃত্যু

    রাজশাহী জেলার বাঘায় ভুল চিকিৎসায় একজন রোগীর মৃত্যু 
    ইঞ্জিনিয়ার আখতার রহমান, রাজশাহী প্রতিবেদক,
    রাজশাহীর বাঘায় অজ্ঞানের ডাক্তার বাদে একজন ডাক্তার দিয়ে গর্ভবতি কে সিজার করার কারণে আলো খাতুন নামে এক প্রসূতি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত ৮ টার সময় উপজেলার সেবা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় লোকজন সেবা ক্লিনিকের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করলে থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে গভীর রাতে ক্লিনিকের পক্ষ থেকে এক অলৌকিক সংকেতে বিষয়টি রফা-দফা করে নেয় এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন ২০০৯ এর ৫৩   ধারায় ক্লিনিকে নানা অব্যবস্থাপনা থাকার কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
    ক্লিনিক সুত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া কারিকরপাড়ার সাগরিকা নামে এক মায়ের কন্যা আলো খাতুন (২০) কে সিজার করানোর জন্য বাঘা উপজেলা সদরে অবস্থিত ‘সেবা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে’ নিয়ে আসেন। এরপর বিকেলে  ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মামুন (সার্জন) ওই ক্লিনিকে আলোকে সিজার করান। কিন্তু সেখানে কোন অজ্ঞানের ডাক্তার ও প্রশিক্ষিত কোন ডিপ্লোমা নার্স  ছিল না।  সিজারের পর আলো কন্যা সন্তান প্রসব করে।
    অভিযোগ উঠেছে, ওই অপারেশন করার জন্য একজন অ্যানেস্থিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আবদুল্লাহ আল মামুন দুইজন ডাক্তারের কাজ তিনি নিজে একাই  সম্পন্ন করেন। আর এ কাজে বিঘ্ন ঘটায় অপারেশনের দুই ঘন্টা পর আলো খাতুন মারা যান। আরও অভিযোগ উঠেছে  অত্র উপজেলার প্রায় ক্লিনিকগুলোতে একজন ডাক্তার দিয়েই সকল প্রকার অপরাশেন করা হয়।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা: আবদুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে বলেন, আমি মাঝে মধ্যে বাঘার ক্লিনিকগুলোয় অপারেশন করতে যায়। সেখানে অ্যানেস্থিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার হিসেবে কাজ করেন আক্তার জাহান। তিনি ব্যক্তিগত কাজে ওইদিন উপস্থিত হতে না পারায় জরুরী বসত: আমি নিজে সেই দায়িত্ব পালন করেছি। তবে রোগী খারাপের দিকে যাওয়ার পর সেখানে কোন ডাক্তার না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
    আলোর মা সাগরিকা সাংবাদিকদের জানান, ডাক্তার চলে যাওয়ার পর তার মেয়ে যন্ত্রণায় ছটফট শুরু করে এবং রাত সাড়ে ৭ টার সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তখন পর্যন্ত ক্লিনিকে কোন ডাক্তার-নার্স ছিল না। এরপর আমি কান্নাকাটি শুরু করলে ক্লিনিকের লোকজন একটা মাইক্রোবাস ডেকে তড়িঘড়ি করে আমার মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠিয়ে দেয়।
    এসময় আমার কান্না দেখে স্থানীয় লোকজন মাইক্রোবাসটিকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিতে বলে। সবার কথায় আলোকে সেখানে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ জহুরুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করে। যার সত্যতা স্বীকার করেছেন ডাঃ জহুরুল ইসলাম।
    এ ঘটনার পর রাত ১২টায় অনেক দেন দরবারের এক পর্যায় লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বার এবং রোগীর আত্মীয় স্বজনরা ক্লিনিক পক্ষের সাথে বিষয়টি এক অলৌকিক সংকেতের মাধ্যমে রফাদফা করে নেয়।
    অভিযোগ উঠেছে, বাঘায় যে কয়টা ক্লিনিক রয়েছে তার মধ্যে সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মান সবচেয়ে খারাপ। এসব ক্লিনিক থেকে রাজশাহী সিভিল সার্জন মাসিক মাসোয়ারা পান বলেও তারা অভিযোগ করেন। সেবা ক্লিনিক কর্তপক্ষ দাবী করেন তার ব্লিনিকে হাল নাগাদ নবায়ন আছে। এব্যাপারে সাধারন মানুষের ধারনা টাকার বিনিময়ে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ টাকার বিনিময়ে লাইসেন্স নবায়ন দেন। এব্যাপারে এলাকাবাসী দাবী বিষয়টা সর্বেোচ্চ তদন্তে ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টা দেখভালের ।
    এদিকে খবর পেয়ে ওই রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা ঘটনাস্থলে যান এবং ক্লিনিকের অস্বাভাবিক অবস্থা দেখে ভ্র্যাম্যমাণ আদালতে জরিমাণা করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু (চারজন) মালিকপক্ষের একজনও সেখানে উপস্থিত না থাকায় তিনি পরদিন বৃহস্পতিবার পুনরায় সেখানে যান  এবং নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন বাঘা থানা ভারপ্রাপ্ত (ওসি) রেজাউল করিমসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
    নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, ওই ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক কোন ডাক্তার নেই। নেই ট্রেনিং প্রাপ্ত কোন দক্ষ নার্স। অপারেশন থিয়েটারের অবস্থা একেবারে নাজুক। নেই কোন প্রি অপারেটিভ ও পোষ্ট অপারেটিভ রুম।  সব মিলে নানা অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত। এসব বিষয়গুলো লক্ষ্য করার পর ক্লিনিক এর মালিক বাদশা এবং জিল্লুর রহমান অপরাধ স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে উক্ত সমস্যা গুলো সমাধানের জন্য পাঁচ দিন সময় বেধে দেয়া হয়।
    নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, এই সকল সমস্যাগুলো তদারকি করার দায়িত্ব মুলত জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার। যদি তিনি মাঝে মধ্যে এসে উপজেলা পর্যায়ের এই ক্লিনিকগুলো তদারকি করতেন তাহলে আলো খাতুন (২০) কে অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করা লাগতো না। যেখানে
    বর্তমান স্বাস্থ্যখাত কে আধুনিকায়ন করে চিকিৎসা সেবা জনগনের হাতের নাগালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা অব্যহত ঠিক এমনি সময় বাঘা উপজেলার ক্লিনিক গুলো অব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স ব্যতিরেখেই অপারেশন কাজ চালাচ্ছে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় আশু পদক্ষেপ এলাকাবামী আশা করেন।  (ইঞ্জিনিয়ার আখতার রহমান)।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ