• শিরোনাম

    রাজধানীর ৯৬ শতাংশ বাসে ভাড়া নৈরাজ্য

    | ০৬ নভেম্বর ২০১৭ | ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ

    রাজধানীর ৯৬ শতাংশ বাসে ভাড়া নৈরাজ্য

    রাজধানীর ৯৬ শতাংশ বাসে ভাড়া নৈরাজ্য

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    রাজধানীর ৯৬ শতাংশ বাস-মিনিবাসে সিটিং সার্ভিসের নামে যাত্রীরা নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছেন। এসব গণপরিবহনে এক ধরনের প্রতারণার মাধ্যমে যাত্রীদের কাছ থেকে কখনো দ্বিগুণ, কখনো তিন গুণ, কখনো পাঁচ গুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সেখানে সরকার নির্ধারিত ভাড়া বা সর্বনিম্ন ভাড়া কিছুই মানা হয় না। নামমাত্র কিছু বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয় না। স্বল্প দূরত্বেও আদায় করা হচ্ছে বাস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত দূরত্বের ভাড়া। এ ছাড়া একই দূরত্বে একেক বাসে একেক হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

    গতকাল রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে যাত্রী দুর্ভোগের এই চিত্র। ‘সিটিং সার্ভিসের নামে নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে করণীয়’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

    আলোচনায় অংশ নেন গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ, বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্য বন্ধে সরকার গঠিত কমিটির সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত প্রমুখ।

    webnewsdesign.com

    বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান জানান, বিআরটিএর আইনে সিটিং সার্ভিস বলতে কিছুই নেই। মালিকরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এসব বিষয় আবিষ্কার করেছে। ভাড়া নির্ধারণে যাত্রীস্বার্থ প্রাধান্য দিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

    গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের জিডিপির ৩৭ শতাংশ ঢাকা থেকে উৎপাদিত হয় অথচ ঢাকা যানবাহনের গতি দিন দিন কমছে-এ কারণে জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তাই গণপরিবহনকে প্রাধান্য দিতে হবে। সিটিং সার্ভিস ও লোকাল সার্ভিস উভয়ের নৈরাজ্য ও হয়রানি বন্ধ না হলে ব্যক্তিগত গাড়ি বাড়তে থাকবে।

    সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্য বন্ধে সরকার গঠিত কমিটির সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, ‘আমরা জানি মালিক-শ্রমিক মানে তেল আর পানি, তারা কখনো এক হওয়ার নয়। কিন্তু পরিবহন সেক্টরে মালিক-শ্রমিক নেতারা তাদের কায়েমি স্বার্থের জন্য দুধ আর পানি হয়ে যায়। এতে যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য বাড়ে। যে প্রক্রিয়ায় বাস ভাড়া এত বেশি বাড়ানো হয়েছে এর জন্য আমাদের মালিক-শ্রমিক-আমলা-মন্ত্রী সবাই দায়ী।’

    যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, ঢাকা মহানগরীর যাত্রীরা বাস-মিনিবাসে সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে। আবার সিটিং সার্ভিস গাড়ির গায়ে লিখে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ, তিন গুণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাঁচ গুণ পর্যন্ত। বাড়তি ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি বাদুরঝোলা করে যাত্রীও বহন করা হচ্ছে।

    মোজাম্মেল হক জানান, একদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, অন্যদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, তথা এসব সিটিং গাড়িতে দাঁড়িয়ে যাত্রী বহনের কারণে যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে প্রায়েই হাতাহাতি-মারামারি ঘটনাও ঘটছে। কিছুদিন যাত্রীরা প্রতিবাদ করলেও প্রশাসন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিআরটিএ বা পুলিশ কারো কোনো সহযোগিতা না পেয়ে একসময় এই নৈরাজ্যের কাছে যাত্রীরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

    তিনি আরো জানান, সর্বনিম্ন ভাড়া তিন কিলোমিটার পর্যন্ত বড় বাসে সাত টাকা, মিনিবাসে পাঁচ টাকা হলেও নগরীতে চলাচলরত ৯৬ শতাংশ বাস-মিনিবাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যে জড়িত। তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়া বা সর্বনিম্ন ভাড়া কিছুই মানে না। নামমাত্র কিছু বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয় না।

    গোলটেবিল আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম তালুকদার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ