• শিরোনাম

    রাখাইন আন্তর্জাতিক সস্ত্রাসবাদের কেন্দ্র হলে বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়বে : এ এন এম মনিরুজ্জামান

    | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৬:৪৭ অপরাহ্ণ

    রাখাইন আন্তর্জাতিক সস্ত্রাসবাদের কেন্দ্র হলে বাংলাদেশের ঝুঁকি বাড়বে : এ এন এম মনিরুজ্জামান

    অনলাইন ডেস্ক ॥ নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ’ (বিআইপিএসএস) এর প্রধান (অব.) প্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ এন এম মনিরুজ্জামান বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের সশস্ত্র সংগঠন আরসা’র পক্ষে বিদেশী বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমর্থন এসছে। আল-কায়দা, আইএসসহ সুবেরিয়া, চেসনিয়ার বিভিন্ন গোষ্ঠী থেকে তাদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার আচেত থেকে রোহিঙ্গাদের পক্ষে ১২শ’ সদস্যের একটি বেটালিয়ান গঠনের প্রচেষ্টাও করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষিত করার জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে এবং তাদের পক্ষে যু্দ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ফলে রাখাইন আন্তর্জাতিক সস্ত্রাসবাদের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। যা আমাদের দেশের জন্য বড় ধরণের ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে।

    রাখাইনে সেনাবহিনীর নির্যাতন ও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থানে ঝুঁকির বিভিন্ন দিক আলোচনায় বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

    webnewsdesign.com

    বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্বন্ধে তিনি আরো বলেন, যেসব রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তাদের মানবিক নিরাপত্তা, খাদ্য-বস্ত্র, বাসস্থানের অভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। তারা পুষ্টিজনিত কারণে পুষ্টিহীনতায় ভূগতে পারে। যদি তাদের পরিস্কার পানি না পায় তাহলে তাদের পানিজনিত রোগ যেমন- ডাইরিয়া, কলেরা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া পাহাড়-গাছ কেটে রোহিঙ্গাদের বাসস্থান তৈরি করার ফলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। ফলে পরিবেশে এর প্রভাব পড়বেই। রাখাইন থেকে যারা বাংলাদেশে এসেছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী এবং শিশু। ফলে আর্ন্তজাতিক মানব পাচারকারীরা তাদের পাচার করারা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র কিভাবে তৈরি হতে পারে, সে প্রসঙ্গে এ এন এম মনিরুজ্জামান বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো যদি সুযোগ পায় তবে বর্তমানে যেসব আইএস সদস্যরা সিরিয়া বা ইরাক থেকে বিতারিত হচ্ছে তারাে রাখাইনে নতুন করে যুদ্ধকেন্দ্র স্থাপন করার প্রচেষ্টা চালাবে। অন্যদিকে যারা অন্যান্য দেশের সমর্থকরা আছেন, তারাও যোগ দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে দেখা যাবে যে আমাদের সীমান্তের খুব কাছাকাছি রাখাইনে আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসের কেন্দ্র তৈরি হতে পারে।

    রাখাইনের ঘটনা যদি জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেয় তবে এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীদের কী করণীয় আছে বলে আপনি মনে করেন?

    জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সীমান্ত ‍সুরক্ষিত করতে হবে। তবে মিয়ানমারের সাথে আমাদের সীমান্ত সুরক্ষা প্রাচীর পুরোপুরি গড়ে তোলা দূরহ হবে। কারণ মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত অধিকাংশটুকুই দুর্গম পরিবেশে। রাখাইনে যদি এই ধরণের কোন আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু হয় তাহলে বাংলাদেশের মুক্তির ওপরে বড় ধরণের চাপ আসবে। তাই যেকোন মূল্যে সীমান্ত সুরক্ষিত করতে হবে। এমনও হতে পারে, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা রাখাইনে অবস্থা করে বাংলাদেশের সন্ত্রসী সংগঠগুলোর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে।

    এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে কী কী ঝুঁকি আসতে পারে?

    এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা যদি হঠাৎ করে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে তাহলে আমাদের যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলো আছে তারা যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে আশঙ্কা করছি, বিপুল পরিমাণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডমূলক অঙ্গসংগঠনগুলো বা আর্ন্তজাতিক পাচারকারী দল তাদেরকে ব্যবহার করে অবৈধ চোরাচালান করাবে। এছাড়া মাদক এবং যেসব অস্ত্র বাংলাদেশের ভেতরে থেকে যাবে সেসব দিয়ে বাংলাদেশের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত সংগঠন এবং অন্যান্য যে সংগঠনগুলো আছে তারা নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
    যুবলীগে স্থান পাবে ত্যাগী নেতারা – কেন্দ্রীয় সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল
    যুবলীগে স্থান পাবে ত্যাগী নেতারা – কেন্দ্রীয় সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল