• শিরোনাম

    মেঘনা পাড়ি দিয়ে জেএসসি পরীক্ষা

    | ০৯ নভেম্বর ২০১৭ | ১:৫১ অপরাহ্ণ

    মেঘনা পাড়ি দিয়ে জেএসসি পরীক্ষা

    মেঘনা পাড়ি দিয়ে জেএসসি পরীক্ষা

    চাঁদপুর প্রতিনিধি

    চরাঞ্চল থেকে এ রকম ট্রলারে করে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয় পরীক্ষার্থীদের। কদিন আগেই পরীক্ষার্থীদের নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটায় এখন নৌকায় নদী পাড়ি দিতে আতঙ্কে থাকে পরীক্ষার্থীরা। ২ নভেম্বর তোলা ছবি l প্রথম আলোজীবনের ঝুঁকি নিয়ে চাঁদপুর জেলার হাইমচরের বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০৯ জন পরীক্ষার্থী বিশাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তা-ও নিজ খরচে। এর মধ্যে নীলকমল ইউনিয়নের ইশানবালা চরের এম জে এস বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১২০, মাঝেরচরের আদর্শ জুনিয়র উচ্চবিদ্যালয়ের ১৯, ৩৮ নম্বর চর কোড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ ও ৩৯ নম্বর নীলকমল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

    উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর হোসেন জানান, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চরাঞ্চলে অবস্থিত। সেখানে কোনো কেন্দ্র না থাকায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের নদী পার হয়ে হাইমচর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

    ইশানবালা চরের এমজেএস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিএম মুন্নাফ বলেন, চরাঞ্চলে দিন দিন মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে পরীক্ষাকেন্দ্র করার জন্য বছর তিনেক আগে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

    webnewsdesign.com

    চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রতিদিন সকাল ছয়টায় তারা ঘর থেকে বের হয়ে সাড়ে সাতটায় ট্রলারে ওঠে। তারপর বিশাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে নয়টায় হাইমচর তেলির মোড় নৌঘাটে পৌঁছায়। এরপর কয়েক কিলোমিটার হেঁটে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়।

    কয়েকজন অভিভাবক বলেন, স্থানীয়ভাবে কেন্দ্র না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, অনেক টাকা-পয়সা ব্যয় করে তাঁদের সন্তানদের পরীক্ষা দিতে যেতে হয়। এত চাপের মধ্য দিয়ে যখন তাঁদের সন্তানেরা ক্লান্ত হয়ে কেন্দ্রে পৌঁছায়, তখন এসব শিশুর পক্ষে আর ভালো পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয় না। পরীক্ষা শেষ করে নদী পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরতেও বিকেল হয়ে যায়।

    অভিভাবকেরা আরও বলেন, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সন্তানদের মাথাপিছু শুধু নৌকাভাড়া বাবদই ৩৭০ টাকা বাড়তি ব্যয় হচ্ছে তাঁদের। বিদ্যালয় থেকেই পরীক্ষার কয়েক দিনের জন্য ট্রলার ভাড়া বাবদ এ টাকা নেওয়া হয়েছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, চরাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর অভিভাবক দিনমজুর, কৃষক বা জেলে। সরকারিভাবে শিক্ষার্থীদের নদী পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও এই অভিভাবকদের টাকার চিন্তা কিছুটা কমত।

    এ ব্যাপারে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম বলেন, চরাঞ্চলের এত শিক্ষার্থীর এ রকম ঝুঁকি নিয়ে হাইমচরে এসে পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে চরাঞ্চলে একটি কেন্দ্র দেওয়া যায় কি না, সে চেষ্টা করা হচ্ছে। ইউএনও আরও বলেন, এ বছর পিইসি পরীক্ষার বিষয়েও এই চরাঞ্চলে একটি কেন্দ্র করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি