• শিরোনাম

    মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ

    | ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

    মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ

    সর্বশক্তি নিয়ে প্রস্তুত ২ দল

    মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ

    বিশেষ প্রতিনিধি

    ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়। সর্বশক্তি নিয়ে প্রস্তুত বিএনপি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করার নির্দেশ রয়েছে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি। কিন্তু সাজা হলে বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি—এমন আশঙ্কাও আছে দলের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। কোনোভাবেই বিএনপিকে নাশকতা করতে দিতে নারাজ ক্ষমতাসীনরা। বিশৃঙ্খলাকারীদের ধরে পুলিশে দিতে মাঠে থাকবেন দলের নেতাকর্মীরা। এনিয়ে টান টান পরিস্থিতি দেশে। কী হয়—সেদিকে তাকিয়ে সবাই।

    আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় কেন্দ্র করে আগে বা পরে আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি দেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই দিন থেকে শুরু করে পরের তিন দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় সতর্ক নেতাকর্মীরা কোনো হামলা হলে হামলাকারীদের ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেবে।

    মামলার রায় কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ঠেকাতে কেন্দ্র থেকে শুরু করে দলের তৃণমূলকে এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানিয়েছে। ইতোমধ্যেই সাংগঠনিক জেলা-উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাছে এসব নির্দেশনা উল্লেখ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    webnewsdesign.com

    আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে কিছুতেই বিএনপিকে কোনো ধরনের অরাজকতা করতে দেওয়া হবে না। ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি যে বিপুল মানুষ নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, সেটা সফল হতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি আছে। আওয়ামী লীগও রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করতে চায়। বিশেষ করে ঢাকাসহ বড় মহানগরগুলোতে এ লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দল।

    দলের নীতিনির্ধারণী নেতারা জানান, তাদের কাছে তথ্য আছে, ওই দিন বিএনপি মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এরই মধ্যে তৃণমূল থেকে অনেক নেতা ঢাকায় অবস্থান নিয়েছেন। তারা বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন। সে জন্য আগেভাগেই মাঠে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। গত রোববার রাজধানীতে বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে মাঠে নেমেছে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। গতকাল সোমবার থেকে থানা ও ওয়ার্ডপর্যায়ে বর্ধিত সভা শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে চলছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বিক্ষোভ সমাবেশ। ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে এ ধরনের কর্মসূচি পালিত হবে।

    এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার বিকেলে ধানমন্ডি কার্যালয়ে বসবেন আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্যরা। একই সঙ্গে বসবেন ১৪ দলীয় জোট নেতারা। এ ছাড়া আজ বর্ধিত সভা করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। ধারাবাহিক এসব বৈঠকের মধ্য দিয়েই মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে শাসকদলের নেতারা।

    এ ব্যাপারে সেতুমন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ৮ ফেব্রুয়ারি ঘিরে কোনো কর্মসূচি দিতে বলেননি। আমরা কোনো কর্মসূচি দেব না। তবে মামলার রায় কেন্দ্র করে অশান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক পাহারায় থাকব। তিনি আরো বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায়। এটাকে কেন্দ্র করে নানাভাবে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আমরা কারো সঙ্গে পাল্টাপাল্টিতে যাব না। আমরা ক্ষমতাসীন দল। দেশ চালাচ্ছি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আমরা মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করব। তবে মামলার রায় কেন্দ্র করে যাতে কেউ পরিস্থিতি অশান্ত ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য যেকোনো নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আমরা সতর্ক পাহারায় থাকব।

    ক্ষমতাসীন দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি তো দূরের কথা, ওই দিন বিএনপিকে মাঠেই নামতে দেওয়া হবে না—এমন প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশে কোথাও যেন বিএনপি নৈরাজ্য সৃষ্টি করে জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য এরই মধ্যে জেলা-উপজেলাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে গত রোববার উত্তরের বর্ধিত সভায় অংশ নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীরা। ওই সভায় খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। ওই সভায় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি কোনো ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি হলে আওয়ামী লীগের কর্মী এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। যদি কোনো এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা বিশৃঙ্খলা করতে চায়, আপনারা তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে। তিনি বলেন, ‘রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে না। আর যদি হয় জনগণ তা প্রতিহত করবে, আর পুলিশ তো আছেই।’

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় কী হবে জানি না। কিন্তু ওইদিন যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে না পারে, সে জন্য প্রতিটি এলাকায়, পাড়া-মহল্লায়, গ্রামে-গঞ্জে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। চক্রান্তকারীদের ঘরে ঢুকিয়ে দিতে হবে। কোনো ধরনের নাশকতা করতে দেওয়া যাবে না।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন দিন রাজপথে থাকার প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে দলের অন্যতম মুখপাত্র হাছান মাহমুদ জানান, আগামী ৭, ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবেন। রায়ের আগে বা পরে বিএনপির হামলাকারীদের ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, আমরা প্রস্তুত। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও সতর্ক অবস্থান নেব। কেউ নাশকতা, নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্যই এই সতর্ক অবস্থান।

    দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে পুলিশকেও সতর্ক রাখা হয়েছে। দেশে অস্থিতিশীলতাসহ ছয় ধরনের পরিস্থিতি হতে পারে এবং হলে কী করতে হবে—ইতোমধ্যেই এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী একটি সূত্র জানায়, ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি যে বিপুল মানুষের জমায়েত করতে চায়, তা ঠেকাতে দলটি বদ্ধপরিকর। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদেরও প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারির রায় ঘিরে কেউ যাতে রাজপথে কোনো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর থাকবে পুলিশ। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে এই ধরপাকড় শুরু হয়। ছয় দিনে বিএনপির ৬৪০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেছে পুলিশ। এর বাইরে অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনো ধরনের নাশকতা-নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি হতে দেবে না। কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন