• শিরোনাম

    ভূমিদস্যুরা গিলে খাচ্ছে করতোয়া ও ভৈরব নদী

    | ২৩ মার্চ ২০১৮ | ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ

    ভূমিদস্যুরা গিলে খাচ্ছে করতোয়া ও ভৈরব নদী

    ভূমিদস্যুরা গিলে খাচ্ছে করতোয়া ও ভৈরব নদ

    চুয়াডাঙ্গা  প্রতিবেদক
    ভূমিদস্যুরা গিলে খাচ্ছে করতোয়া ও ভৈরব

    চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর নতুন করে আবারও দখল হচ্ছে করতোয়া নদী ও ভৈরব নদ। প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা উপজেলার এ দুই নদ-নদীর দু’পাশ থেকে মাটি কেটে ভরাট করে সেখানে চাষাবাদ শুরু করেছে। আবার কেউ কেউ নদ-নদীর মাঝখানে বাঁধ দিয়ে পুকুর করে তাতে মাছ চাষ করছেন। জরুরি ভিত্তিতে এসব পুকুর অপসারণ ও জমি দখলমুক্ত না করা হলে অচিরেই এ নদ-নদীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

    জীবননগর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উথলী, আন্দুলবাড়িয়া ও বাঁকা ইউনিয়ন এবং জীবননগর পৌরসভায় ১ নম্বর সরকারি খাস খতিয়ানে ভৈরব নদের প্রায় ৮৩ হেক্টর এবং করতোয়া নদীর প্রায় ৩ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ভৈরব নদে জীবননগর পৌরসভায় ২১ হেক্টর, উথলী ইউনিয়নে ৩২ হেক্টর, আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ১৯ হেক্টর ও বাঁকা ইউনিয়নে ১১ হেক্টর জমি রয়েছে এবং করতোয়া নদীতে সীমান্ত ইউনিয়নে ৩ হেক্টর জমি রয়েছে।

    সরজমিনে আন্দুলবাড়িয়া, সীমান্ত এবং উথলী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আন্দুলবাড়িয়া বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে ভৈরব নদের মাঝখানে বড় একটি পুকুর করে তাতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। নদের জমি দখল করে পুকুরটি খনন করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দা আরফিন আলী। নদের মাঝখানে পুকুরের ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু আরফিন আলী একা না ওই এলাকার প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা একাধিক যায়গায় পুকুর খনন করে অবৈধভাবে নদের জমি দখল করেছেন।

    এছাড়া ভূমিদস্যুরা এ দুই নদ-নদীর অধিকাংশ জমি দখলের পর এর দু’পাশ থেকে মাটি কেটে নদী ভরাট করে তাতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। এসব কারণে নদ-নদীর পানি প্রবাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।

    আন্দুলবাড়িয়া এলাকার কৃষক জসিম উদ্দীন বলেন, আগে ভৈরব নদের পানি দিয়ে ধানসহ অন্যান্য ফসলখেতে সেচ দিতাম। কিন্তু ভূমিদস্যুরা নদের জমি দখল করে পুকুর করায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে নদ একেবার শুকিয়ে গেছে। ফলে ডিজেল চালিত স্যালো ইঞ্জিন দিয়ে সেচ দেয়ায় উৎপাদন খরচ বহুগুনে বেড়ে গেছে।

    তিনি আরো জানান, ভূমিদস্যুরা এর আগে একবার এভাবে নদের জমি দখল করে নিয়েছিল। তখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা দখলমুক্ত হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসনের তেমন কোনো নজরদারি না থাকায় ভূমিদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

    অবৈধভাবে নদের জমি দখল করে পুকুর খনন করার ব্যাপারে আরফিন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আমার নিজস্ব জমিতেই পুকুর কেটেছি।

    সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন ময়েন বলেন, প্রশাসনের নজরদারি না থাকার কারণে নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। ভূমিদস্যুরা নদীর পাড়ের মাটি কেটে সমান করে চাষাবাদ ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। এভাবে চলতে থাকলে ভৈরব ও করতোয়া নদী দুইটি অচিরেই হারিয়ে যাবে।

    জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, যে সমস্ত ব্যক্তি নদ-নদীর দু’পাশ থেকে মাটি কেটে ভরাট করে চাষাবাদ করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অচিরেই নদ-নদী খনন কাজ শুরু করা হবে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর