• শিরোনাম

    ভাঙা রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

    | ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ | ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

    ভাঙা রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

    হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরীপুর আঞ্চলিক সড়ক
    ভাঙা রাস্তায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল
    মুনছুর আহমেদ বিপ্লব॥
    অনেক স্থানে পিচ উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। অনেক জায়গার বাঁধানো সড়ক ভেঙে পড়ে গেছে পাশের খাল বা পুকুরে। এ সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় ঝাঁকি ও ধুলাবালিতে চালক আর যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

    এ অবস্থা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরীপুর আঞ্চলিক সড়কের।
    চার-পাঁচ বছর ধরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজার থেকে কুমিল্লার গৌরীপুর পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারের কাজ না করায়দুই বছর ধরে এ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। সম্প্রতি সরজমিনে দেখা গেছে, হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজার বিশ্বরোড থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত।

    পূর্ব কালচোঁ থেকে কচুয়া পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার অংশে কিছু দূর পরপরই খানাখন্দ। ডুমুরিয়া বাজার এলাকায় সড়কের দুপাশ ভেঙে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। এই এলাকায় ১৮ ফুট প্রস্থের সড়কটি ১২ ফুটে এসে ঠেকেছে। কচুয়া বাজার থেকে বায়েকের মোড় পর্যন্ত অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। ভাঙাচোরা সড়কটিতে ভারী যানবাহন নেই বললেই চলে। সড়কটি দিয়ে নিয়মিত চলাচল করেন চাঁদপুর এম এ খালেক মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন মজুমদার। তিনি বলেন, হাজীগঞ্জ বাজার থেকে কচুয়া যাওয়ার সহজ পথ এটি। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়।

    webnewsdesign.com

    কিন্তু চাকরির তাগিদে নিয়মিত সড়কটি ব্যবহার করতে তিনি বাধ্য বলে জানান আমজাদ হোসেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পেটের দায়ে ভাঙা রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হই। এই সড়কে গাড়ি চালালেই গাড়ি মেরামত করতে হয়।

    রোজগারের একটি অংশ গাড়ি মেরামতের পেছনেই ব্যয় করতে হয়। এক দিন গাড়ি চালালে তিন দিন বসে থাকতে হয়। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রামগঞ্জ থেকে হাজীগঞ্জ বাজারের ওপর দিয়ে সড়কটি কচুয়া হয়ে গৌরীপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকায় যাওয়ার জন্য বিকল্প সড়ক হিসেবে এটি ব্যবহার করেন। আগে সড়কটি দিয়ে মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান, মালবাহী ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়মিত চলাচল করত।

    এখন ভাঙাচোরা দশার কারণে ভারী ও বড় যানবাহন চলে না বললেই হয়। শুধু সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলে। অটোরিকশার চালকেরা ভাঙা রাস্তার অজুহাত দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করেন।
    হাজীগঞ্জ সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত সড়কের মোট দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার, যার চাঁদপুর অংশে পড়েছে ৩২ আর কুমিল্লায় ১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে চাঁদপুরের ১৮ ও কুমিল্লা অংশের ১০ কিলোমিটারসহ মোট ২৮ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরা।
    চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ কার্যালয় (সওজ) সূত্র জানায়, সড়কটি সংস্কারের জন্য ৮৫ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। জেলা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত বলেন, ৪২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৮ কিলোমিটার ভাঙা ও খানাখন্দে ভরা।

    এ অংশ সংস্কারের জন্য ৮৫ কোটি টাকা মঞ্জুরি চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাব একনেকে অনুমোদন হওয়ার পর টেন্ডার ডাকা হবে। সে পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে কষ্ট ভোগ করতে হবে।

     

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি