• শিরোনাম

    বীরশ্রেষ্ঠদের কতটা সম্মান দিয়েছে বাংলাদেশ?

    | ২২ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

    বীরশ্রেষ্ঠদের কতটা সম্মান দিয়েছে বাংলাদেশ?

    বীরশ্রেষ্ঠদের কতটা সম্মান দিয়েছে বাংলাদেশ?

    নিজস্ব প্রতিবেদক,

    মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় ছুটিতে বাংলাদেশেই ছিলেন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অফিসার মতিউর রহমান। পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর পর সিদ্ধান্ত নেন যুদ্ধ করবেন তাদের সঙ্গে। প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন স্থানীয়দের। পরে পাকিস্তান চলে যান জঙ্গি বিমান নিয়ে আসবেন বলে। কিন্তু পারেননি। প্রাণ হারান সেখানেই। এই বীরই পাকিস্তানের মাটিতে শুয়েছিলেন ৩৫ বছর।

    ২০০৬ সালে দেশে এনে সমাহিত করা হয় এই বীরকে। স্বজনরা এতদিন তার কবরে দুটো ফুলও দিতে পারেননি।

    আরেক বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শহীদ হয়েছিলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সীমান্তে। কিন্তু তাকে সমাহিত করা হয়েছিল ভারতের ত্রিপুরায়। তার মরদেহ দেশে এসেছে মতিউরের মরদেহ আসারও এক বছর পর ২০০৭ সালে।

     

    webnewsdesign.com

    বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামীদেরকে সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে আক্ষেপ রয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠদের কথা তুলে ধরতেও, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ না থাকার কথাও বলেন মুক্তিযোদ্ধারা।

    সাত বীরশ্রেষ্ঠই সামরিক বা আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। তাদের স্মরণে জাতীয় দিবস বা তাদের শহীদ হওয়ার দিন নিজ নিজ বাহিনী আলোচনা সভা ও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কিন্তু জাতীয় দিবসগুলোতে সেভাবে দেশে স্মরণ করা হয় না এই বীরদের। তাদের নিজ নিজ এলাকায় কিছু স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে বটে, তবে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ হয় না সেভাবে। নিজ এলাকায় সমাধি স্থানান্তরের দাবিও পূরণ হয়নি।

    অনুসন্ধান বলছে নিজ নিজ এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠদের নামে নানা স্থাপনা হলেও সেগুলো করতে সময় লেগে যায় তিন থেকে চার দশক। আবার তাদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বা জাতীয় দিবসগুলোতে নিজ এলাকায় প্রশাসন সেভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করে না। ফলে নতুন প্রজন্ম এই বীরদের সম্পর্কে সেভাবে জানতেও পারছে না। মুখে মুখে কিছু কাহিনি প্রচার হচ্ছে কেবল।

    নূর মোহাম্মদের নামে স্থাপনা করতে ৩৭ বছর

    নড়াইল প্রতিনিধি ফরহাদ খান জানান, সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ। ১৯৭১ সালের  ৫ সেপ্টেম্বর তিনি যশোরের শার্শায় যুদ্ধে জীবন দেন করেন। নিজ গ্রামটি এই বীরের নামে করতেও লেগে যায় ৩৭ বছর। ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ মহিষখোলা  গ্রামের নাম পাল্টে করা হয় ‘নূর মোহাম্মদনগর’।

    এই বীরের সমাধি যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে আনার জোর দাবি রয়েছে। কিন্তু সেটি উপেক্ষিত রয়েছে।

    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা বলেন, ‘আমার স্বামীর কবর এখানে স্থানান্তর কলে আমরা তাকে শ্রদ্ধা জানাতে পারতাম।’

    ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়’টি ১২ বছরেও এমপিভূক্ত হয়নি। এক প্রকার বিনা বেতনে বা অল্প বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। কলেজটিতে অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রমও। কলেজটি জাতীয়করণের (সরকারি) জন্য ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

    রণক্ষেত্রে শহীদ হওয়ার ৩৭ বছর পর নড়াইল শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে ‘বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়’ চত্বরে নির্মিত হয় ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’। একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে এই বীরশ্রেষ্ঠর বসতভিটাতেও।

    গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর এখনও একজন তত্ত্বাবধায়ক ও লাইব্রেরিয়ান দিয়ে চলছে। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে নূর মোহাম্মদের ব্যবহৃত বাইসাইকেলটি সম্পর্কে জানাজানি হলে তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। তবে সেটি এখনও প্রদর্শন করা যাচ্ছে না।

    জেলা প্রশাসক এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সব কিছুই করার চেষ্টা করা হবে। স্মৃতি জাদুঘর উন্নয়নের জন্য আমরা চেষ্টা করব। এজন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন ’।

    বরিশালে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের মৃত্যুবার্ষিকী উপেক্ষা করল প্রশাসন

    বরিশাল ব্যুরো প্রধান তন্ময় তপু জানান, বরিশালের এই বীর শুয়ে আছেন যেখানে তিনি প্রাণ দিয়েছিলেন, সেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ এলাকায়। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের মতো তার সমাধি স্থানান্তরের দাবিও পূরণ হয়নি।

    গত ১৪ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্মদিন বাবুগঞ্জ উপজেলায় তেমন ভাবে কোথাও পালিত হয়নি। শুধু বীরশ্রেষ্ট ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে স্মরণ আনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন বা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনেও কিছু হয়নি।

    নিজ এলাকা বরিশালের কয়েকটি সড়ক আর স্থাপনা ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে করা হলেও এই সিদ্ধান্ত নিতে লেগে যায় বহু বছর।

    বাবুগঞ্জের আগরপুর ইউনিয়নের নাম এলাকাবাসীর ইচ্ছায় করা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন। বর্তমান সরকারের আমলে জেলা পরিষদ বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের দান করা ৪০ শতাংশ জায়গার ওপর নির্মিত হয়েছে স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার। চলতি বছরের পহেলা ডিসেম্বর স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের উদ্যোগে বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর প্রেসক্লাব।

    এই বীরশ্রেষ্ঠর নামে বাবুগঞ্জের গ্রন্থাগার ও বসতভিটা এবং বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাটাও যে কোনা সময় বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। ভাঙন প্রতিরোধে এলাকাবাসী দাবি জানিয়ে আসলেও এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

    বরিশালের সদর রোডের নাম বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে করা হয়েছে তার শহীদ হওয়ার চার দশক পর। প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণের আমলে সড়কটির নাম পাল্টানো হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানিরাই জানেন না সড়কটির নাম সদর রোড নয়।

    ফাস্টফুড ব্যবসায়ী নাজমুল মৃধা বলেন. ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি এই সড়কটি বীরশ্রেষ্ঠের নামে। কিন্তু সাইনবোর্ড সদর রোডই লেখা আছে।’

    বরিশালের মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘আগরপুর ইউনিয়টিকে জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন করা হলেও তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বীরশ্রেষ্টের এই জন্মস্থানে। তার নামে আরো স্থাপনা করা দরকার। তবে শুধু স্থাপনা করেই শেষ নয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের কথা।’

    জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ‘শুধু ২৬ শে মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর তার (মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর) কথা স্মরণ না করে বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াসনেস দরকার। স্থায়ীভাবে কিছু করা গেলে ভালো হত।… তার নামে করা জাদুঘরটি নদী থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরত্বে রয়েছে। দ্রুত নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা না গেলে বিলীন হয়ে যাবে এই জাদুঘরটিও।’

    তবে বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতি ধরে রাখতে নানা ধরনের কাজ শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান। বলেছেন, ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে।

    ভালো নেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের পরিবার

    এই বীরের বাড়ি ঝিনাইদহে। দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় মাস দুই মাস আগে জীবন দিয়েছিলেন তিনি। হামিদুর রহমানের তিন ভাই হামজুর রহমান, শুকুর আলী, ফজলুর রহমান ও দুই বোন আছিয়া বেগম ও রিজিয়া বেগম এখনও বেঁচে আছেন। তাদের সংসার চলে সম্মানি ভাতার ওপর। জমি বলতে তেমন কিছু নেই।

    হামিদুরের জন্ম ১৯৪৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চব্বিশ পরগনা জেলার চাপড়া থানার ডুমুরিয়া গ্রামে। দেশ ভাগের পর তারা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোর্দ খালিশপুর গ্রামে চলে আসে।

    আমাদের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি কোরবান আলী জানান, হামিদুর শহীদ হন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কমলগঞ্জের ধলই এলাকায়। তবে তাকে সমাহিত করা হয় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসা গ্রামে। ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর তার দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে ঢাকার মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

    এই বীরের সম্মানে খালিশপুর গ্রামের নাম পাল্টে করা হয়েছে হামিদনগর। তবে সেটা মুখে মুখেই। এখনও এ বিষয়ে কাগজে কলমে কাজ আগায়নি।

    এই বীরের নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজও রয়েছে। ২০০৮ সালের ৯ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় কলেজ আঙিনায় করা হয় ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর।’

    এখানে গ্রন্থাগারিক হিসেবে চাকরি করছেন হামিদুর রহমানের মেজোভাই হামজুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মিলন। তাকে জেলা পরিষদ থেকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তার চাকরি সরকারি হয়নি। সম্প্রতি কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ নিয়েছেন হামিদুর রহমানের বোনের ছেলে মুকুল জোয়ারদার। তার কোনও বেতন ধরা হয়নি।

    সামরিক বাহিনীর দেওয়া মুক্তিযোদ্ধার অস্থায়ী সনদপত্র (প্রভিশনাল সার্টিফিকেট) ছাড়া আর কোনও স্মৃতিচিহ্ন নেই হামিুদর রহমানের বাড়িতে। জাদুঘরে টানানো রয়েছে বিভিন্ন ছবি ও পুস্তক। বীরশ্রেষ্ঠের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাটি ভেঙে অসংখ্য জায়গায় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

    হামিদুর রহমানের বাল্যবন্ধু মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘দুঃখ হয় যখন দেখি বীরসেনার গ্রামেরও রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। বহু মানুষ ইচ্ছা থাকলেও হামিদুরের একমাত্র স্মৃতি তার বসতভিটা দেখতে আসতে পারেন না।’

    হানিফ ম-ল নামের এক গ্রামবাসী বলেন, ‘হামিদুরের বসতবাড়ি একেবারেই বসবাসের অযোগ্য। খালিশপুর শহর থেকে সামান্য তিন কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। দুরদুরান্ত থেকে অসংখ্য দর্শণার্থী প্রতিনিয়ত তার বাড়ি দেখতে আসে। তখন আমাদের লজ্জা পেতে হয়।’

    মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, হামিদুর রহমানের নামে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি পাঠাগার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাস্তাঘাট উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

    হামিদুর ছিলেন পাকিস্তান সীমান্তরক্ষী বাহিনী ইপিআরের সদস্য। বর্তমানে এই বাহিনীর নাম বিজিবি। নিজ বাহিনীও এই বীরের সম্মানে তার মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করে না।

    মুন্সী আ. রউফের নামে স্থাপনা বিলীনের আশঙ্কা

    ফরিদপুরে আমাদের সহকর্মী জানিয়েছেন, এই বীরের বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালীতে মধুমতি নদীর তীরে। যে গ্রামে তার জন্ম সেই গ্রামটির নাম রউফনগর করা হয়েছে। তৈরি হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘরও।

    এই এলাকাতেও একটি স্কুল রয়েছে এই বীরশ্রেষ্ঠর নামে। রয়েছে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। দুই বছর আগে ৩০ শতাংশ জমির উপর এ বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতাধিক।

    এই এলাকার মূল সমস্যা নদী ভাঙন। এই বীরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যেসব স্থাপনা করা হয়েছে, তার সবই হুমকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে জাদুঘরে যাওয়ার রাস্তাটি বিলীন হয়ে গেছে।

    শহীদ ল্যান্স নায়েক বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের বড় বোন জোহরা বেগম বলেন, ‘বীরের বাড়ি পড়ে আছে অযত্নে অবহেলায় কেউ তার দিকে একটু খেয়াল করে না। একটি জাদুঘর বানিয়ে দিয়েছে, সেখানে আসার রাস্তা নাই, মধুমতিতে ভাঙতে ভাঙতে শেষ হয়ে গেছে।’

    কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান বাবু বলেন, ‘আমি গত রবিবার উপজেলার সমন্বয় সভায় এ বিষয়টি তুলেছি। জানিয়েছি স্থানীয় সাংসদ আব্দুর রহমানকে।’

    এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুৎফুন্নাহার বলেন, ‘আমার নিজের সামর্থ অনুযায়ী যা করার করেছি। কিন্তু তারপরও কোন সুফল পাচ্ছি না। উপজেলা পরিশদের সীমিত ক্ষমতা দিয়ে সড়কটি সচল রাখা হয়েছিল। এখন তাও ধসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপারে উদ্যোগ না নিয়ে যোগাযোগ পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়।’

    ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মনসুর জানান, ‘ভাঙন রোধে একটি নকশা প্রনয়নের কাজ চলছে। সেটা এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তাই কাজে হাত দিতে পারছি না।’

    বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের অপূর্ণতা

    ১০ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের মৃত্যুবার্ষিকী। এ বছর তার ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী গেল। একাত্তরের এইদিনে খুলনার রূপসা নদীতে যুদ্ধজাহাজ পলাশে শত্রুপক্ষের বিমান হামলায় শহীদ হন তিনি। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার রুহুল আমিন নগরে এই বীরের নামে প্রতিষ্ঠিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার নয় বছরেও পূর্ণতা পায়নি। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও রুহুল আমিনের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। আজ ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষ্যেও এখানে কোনো আলোচনা সভা বা অনুষ্ঠান হয়নি।

    ২০০৮ সালে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিনের বাড়ির পাশে পরিবারের দান করা ২০ শতক জমির স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে এটি প্রতিষ্ঠা করে নোয়াখালী জেলা পরিষদ।

    এখানে রয়েছে বিভিন্ন সময়ে তার পরিবারকে দেয়া সরকারি-বেসরকারি পদকের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধসহ নানা বিষয়ের বই, আছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা পোস্টার, সাময়িকী আর পত্রপত্রিকা। তবে, প্রয়োজনের তুলনায় তা নিতান্তই কম বলে মনে করেন দর্শনার্থীরা।

    এলাকাবাসী ও দর্শনার্র্থীদের দাবি, এই কমপ্লেক্সকে ঘিরে সরকারিভাবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা কর্মকান্ড পরিচালনা উচিৎ; যাতে করে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। আর বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের পরিবারের দাবি, এ প্রতিষ্ঠানটিকে আরো আধুনিকায়নের পাশাপাশি সরকারিভাবে এখানে বীরশ্রেষ্ঠের জম্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীসহ জাতীয় দিবসগুলো পালনের ব্যবস্থা করার।

    কমপ্লেক্সেটি তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা পরিষদও প্রতিষ্ঠানটি ঠিকভাবে চলছে না বলে স্বীকার করেছে। নিজেদের অল্প পরিমাণ বাজেট দিয়ে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়।

    সূত্র জানায়, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জেলা পরিষদে অল্প পরিমাণ যে বাজেট দেয়া হয়, এসবে আসলে সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে রক্ষণাবেক্ষণে অর্থায়ন করার জন্য আলাদা একটা ফান্ড থাকা দরকার।’

    বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরকে দেশে ফেরাতে তিন যুগ পর

    মতিউর রহমানের কবর পাকিস্তান থেকে আনা হয় চার দশক পর। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তান থেকে জঙ্গি বিমান ছিনতাই করে আনার চেষ্টাকালে প্রাণ হারান। তাকে কবর দেয়া হয় পাকিস্তানেই। আর সে কবরে লেখা ছিল বিশ্বাসঘাতক।

    পাকিস্তানের সেই বিশ্বাসঘাতকই বাংলাদেশে বড় আদুরে বীর। ১৯৭৩ সালেই তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দেয়া হয়। কিন্তু তার মরদেহ নিজ দেশে এসে সমাহিত করতেই লেগে যায় ৩৫ বছর। ২০০৬ সালের ২৪ জুন দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে পরদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধজীবী কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

    জাতীয় দিবসে ভোরে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এই বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বিমানবাহিনী। এরপর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল কর্মসূচি পালন করা হয়।

    মতিউর রহমানের স্ত্রী মিলি রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘প্রতিবছর ২০ আগস্ট মতিউর রহমানের মৃত্যু দিনে অনুষ্ঠান করে বিমানবাহিনী। আমরাও সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হই। এদিন তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়ার অনুষ্ঠান করা হয়। এছাড়া আরও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিমানবাহিনী।

     

    নয় বছরেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর  

    আমাদের ভোলা প্রতিনিধি ইকরামুল আলম জানান, ২০০৮ সালে রীবশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নিজ জেলা ভোলায় তার স্মৃতি রক্ষায় করা হয় গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। পাঠাগারে কিছু বই থাকলেও নেই বীরশ্রেষ্ঠ  মোস্তফা কামালের কোন স্মৃতি চিহ্ন। ফলে আকর্ষণ হারাচ্ছে এ গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটি।

    ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে শহীদ হন এই বীর সন্তান। তার সমাধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জন্মস্থান ভোলার দৌলতখানে নেয়া হয়নি।
    উপজেলার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে মোস্তফা কামালের পরিবারের বসবাস ছিল। কিন্তু মেঘনার ভাঙনের কারণে সেখান থেকে সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে চলে আসে তার পরিবার। সেখানেই সরকার শহীদ পরিবারকে ৯২ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেয়। ওই জমির উপর নির্মিত পাঁকা ভবনটির নাম রাখা হয়েছে শহীদ স্মরণিকা।

    ওই ভবনটির সামনেই ২০০৮ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের নামে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। শহর থেকে চার কিলোমিটার ুরে অবস্থিত যাুঘর স্থাপনের পর এলাকাবাসী বেশ উৎসাহী হয়েছিল। কিন্তু সেই আকর্ষণ ধরে রাখা যায়নি। জাদুঘরে বীরশ্রেষ্ঠর তেমন কোন নিদর্শন নেই, এমনকি এখানে মুক্তিযুদ্ধের কোনো প্রামাণ্যচিত্র পর্যন্ত নেই। দুর দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে এসে ফিরে যায় হতাশা নিয়ে।

    গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান মো. সেলিম জানান, উদ্বোধনের সময়ে যে কয়টি বই নিয়ে পাঠাগার চালু হয়েছিলো এখনো সে অবস্থাতেই আছে। পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে নতুন করে কোন বই সংগ্রহ করা হয়নি।

    ভোলার জেলা প্রশাসক সেলিম উদ্দিন বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল শুধু ভোলার গর্ব নয়, পুরো বাঙালি জাতির গর্ব। ভোলায় তার নামে অবস্থিত গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটিকে সমৃদ্ধ করতে আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক জাতীয় দিবসগুলো জাদুঘর প্রাঙ্গনে করার উদ্যোগ নিচ্ছি। সেই সাথে সংগ্রহশালায় মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে আরও উন্নত করারও উদ্যোগ রয়েছে আমাদের।

    মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় ছুটিতে বাংলাদেশেই ছিলেন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অফিসার মতিউর রহমান। পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর পর সিদ্ধান্ত নেন যুদ্ধ করবেন তাদের সঙ্গে। প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন স্থানীয়দের। পরে পাকিস্তান চলে যান জঙ্গি বিমান নিয়ে আসবেন বলে। কিন্তু পারেননি। প্রাণ হারান সেখানেই। এই বীরই পাকিস্তানের মাটিতে শুয়েছিলেন ৩৫ বছর।

    ২০০৬ সালে দেশে এনে সমাহিত করা হয় এই বীরকে। স্বজনরা এতদিন তার কবরে দুটো ফুলও দিতে পারেননি।

    আরেক বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শহীদ হয়েছিলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সীমান্তে। কিন্তু তাকে সমাহিত করা হয়েছিল ভারতের ত্রিপুরায়। তার মরদেহ দেশে এসেছে মতিউরের মরদেহ আসারও এক বছর পর ২০০৭ সালে।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামীদেরকে সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে আক্ষেপ রয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠদের কথা তুলে ধরতেও, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ না থাকার কথাও বলেন মুক্তিযোদ্ধারা।

    সাত বীরশ্রেষ্ঠই সামরিক বা আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য। তাদের স্মরণে জাতীয় দিবস বা তাদের শহীদ হওয়ার দিন নিজ নিজ বাহিনী আলোচনা সভা ও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কিন্তু জাতীয় দিবসগুলোতে সেভাবে দেশে স্মরণ করা হয় না এই বীরদের। তাদের নিজ নিজ এলাকায় কিছু স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে বটে, তবে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ হয় না সেভাবে। নিজ এলাকায় সমাধি স্থানান্তরের দাবিও পূরণ হয়নি।

    ঢাকাটাইমসের অনুসন্ধান বলছে নিজ নিজ এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠদের নামে নানা স্থাপনা হলেও সেগুলো করতে সময় লেগে যায় তিন থেকে চার দশক। আবার তাদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী বা জাতীয় দিবসগুলোতে নিজ এলাকায় প্রশাসন সেভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করে না। ফলে নতুন প্রজন্ম এই বীরদের সম্পর্কে সেভাবে জানতেও পারছে না। মুখে মুখে কিছু কাহিনি প্রচার হচ্ছে কেবল।

    নূর মোহাম্মদের নামে স্থাপনা করতে ৩৭ বছর

    ঢাকাটাইমসের নড়াইল প্রতিনিধি ফরহাদ খান জানান, সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।

    ১৯৭১ সালের  ৫ সেপ্টেম্বর তিনি যশোরের শার্শায় যুদ্ধে জীবন দেন করেন।

    নিজ গ্রামটি এই বীরের নামে করতেও লেগে যায় ৩৭ বছর।

    ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ মহিষখোলা  গ্রামের নাম পাল্টে করা হয় ‘নূর মোহাম্মদনগর’।

    এই বীরের সমাধি যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর থেকে গ্রামের বাড়িতে আনার জোর দাবি রয়েছে। কিন্তু সেটি উপেক্ষিত রয়েছে।

    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা বলেন, ‘আমার স্বামীর কবর এখানে স্থানান্তর কলে আমরা তাকে শ্রদ্ধা জানাতে পারতাম।’

    ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়’টি ১২ বছরেও এমপিভূক্ত হয়নি। এক প্রকার বিনা বেতনে বা অল্প বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। কলেজটিতে অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রমও।

    কলেজটি জাতীয়করণের (সরকারি) জন্য ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

    রণক্ষেত্রে শহীদ হওয়ার ৩৭ বছর পর নড়াইল শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে ‘বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়’ চত্বরে নির্মিত হয় ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর’।

    একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে এই বীরশ্রেষ্ঠর বসতভিটাতেও।

    গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর এখনও একজন তত্ত্বাবধায়ক ও লাইব্রেরিয়ান দিয়ে চলছে। ২০১৬ সালের প্রথম দিকে নূর মোহাম্মদের ব্যবহৃত বাইসাইকেলটি সম্পর্কে জানাজানি হলে তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। তবে সেটি এখনও প্রদর্শন করা যাচ্ছে না।

    জেলা প্রশাসক এমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সব কিছুই করার চেষ্টা করা হবে। স্মৃতি জাদুঘর উন্নয়নের জন্য আমরা চেষ্টা করব। এজন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন ’।

    বরিশালে মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের মৃত্যুবার্ষিকী উপেক্ষা করল প্রশাসন

    বরিশাল ব্যুরো প্রধান তন্ময় তপু জানান, বরিশালের এই বীর শুয়ে আছেন যেখানে তিনি প্রাণ দিয়েছিলেন, সেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ এলাকায়। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের মতো তার সমাধি স্থানান্তরের দাবিও পূরণ হয়নি।

    গত ১৪ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্মদিন বাবুগঞ্জ উপজেলায় তেমন ভাবে কোথাও পালিত হয়নি। শুধু বীরশ্রেষ্ট ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে স্মরণ আনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন বা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনেও কিছু হয়নি।

    নিজ এলাকা বরিশালের কয়েকটি সড়ক আর স্থাপনা ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে করা হলেও এই সিদ্ধান্ত নিতে লেগে যায় বহু বছর।

    বাবুগঞ্জের আগরপুর ইউনিয়নের নাম এলাকাবাসীর ইচ্ছায় করা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন। বর্তমান সরকারের আমলে জেলা পরিষদ বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের দান করা ৪০ শতাংশ জায়গার ওপর নির্মিত হয়েছে স্মৃতি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার। চলতি বছরের পহেলা ডিসেম্বর স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের উদ্যোগে বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর প্রেসক্লাব।

    এই বীরশ্রেষ্ঠর নামে বাবুগঞ্জের গ্রন্থাগার ও বসতভিটা এবং বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাটাও যে কোনা সময় বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। ভাঙন প্রতিরোধে এলাকাবাসী দাবি জানিয়ে আসলেও এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

    বরিশালের সদর রোডের নাম বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের নামে করা হয়েছে তার শহীদ হওয়ার চার দশক পর। প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণের আমলে সড়কটির নাম পাল্টানো হলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানিরাই জানেন না সড়কটির নাম সদর রোড নয়।

    ফাস্টফুড ব্যবসায়ী নাজমুল মৃধা বলেন. ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি এই সড়কটি বীরশ্রেষ্ঠের নামে। কিন্তু সাইনবোর্ড সদর রোডই লেখা আছে।’

    বরিশালের মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘আগরপুর ইউনিয়টিকে জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন করা হলেও তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বীরশ্রেষ্টের এই জন্মস্থানে। তার নামে আরো স্থাপনা করা দরকার। তবে শুধু স্থাপনা করেই শেষ নয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের কথা।’

    জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ‘শুধু ২৬ শে মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর তার (মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর) কথা স্মরণ না করে বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াসনেস দরকার। স্থায়ীভাবে কিছু করা গেলে ভালো হত।… তার নামে করা জাদুঘরটি নদী থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরত্বে রয়েছে। দ্রুত নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা না গেলে বিলীন হয়ে যাবে এই জাদুঘরটিও।’

    তবে বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতি ধরে রাখতে নানা ধরনের কাজ শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশাল জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান। বলেছেন, ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে।

    ভালো নেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের পরিবার

    এই বীরের বাড়ি ঝিনাইদহে। দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় মাস দুই মাস আগে জীবন দিয়েছিলেন তিনি। হামিদুর রহমানের তিন ভাই হামজুর রহমান, শুকুর আলী, ফজলুর রহমান ও দুই বোন আছিয়া বেগম ও রিজিয়া বেগম এখনও বেঁচে আছেন। তাদের সংসার চলে সম্মানি ভাতার ওপর। জমি বলতে তেমন কিছু নেই।

    হামিদুরের জন্ম ১৯৪৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চব্বিশ পরগনা জেলার চাপড়া থানার ডুমুরিয়া গ্রামে। দেশ ভাগের পর তারা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোর্দ খালিশপুর গ্রামে চলে আসে।

    আমাদের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি কোরবান আলী জানান, হামিদুর শহীদ হন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কমলগঞ্জের ধলই এলাকায়। তবে তাকে সমাহিত করা হয় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসা গ্রামে। ৩৬ বছর পর ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর তার দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে ঢাকার মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

    এই বীরের সম্মানে খালিশপুর গ্রামের নাম পাল্টে করা হয়েছে হামিদনগর। তবে সেটা মুখে মুখেই। এখনও এ বিষয়ে কাগজে কলমে কাজ আগায়নি।

    এই বীরের নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজও রয়েছে। ২০০৮ সালের ৯ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় কলেজ আঙিনায় করা হয় ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর।’

    এখানে গ্রন্থাগারিক হিসেবে চাকরি করছেন হামিদুর রহমানের মেজোভাই হামজুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান মিলন। তাকে জেলা পরিষদ থেকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তার চাকরি সরকারি হয়নি। সম্প্রতি কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ নিয়েছেন হামিদুর রহমানের বোনের ছেলে মুকুল জোয়ারদার। তার কোনও বেতন ধরা হয়নি।

    সামরিক বাহিনীর দেওয়া মুক্তিযোদ্ধার অস্থায়ী সনদপত্র (প্রভিশনাল সার্টিফিকেট) ছাড়া আর কোনও স্মৃতিচিহ্ন নেই হামিুদর রহমানের বাড়িতে। জাদুঘরে টানানো রয়েছে বিভিন্ন ছবি ও পুস্তক। বীরশ্রেষ্ঠের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাটি ভেঙে অসংখ্য জায়গায় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

    হামিদুর রহমানের বাল্যবন্ধু মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান বলেন, ‘দুঃখ হয় যখন দেখি বীরসেনার গ্রামেরও রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। বহু মানুষ ইচ্ছা থাকলেও হামিদুরের একমাত্র স্মৃতি তার বসতভিটা দেখতে আসতে পারেন না।’

    হানিফ ম-ল নামের এক গ্রামবাসী বলেন, ‘হামিদুরের বসতবাড়ি একেবারেই বসবাসের অযোগ্য। খালিশপুর শহর থেকে সামান্য তিন কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। দুরদুরান্ত থেকে অসংখ্য দর্শণার্থী প্রতিনিয়ত তার বাড়ি দেখতে আসে। তখন আমাদের লজ্জা পেতে হয়।’

    মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, হামিদুর রহমানের নামে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি পাঠাগার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাস্তাঘাট উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

    হামিদুর ছিলেন পাকিস্তান সীমান্তরক্ষী বাহিনী ইপিআরের সদস্য। বর্তমানে এই বাহিনীর নাম বিজিবি। নিজ বাহিনীও এই বীরের সম্মানে তার মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করে না।

    মুন্সী আ. রউফের নামে স্থাপনা বিলীনের আশঙ্কা

    ফরিদপুরে আমাদের সহকর্মী জানিয়েছেন, এই বীরের বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালীতে মধুমতি নদীর তীরে। যে গ্রামে তার জন্ম সেই গ্রামটির নাম রউফনগর করা হয়েছে। তৈরি হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘরও।

    এই এলাকাতেও একটি স্কুল রয়েছে এই বীরশ্রেষ্ঠর নামে। রয়েছে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও। দুই বছর আগে ৩০ শতাংশ জমির উপর এ বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতাধিক।

    এই এলাকার মূল সমস্যা নদী ভাঙন। এই বীরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যেসব স্থাপনা করা হয়েছে, তার সবই হুমকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে জাদুঘরে যাওয়ার রাস্তাটি বিলীন হয়ে গেছে।

    শহীদ ল্যান্স নায়েক বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের বড় বোন জোহরা বেগম বলেন, ‘বীরের বাড়ি পড়ে আছে অযত্নে অবহেলায় কেউ তার দিকে একটু খেয়াল করে না। একটি জাদুঘর বানিয়ে দিয়েছে, সেখানে আসার রাস্তা নাই, মধুমতিতে ভাঙতে ভাঙতে শেষ হয়ে গেছে।’

    কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান বাবু বলেন, ‘আমি গত রবিবার উপজেলার সমন্বয় সভায় এ বিষয়টি তুলেছি। জানিয়েছি স্থানীয় সাংসদ আব্দুর রহমানকে।’

    এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুৎফুন্নাহার বলেন, ‘আমার নিজের সামর্থ অনুযায়ী যা করার করেছি। কিন্তু তারপরও কোন সুফল পাচ্ছি না। উপজেলা পরিশদের সীমিত ক্ষমতা দিয়ে সড়কটি সচল রাখা হয়েছিল। এখন তাও ধসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপারে উদ্যোগ না নিয়ে যোগাযোগ পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়।’

    ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মনসুর জানান, ‘ভাঙন রোধে একটি নকশা প্রনয়নের কাজ চলছে। সেটা এখনও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। তাই কাজে হাত দিতে পারছি না।’

    বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের অপূর্ণতা

    ১০ ডিসেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের মৃত্যুবার্ষিকী। এ বছর তার ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী গেল। একাত্তরের এইদিনে খুলনার রূপসা নদীতে যুদ্ধজাহাজ পলাশে শত্রুপক্ষের বিমান হামলায় শহীদ হন তিনি। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার রুহুল আমিন নগরে এই বীরের নামে প্রতিষ্ঠিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার নয় বছরেও পূর্ণতা পায়নি। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও রুহুল আমিনের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। আজ ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষ্যেও এখানে কোনো আলোচনা সভা বা অনুষ্ঠান হয়নি।

    ২০০৮ সালে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিনের বাড়ির পাশে পরিবারের দান করা ২০ শতক জমির স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে এটি প্রতিষ্ঠা করে নোয়াখালী জেলা পরিষদ।

    এখানে রয়েছে বিভিন্ন সময়ে তার পরিবারকে দেয়া সরকারি-বেসরকারি পদকের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধসহ নানা বিষয়ের বই, আছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা পোস্টার, সাময়িকী আর পত্রপত্রিকা। তবে, প্রয়োজনের তুলনায় তা নিতান্তই কম বলে মনে করেন দর্শনার্থীরা।

    এলাকাবাসী ও দর্শনার্র্থীদের দাবি, এই কমপ্লেক্সকে ঘিরে সরকারিভাবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা কর্মকান্ড পরিচালনা উচিৎ; যাতে করে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। আর বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের পরিবারের দাবি, এ প্রতিষ্ঠানটিকে আরো আধুনিকায়নের পাশাপাশি সরকারিভাবে এখানে বীরশ্রেষ্ঠের জম্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীসহ জাতীয় দিবসগুলো পালনের ব্যবস্থা করার।

    কমপ্লেক্সেটি তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা পরিষদও প্রতিষ্ঠানটি ঠিকভাবে চলছে না বলে স্বীকার করেছে। নিজেদের অল্প পরিমাণ বাজেট দিয়ে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়।

    সূত্র জানায়, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জেলা পরিষদে অল্প পরিমাণ যে বাজেট দেয়া হয়, এসবে আসলে সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে রক্ষণাবেক্ষণে অর্থায়ন করার জন্য আলাদা একটা ফান্ড থাকা দরকার।’

    বীরশ্রেষ্ঠ মতিউরকে দেশে ফেরাতে তিন যুগ পর

    মতিউর রহমানের কবর পাকিস্তান থেকে আনা হয় চার দশক পর। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তান থেকে জঙ্গি বিমান ছিনতাই করে আনার চেষ্টাকালে প্রাণ হারান। তাকে কবর দেয়া হয় পাকিস্তানেই। আর সে কবরে লেখা ছিল বিশ্বাসঘাতক।

    পাকিস্তানের সেই বিশ্বাসঘাতকই বাংলাদেশে বড় আদুরে বীর। ১৯৭৩ সালেই তাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দেয়া হয়। কিন্তু তার মরদেহ নিজ দেশে এসে সমাহিত করতেই লেগে যায় ৩৫ বছর। ২০০৬ সালের ২৪ জুন দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে পরদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধজীবী কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

    জাতীয় দিবসে ভোরে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এই বীরের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বিমানবাহিনী।

    এরপর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল কর্মসূচি পালন করা হয়।

    মতিউর রহমানের স্ত্রী মিলি রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘প্রতিবছর ২০ আগস্ট মতিউর রহমানের মৃত্যু দিনে অনুষ্ঠান করে বিমানবাহিনী।

    আমরাও সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হই।

    এদিন তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়ার অনুষ্ঠান করা হয়।

     

    এছাড়া আরও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিমানবাহিনী।

    নয় বছরেও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি জাদুঘর  

    আমাদের ভোলা প্রতিনিধি ইকরামুল আলম জানান, ২০০৮ সালে রীবশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের নিজ জেলা ভোলায় তার স্মৃতি রক্ষায় করা হয় গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। পাঠাগারে কিছু বই থাকলেও নেই বীরশ্রেষ্ঠ  মোস্তফা কামালের কোন স্মৃতি চিহ্ন। ফলে আকর্ষণ হারাচ্ছে এ গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটি।

    ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে শহীদ হন এই বীর সন্তান। তার সমাধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জন্মস্থান ভোলার দৌলতখানে নেয়া হয়নি।
    উপজেলার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে মোস্তফা কামালের পরিবারের বসবাস ছিল। কিন্তু মেঘনার ভাঙনের কারণে সেখান থেকে সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে চলে আসে তার পরিবার। সেখানেই সরকার শহীদ পরিবারকে ৯২ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেয়। ওই জমির উপর নির্মিত পাঁকা ভবনটির নাম রাখা হয়েছে শহীদ স্মরণিকা।

    ওই ভবনটির সামনেই ২০০৮ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের নামে গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। শহর থেকে চার কিলোমিটার ুরে অবস্থিত যাুঘর স্থাপনের পর এলাকাবাসী বেশ উৎসাহী হয়েছিল। কিন্তু সেই আকর্ষণ ধরে রাখা যায়নি। জাদুঘরে বীরশ্রেষ্ঠর তেমন কোন নিদর্শন নেই, এমনকি এখানে মুক্তিযুদ্ধের কোনো প্রামাণ্যচিত্র পর্যন্ত নেই। দুর দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে এসে ফিরে যায় হতাশা নিয়ে।

    গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান মো. সেলিম জানান, উদ্বোধনের সময়ে যে কয়টি বই নিয়ে পাঠাগার চালু হয়েছিলো এখনো সে অবস্থাতেই আছে। পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে নতুন করে কোন বই সংগ্রহ করা হয়নি।

    ভোলার জেলা প্রশাসক সেলিম উদ্দিন বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল শুধু ভোলার গর্ব নয়, পুরো বাঙালি জাতির গর্ব। ভোলায় তার নামে অবস্থিত গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটিকে সমৃদ্ধ করতে আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক জাতীয় দিবসগুলো জাদুঘর প্রাঙ্গনে করার উদ্যোগ নিচ্ছি। সেই সাথে সংগ্রহশালায় মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে আরও উন্নত করারও উদ্যোগ রয়েছে আমাদের।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    চাঁদপুরসহ ২২ জেলায় নতুন ডিসি

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

    ভূয়া কবিরাজের কারিশমা‘

    ১৭ জানুয়ারি ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, কচুয়া, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, সদর, ফরিদগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাচন
    ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, কচুয়া, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, সদর, ফরিদগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাচন