• শিরোনাম

    বাজেট ২০২০-২১ ভাতা নয়, প্রতিবন্ধীদের সম্পদে পরিণত করার বিবেচনায় বাজেট প্রণয়ন জরুরি

    অনলাইন প্রতিবেদক | ২৪ জুন ২০২০ | ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

    বাজেট ২০২০-২১ ভাতা নয়, প্রতিবন্ধীদের সম্পদে পরিণত করার বিবেচনায় বাজেট প্রণয়ন জরুরি

    বিশ্বের অন্যতম ত্রাস করোনাভাইরাসের কারণে সমগ্র বিশ্ব এখন অর্থনৈতিক সমস্যায়। আর এর বাইরে নয় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার অঞ্চল ভিত্তিক লকডাউনের ঘোষণা করেছে। সর্বস্তরের মানুষ পড়েছে মহাবিপদে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও দিনমজুর মানুষেরা পড়েছেন মহাসংকটে। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিংবা তাদের পরিবার পড়েছে অথৈ জলে। তাদের ভোগান্তি ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব সীমা।

    করোনার কারণে সৃষ্ট এমন এক বাস্তবতায় প্রতিবন্ধীবান্ধব সরকার এবারের বাজেটে ব্যতিক্রমধর্মী কিছু উদ্যোগ নেবে সেই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু এই প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হয়েছে, কী কী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেটা জানার বিষয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বহু বছর ধরে দাবি করে আসছেন, দয়া কিংবা ভাতা নির্ভর নয় বরং বাজেট হতে হবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহায়ক। এবারের বাজেটে সেই চাওয়া পূরণ হয়েছে কী?
    করোনায় অর্থনৈতিক অচলাবস্থার কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ হারাচ্ছেন, হারাবেন ভবিষ্যতেও। অনেকের শঙ্কা কাজ হারানোর তালিকায় শীর্ষে হয়তো রাখা হবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের অভিভাবকদের। এমন বাস্তবতায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষায় বিশেষ কোনো বরাদ্দ বাজেটে আছে কি?

    এরকম নানা প্রশ্ন সামনে রেখে আরটিভির বিশেষ আয়োজন ‘বাজেট ২০২০-২১: প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’তে সৈয়দা মুনিরা ইসলামের মুখোমুখি হন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য আরমা দত্ত এমপি, এনডিডি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শারমিন নিলোর্মী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ইপসার কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ভাস্কর ভট্টাচার্য, অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলবার্ট মোল্লা, বিডি নিউজের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিবেদক আব্দুর রহিম হারমাছি।

    শুধু ভাতা নয়, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও শিক্ষা কর্মসংস্থান হতে পারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মুক্তি: ভাস্কর ভট্টাচার্য

    ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, আমি নিজেও একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। এই করোনাকালে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমরা জানি না করোনায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের কীভাবে সহায়তা করা হবে। যদিও সরকার ইতোমধ্যে একটা গাইডলাইন করেছে প্রতিবন্ধীদের কীভাবে সহায়তা করতে হবে। জানি না চিকিৎসক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা পেয়েছেন কিনা।
    আমরা চেয়েছিলাম বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যসেবা বরাদ্দ থাকুক। পৃথিবীর অনেক দেশে আছে। আর প্রযুক্তির জায়গায় আমাদের একটা এক্সেস দরকার। আমি দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী হয়েও প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইনে কাজ করছি। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের প্রশিক্ষণ ও নলেজের কারণে। এটা বাংলাদেশে সম্ভব হয়নি, জাপানে, ইন্ডিয়ায় গিয়ে শিখেছি। বাংলাদেশে এই ধরনের জ্ঞান দেয়ার জন্য যে ধরনের প্রযুক্তি দরকার, বরাদ্দ দরকার সে ধরনের সহযোগিতা দেশে দেখছি না। তবে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাই তিনি ১৮ লাখ মানুষকে ভাতা দেয়ার সাহস দেখিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে প্রতিবন্ধী মানুষদের নিয়ে কোনো উদ্যোগের কথা বলার মতো পাশে কেউ নেই। শুধু ভাতা নয়, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও শিক্ষা কর্মসংস্থান হতে পারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মুক্তি।

    দুঃখের বিষয়, অবাক হয়ে গেলাম, আমাদের প্রতিবন্ধীদের কোনো ডাটাবেজ নেই: আব্দুর রহিম হারমাছি

    আব্দুর রহিম হারমাছি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় প্রতিবন্ধীদের যেসব সহায়তা দেয়া হয়, মাসে ৭৫০ টাকা ভাতা ছাড়া এর বাইরে প্রতিবন্ধীদের তেমন কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেয়া হচ্ছে। প্রথম ১ লাখ ৫ হাজার মানুষকে ভাতা দেয়া হয়েছিল। এরপর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এই বাজেটে দেখলাম ১৮ লাখ মানুষকে ভাতা দেয়া হবে। আগে ২৫০ টাকা ভাতা দেয়া হতো এখন বাড়তে বাড়তে ৭৫০ টাকা হয়েছে। ১৮ লাখ প্রতিবন্ধীর মধ্য হয়তো ১২- ১৩ লাখ অসচ্ছল প্রতিবন্ধী আছে। এই মানুষদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। প্রতিটি জেলায় একটা ইন্সটিটিউশন গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিবন্ধীরা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরা যেন স্বাবলম্বী হয় সেই ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হবে। আমার অনুরোধ, বাজেটের মাধ্যমে যেন প্রতিবন্ধীর দায়িত্ব সরকার নিয়ে তারা যেন নিজের উদ্যোগে কর্মসংস্থান করার সুযোগ দেয়।
    আরেকটি বিষয়, সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটা কোটা আছে, এটা যেন বেসরকারি চাকরিগুলোতেও থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
    তিনি আরও বলেন, আমাদের একমাত্র ভরসার জায়গা প্রধানমন্ত্রী। তিনি ছাড়া আর কারো কথা মানুষ বিশ্বাস করেন না। এই কঠিন সময়ে তিনি একমাত্র ভরসার জায়গা। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে যে আলোচনা সেটা তাঁর কাছে পৌঁছালে তিনি সমাধান করে দেবেন। তবেই বাজেটে প্রতিবন্ধীদের বরাদ্দ বাড়তে পারে।

    দুঃখের বিষয়, আমি অবাক হয়ে গেলাম, আমাদের প্রতিবন্ধীদের কোনো ডাটাবেজ নেই। প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা যে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার আছে তাদের একত্র করতে পারিনি। কোথায় আমরা ডিজিটাল হলাম? আমার কথা হচ্ছে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আলাদা ডাটাবেজ থাকবে, তাদের কার কী সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধান করতে হবে। ১৮ লাখ প্রতিবন্ধীর মধ্যে সবাই কিন্তু সাহায্য নেবেন না। অনেকেই সচ্ছল আছেন। সেই হিসেবে ১২-১৩ লাখ প্রতিবন্ধীর সাহায্য দরকার। একটু সদিচ্ছা থাকলেই এই সাহায্য সম্ভব।

    প্রতিবন্ধী শিশুরা টেকনোলজি ফ্রেন্ডলি: প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানী

    করোনায় বিশেষ বিবেচনায় প্রতিবন্ধীদের জন্য যে বরাদ্দের প্রয়োজন ছিল তা নেই উল্লেখ করে এনডিডি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানী বলেন, করোনা যখন শুরু হয়, সরকার দুটো খাতে টাকা দিয়েছিল। একটা সমাজসেবা অধিদপ্তরকে, সামাজিক নিরাপত্তার বলয়ের জন্য এটা সম্ভবত দুই আড়াই কোটি টাকা। আর মোটা অংকের টাকা দেয়া হয়েছে সমাজকল্যাণ পরিষদকে। এই টাকা চা বাগানের কর্মী ও অন্যান্য মানুষদের যে সংগঠন আছে তাদের মাধ্যমে বিতরণ হয়েছে।
    আমি কিন্তু নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের ট্রাস্টে একটি টাকাও পাইনি। আমি যেটা করেছি আমার ন্যাশনাল অ্যাডভাইজারি কমিটির যে চেয়ারপারসন আছেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, তার সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় পর পর তিনটি পর্যায়ে ২ হাজার ৬১৩ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা করেছি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ১২টি স্কুল, সিলেট, রাজশাহী, নওগাঁ ও ঢাকায় স্কুলের বাচ্চাদের পিতামাতাদের সহযোগিতা করেছি।
    পরবর্তীতে ৩৩টা স্কুল থেকে আবেদন করেছে যে, শিক্ষার্থীর পরিবার টাকা না দেয়ায় শিক্ষকদের পৌনে তিন কোটি টাকা বেতন বন্ধ আছে। এটা সায়মা ওয়াজেদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কাভার লেটার করে দিয়েছেন। আমরা অপেক্ষায় আছি, এটা দেবেন কি দেবেন না সেই অপেক্ষায়।
    তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুরা টেকনোলজি ফ্রেন্ডলি। তাদের হাতে যদি প্রযুক্তির সুযোগ তুলে দিতে পারি, তাহলে তারা সহজে নিতে পারবে।

    প্রতিবন্ধীদের জন্য দেয়া ৭৫০ টাকা দিয়ে পরিবার বাঁচবে না: শারমিন নিলোর্মী

    বাজেটের দিকনির্দেশনা নিয়ে শারমিন নিলোর্মী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও প্রতিবন্ধী বাচ্চার মা হিসেবে বলছি। আমি সাধারণ নাগরিক হিসেবে বাজেটে যেটা আশা করেছিলাম স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া আমরা প্রত্যেকে চেয়েছিলাম একটি কর্মকৌশল প্রণীত হবে, সংসদে পাঠ হবে এবং গৃহীত হবে। কর্মকৌশল কী ধরনের হবে তা যদি বলি- স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোভিড-19 এর জন্য কয়টা বেড আছে, আমি যদি আক্রান্ত হই কোথায় যাব, কয়টা ল্যাব থাকবে, কতজন টেকনিশিয়ান থাকবে এবং বিদ্যমান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার কেমন হবে। প্রতিবন্ধী কারো করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাকে কি আইসোলেশনে পাঠাবেন? তার একার পক্ষে এই পদ্ধতি সম্ভব না। তাহলে নিয়ম করতে হবে একজন ডাক্তার সেখানে থাকতে হবে। সেই ডাক্তারের সুরক্ষার ব্যবস্থাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোনো ধরনের স্পেশাল ডেস্ক কী করতে পারি? যে ১৮ লাখ মানুষের পরিচয়পত্র আছে, তাদের ঘরে ঘরে যদি ডেস্ক নম্বর দিতে পারি। সেটার জন্য তো বাড়তি কিছু দরকার নেই। বাজেটের সঙ্গে যে কর্মকৌশলের সম্পর্ক তাতে যদি জোর দিই তাহলে মনে হয় কার্যকর হবে।

    এই বছরের বাজেটে খুব বেশি পাওয়ার নেই। এই বাজেটে দুটো মূল কাজ আছে। একটা আপদকালীন সময়, যেটা সুস্থভাবে মৃত্যু ঠেকিয়ে কোনো মতে বেঁচে থাকি। আরেকটি, বিপদে পড়েছি তা থেকে রিকভারি। অর্থাৎ একটা রিশেপ বাজেটের প্রণয়ন দরকার ছিল। এটা ৬ মাস পরে পরে হতে পারে।
    আমি মনে করি ১৮ লাখ যে কাভারেজ দেয়া হচ্ছে, এটা ভালো উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা করতে পারব। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রথম বছরের বাজেট। এই বাজেটে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকার দরকার ছিল। কিন্তু নেই। প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষার জন্য একটা হটলাইন নম্বর এবং ডাক্তারদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া যেন তাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে সেবা দেয়া হয়।

    তবে সরকার করোনায় প্রতিবন্ধীদের জন্য ইতোমধ্যে যে গাইডলাইন দিয়েছ, আমি শিক্ষিত মানুষ হবার পরেও খুঁজে পাইনি। এক্সেস পাচ্ছি না। তবে সাধারণত কতজন বাবা মা তা খুঁজে পাবেন এবং ডাক্তাররা আদৌ জানেন কিনা সন্দেহ হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, এবার জোরালো দাবি করছি প্রতিবন্ধীদের জন্য ডাটাবেজ তৈরি হবে। ডিজিটাল হবে এবং তা পাবলিক করা হবে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। আর করোনার বিষয়ে প্রতিবন্ধীদের জন্যে যে প্রজ্ঞাপন জারি হবে, সেখানে হটলাইন নম্বর থাকবে। সেটার ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। যেন বাবা-মারা তা দেখে কার্যক্রম চালাতে পারেন।

    আর প্রতিবন্ধীদের জন্য দেয়া ৭৫০ টাকা দিয়ে পরিবার বাঁচবে না। দাবি জানাচ্ছি, প্রতিবন্ধীদের গুরুত্ব দিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজন অনুযায়ী এনে সাপোর্ট দিতে হবে। এই পদ্ধতি মানলে হয়তো ৫ বছর পর আর সাহায্য লাগবে না।
    প্রতিবন্ধীদের স্পেশাল কিছু মেডিসিন লাগে। দামি মেডিসিন লাগে। এজন্য ডাটাবেজ করে তাদের একটা কার্ড দেয়া যেতে পারে। ওষুধ প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দিতে হবে, এই কার্ড দেখিয়ে ফার্মেসি থেকে যেন প্রতিবন্ধীর মেডিসিন কেনা যায়।
    প্রতিবন্ধীদের থেরাপি ও অনলাইন সেশনের বিষয়ে ব্যাপক পাবলিক প্রচার লাগবে। যে সেশন হয় আমার মতো মায়েদের জানতে হবে। যারা জানেন না তাদের ডাটাবেজ অনুযায়ী মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট সুবিধা দিয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
    এছাড়া প্রতিবন্ধীদের নানান ডাক্তারি টেস্ট করতে হয়। এই বিষয়ে দায়িত্বরতরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইউরিন ও ব্লাড পরীক্ষার ব্যবস্থা করবেন। এই বিষয়ে নির্দেশনা জরুরি। প্রজ্ঞাপনে আইন জারি করা উচিৎ। এই সময়কালে কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে কাজ থেকে ছাটাই করা যাবে না।

    আলবার্ট মোল্লা বলেন, আমরা চাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত করতে। কিন্তু ভাতা নির্ভর বাজেট দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পদে পরিণত করা যাবে না। এজন্য সুনির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম থাকা উচিৎ ছিল। শিক্ষাতে তাদের বাজেট বাড়ানো, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা আত্মকর্মসংস্থানে তাদের সহযোগিতা করা। তাদের পেছনে ইনভেস্টমেন্ট করে তাদের সম্পদে পরিণত করা। অনেকেই শিক্ষিত আছে তাদের পেছনে কিছু টাকা বিনিয়োগ করলে রাষ্ট্র অনেক কিছু পেত।

    তিনি বলেন, ৭৫০ টাকা ভাতা দিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কারণ সরকারের নিরাপত্তা বলয়ের যে ভাতা দেয়া হয় সেখানে বলা আছে- একজন একটা ভাতার আওতায় থাকলে তিনি অন্য ভাতা আর পাবেন না। এটা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আসলে যারা বিশেষ শ্রেণীর আছেন, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে জানতে হবে তারা কী চান, তাহলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

    বিশেষ চাহিদা মানুষদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল ও একটা হটলাইন থাকা জরুরি: অধ্যাপক ডাঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না

    অধ্যাপক ডাঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য অনেক কাজ করেছেন। সত্যিকার-অর্থে, প্রতিবন্ধীদের শতভাগ ভাতা দেয়ার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু আমি সবার সঙ্গে মতামত দিচ্ছি- ভাতা সমাধান নয়। তারা যেন সমাজের মাধ্যমে ফিরে আসতে পারেন, তারা তাদের দায়িত্ব নিতে পারেন। এবারের বাজেটে অনেক কিছু বাদ গেছে। বাজেট যখন করা হয় পরবর্তীতে খুব বেশি পরিবর্তন হয় না। সুতরাং এই কথাগুলো আগামী বাজেটের জন্য বলার চেষ্টা করতে হবে।

    আমি মনে করি প্রতিবন্ধীদের জন্য অনেক কিছু করার আছে এবং করা দরকার। এই অবস্থায় একটা থোক বরাদ্দ হতে পারে। কিন্তু একটা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা দরকার। যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীরা সাধারণ জীবনে ফিরে আসতে পারেন। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের দিকে আরও বিশেষ নিজর দিতে হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, সুস্থ মানুষগুলো করোনা আক্রান্ত হলে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছেন। আর যারা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন তাদের এই কষ্ট আরও বেশি। আমি অনুরোধ করবো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল সুবিধা, সেবার সুবিধা কোথায় কীভাবে পাওয়া যাবে তার জন্য একটা হটলাইন থাকা জরুরি বলে আমি মনে করি।

    সমাজকল্যাণ পরিষদ কেন বাজেটের আওতায় আসছে না: আরমা দত্ত

    আরমা দত্ত বলেন, এখন আমরা সবাই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। করোনায় আমরা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আলোচনা করছি। কিন্তু এটা আগে যদি সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ইন্সটিটিউট থেকে একটা রূপরেখা অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হতো তবে ভালো হতো। এই সময় প্রতিবন্ধীদের জন্য খুব ভালো একটা প্রস্তাব আছে হটলাইনের। আগেই আমরা এটা সহজে করতে পারতাম। দ্বিতীয় বিষয়, আমাদের কোনো ডেটাবেজ নেই। এখন ভালো হয়েছে অন্তত ১৮ লাখ মানুষকে আমরা গোল্ডেন সিটিজেন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি। কথা হলো এই প্রতিবন্ধীরা কেন আমাদের সম্পদ হবে না। প্রযুক্তিতে তাদের সম্পৃক্ত করলে তারা আমাদের সম্পদ হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় পর্যায়ে একটা ব্যবস্থা করা যেতে পারে, কোভিড-19 আক্রান্ত প্রতিবন্ধীদের জন্য।

    আরেকটা বিষয় হলো, সমাজকল্যাণ পরিষদ কেন বাজেটের আওতায় আসছে না। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল কষ্ট করে এই পরিষদ তৈরি করেছেন। আমি যেহেতু মহিলা আমার যন্ত্রণা আছে। যারা মহিলা প্রতিবন্ধী তারা একটু বিশেষ।

    আমরা আলোচ্য বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরে দিতে পারি। তিনি প্রতিবন্ধীবান্ধব, শিশুবান্ধব। আমরা যদি বাজেট পাসের আগে দিতে পারি তিনি অবশ্যই ব্যবস্থা করবেন। এছাড়া যেসব প্রতিবন্ধী চাকরি হারাচ্ছেন তাদের এক বছরের সাপোর্ট আমরা দিতে পারি কিনা সে বিষয়েও দেখতে হবে।
    ওয়ার্ক ফ্রম হোম নিয়ে আরমা দত্ত বলেন, এবারের বাজেটে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৭ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা আছে। এটা বাজেটের ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এই টাকার থেকে ডিফারেন্টলি অ্যাবল মানুষদের চলানোর জন্য আমরা কতটুকু আনতে পারি তা ভাবতে হবে। আমরা কেন তাদের প্রশিক্ষণ দিতে পারব না। আমাদের অনেক দক্ষ মানুষ আছেন, সবাই মিলে একটা ফোকাস করতে হবে। বিশেষ করে চাকরি হারানো মানুষদের জন্য বিকল্প কিছু করতে পারি। আমাদের অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করতে পারি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার থেকে কিছু টাকা নিই তাহলে আমরা কিছু করতে পারি।

    আরেকটি বিষয়, প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের একটু বেশি নজর দিতে পারি। তাদের কষ্টটা বেশি হচ্ছে। তাদের একটু আলাদা করে মনোযোগ দেয়া উচিৎ। সেক্ষেত্রে জেলার প্রশাসন, এনজিও, জনপ্রতিনিধি মিলে একটা কমিটি করে এই কাজটি করা যেতে পারে। আমরা বলতে পারি, এই দুর্দিনে যেন কেউ চাকরি না হারায়, কোনো শিশু যেন ধর্ষণের শিকার না হয়। আর হাসপাতালে তাদের জন্য যেন একটা ব্যবস্থা করা হয় যেন করোনা আক্রান্ত হলে তারা সেবা নিতে পারে।

    ২৫ হাজার কোটি টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে কী হবে আর প্রতিবন্ধীদের জন্য কী হবে: রাশেদ খান মেনন এমপি

    রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, আরমা দত্ত একটা বিষয় বলেছেন। বাজেট প্রণয়নের আগে বাজেটের কর্মপরিকল্পনা, কর্মকৌশল কী হবে আগেই আলোচনা করা উচিৎ ছিল। করোনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী কিছু প্যাকেজ ঘোষণা করেন। তার মধ্যে একটি ছিল দারিদ্রপীড়িত অঞ্চলের অন্তত ১০০টি উপজেলা সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা। আরমা দত্ত আমায় বলছিলেন, আমরা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির একটি মিটিং করতে পারি। আমি মাননীয় মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলাম। তবে আলোচনা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী অন্যান্যবার বাজেটের আগে স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোর সাথে বা সভাপতির সঙ্গে আলোচনায় বসেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

    আমি বাজেটের বক্তৃতা উল্টেপাল্টে দেখলাম এবারের বাজেটে প্রতিবন্ধীদের ভাতার বিষয় সাদামাটা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রী আগেই বলেছিলেন তিনি অন্ততপক্ষে প্রতিবন্ধীদের বিষয় স্পষ্ট করে সামনে নিয়ে আসবেন। আমরা এখানে সেই পরিসংখ্যানের বিষয় সামনে আনতে পারিনি। আমরা শুধু ১৮ লাখ দেখতে পারছি কিন্তু পরিসংখ্যানের হিসেব করলে এক কোটির ওপরে দাঁড়ায়, সবাই জানেন।

    এবারের বাজেটে পরিসংখ্যান বিভাগকে যদি দায়িত্ব দেয়া হতো, প্রতিবন্ধীদের সঠিক সংখ্যা সামনে আনা যেত, তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যেত।

    এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে বরাদ্দ আছে তা কী কী কাজে ব্যবহার করা হবে তা ক্লিয়ার না। অংকের মধ্যে অনেক ফাঁকফোকর আছে। এক জায়গায় বলা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে, অন্য জায়গায় বলা হয়েছে ২৯ হাজার কোটি দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে এডিবি থেকে দুটো প্রকল্প নেয়া হয়েছে। হিসেব করে দেখলে দেখা যাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আসলে বরাদ্দ পেয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এখন এই টাকা স্বাস্থ্য খাতে কী হবে আর প্রতিবন্ধীদের জন্য কী হবে। যখন কর্মকৌশল নির্ধারণ করা থাকে না তখন সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা হয় না।
    এরপরেও আমি মনে করি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা যদি দেয়া যেত কোনো একটা ব্যবস্থা হতো। আমার কাছে মনে হয় না করোনা ও বাজেটের আলোচনার পরিস্থিতি যা ১৬ তারিখে শুরু হয়ে ২৩ তারিখে বন্ধ হয়েছে, মনে হয় না খুব একটা আলোচনা হবে।

    এই মুহূর্তে যেটা দরকার- প্রতিবন্ধীদের জন্য হটলাইন করা। অন্ততপক্ষে করোনা আক্রান্ত প্রতিবন্ধী চিকিৎসা সেবা পাবে। এছাড়া স্থানীয় সরকারকে বলে দেয়া যায় সরকার যে বরাদ্দ করছেন তা যেন প্রতিবন্ধীরা পায়। এই বিষয়ে স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন দেয়া যেতে পারে।
    এভাবে বলে না দিলে প্রতিবন্ধীরা পাবেন না। কারণ এমনিতে আমাদের অপ্রতুল যে সম্পদ দেয়া হয় তা যে কাড়াকাড়ি হয় স্বাভাবিক মানুষ নিতে পারেন না, আর প্রতিবন্ধীরা তো নিতেই পারবেন না।

    সেক্ষেত্রে আমি বলব, লকডাউনের মধ্যে খাদ্য বরাদ্দ বাস্তবায়ন করলাম কিন্তু সেখানে যেহেতু নির্দেশনা ছিল না, এই সুবিধা কিন্তু প্রতিবন্ধীরা পাননি। এখনও আমরা যে জোন ভিত্তিক লকডাউন করছি, কাউন্সিলরদের ভালোভাবে বলে দেয়া উচিৎ, সেই অঞ্চলের প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেয়া। আর কর্মসংস্থানের একটা বিষয় আছে, প্রতিবন্ধীদের সহজে কেউ চাকরিতে নিতে চান না। আমি মন্ত্রী থাকা অবস্থায় পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে কিছু লোক নিয়ে কিছু উৎসবের আয়োজন করে প্রতিবন্ধীদের চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই ক্ষেত্রে সরকারি বেসরকারি ক্ষেত্রে একটা হার বেঁধে দেয়া যেতে পারে, সেখানে প্রতিবন্ধীদের কোটা থাকবে।

    আমি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আমার মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব। তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। তখন এই আলোচনাগুলো আশা করি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে বিশেষ কয়েকটা বিষয় উঠে আসছে তা হলো হেল্পলাইন তৈরি করা, করোনায় কর্মহীন হচ্ছেন অনেকে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া, স্বাস্থ্য খাতের থোক বরাদ্দ ১০ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রতিবন্ধীদের জন্য কিছু আনা, প্রযুক্তির নানা প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করে তোলা।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি