• শিরোনাম

    বাজারে মূল্য না পাওয়ায় মজুতের ৫০ ভাগ আলু নিচ্ছে না কৃষক

    | ০৮ জানুয়ারি ২০১৮ | ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

    বাজারে মূল্য না পাওয়ায় মজুতের ৫০ ভাগ আলু নিচ্ছে না কৃষক

    হাজীগঞ্জ মান্নান কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া না কমানোর কারনে কয়েক হাজার বস্তা আলু পচে যাওয়ার উপক্রম
    বাজারে মূল্য না পাওয়ায় মজুতের ৫০ ভাগ আলু নিচ্ছে না কৃষক
    নিজস্ব প্রতিবেদক॥
    উৎপাদিত আলু নিয়ে বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক। অবিরাম বর্ষণে ক্ষেতের আলু এক দফা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবার আলুর মূল্য না পাওয়ায় কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু নিচ্ছে না কৃষক। অন্যদিকে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত হয়নি। আগে-ভাগে আলু এনে কী করবে কৃষক। এ কারণে চাঁদপুর জেলার ১১টি কোল্ড স্টোরেজে কৃষকের লাখ লাখ বস্তা আলু পড়ে আছে। আগামী দু’ সপ্তাহের মধ্যে এসব আলু বের করে না নিলে পঁচে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
    জানা গেছে, এ পর্যন্ত কৃষক তাদের মজুদকৃত খাওয়ার আলু মাত্র ৫০ ভাগ নিয়েছে। বাকী ৫০ ভাগ অর্থাৎ ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু কোল্ড স্টোরেজগুলোতে পড়ে আছে। যা বস্তায় প্রায় ৬ লাখ । সরকারিভাবে এসব আলু রপ্তানির দাবিও করেছে কৃষক। এ দিকে পাইকাররাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তারা ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে আলু ক্রয় করে কোল্ড স্টোরেজে রেখেছিল। কিন্তু দাম না পাওয়ায় এবার তারাও ক্ষতিগ্রস্ত।
    অপর দিকে দেশের সকল কোল্ড স্টোরেজের মালিকগন কৃষকের স্বার্থে ভাড়া কমিয়ে দেয়। কিন্তু হাজীগঞ্জ মান্নান কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ ভাড়া না কমানোর কারনে কৃষকগন কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু বের করতে পারছেনা। কারন আলুর বাজার দর থেকে মান্নান কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া প্রায় বস্তা প্রতি ১০০ টাকা বেশী। সে জন্য কৃষকগন কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু বের করছেনা। যার কারনে প্রায় ১০০০ হাজার কৃষকের কয়েক হাজার বস্তা আলু নস্ট হওয়ার পথে।
    হাজীগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, বাজারে প্রতি বস্তা আলু (৮০ কেজি) ৩০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর কোল্ড স্টোরেজের লেভার ও গাড়ি ভাড়াসহ প্রায় বস্তা প্রতি ৪০০টাকা পড়ে। সেজনই আমরা কোল্ড স্টোরেজ থেকে আলু বের করতেছিনা। এছাড়াও কোল্ড স্টোরেজে রাখা আলুর প্রতি বস্তাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কেজি কম আলু। এর একটি মাত্র কারন হলো এ কোন্ড স্টোরেজে ধারণ ক্ষমতা হলো ৬০ হাজার বস্তার। কিন্তু ধারণ ক্ষমতার ছেয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বস্তা আলু বেশি রাখার কারনে বস্তার ওজন কমে যায়। এতে দেখা যায় প্রতি বস্তাতেই ২০ থেকে ২৫ কেজি ওজন কমে গেছে। তাই যদি মালিক পক্ষ কোন্ড স্টোরেজের ভাড়া কিছুটা কমিয়ে দেয় তা হলে আমাদের ক্ষতির পরিমান কিছুটা কম হবে। সে জন্য আমরা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
    মান্নান কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার দিলিপ সাহা জানান, জেলার অন্যান্য কোন্ড স্টোরেজ থেকে আমাদের কোন্ড স্টোরেজের ভাড়া অনেকটাই কম। বাজারে আলু দাম কম হয়ে যাওয়ার কারনে কৃষকরা আলু বের করতেছেনা। কৃষকরা আলু না নিলে আমরা যতটুকু পারি বিক্রি করে দিবো। এ ছাড়া এ বছর আমাদের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছে। এর একটি মাত্র কারন কৃষকরা আমাদের কাছ থেকে যে ঋন নিয়েছে তা পরিশোধ করতে পারছেনা। এ ছাড়া কোল্ড স্টোরেজে থাকা আলু বিক্রি করে হয়তো লোকসান কিছু কমিয়ে আনা যাবে।
    মনোহরখাদি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক রুহুল আমিন সিদ্দিকী জানান, চাঁদপুর জেলায় ১১টি কোল্ড স্টোরেজে প্রায় ৫৫হাজার মেট্রিক টন খাওয়ার আলু মজুদ করেছে কৃষক। ২ মেট্রিক টন করে ৬ লাখ ৮০ হাজার বস্তা। গত সপ্তাহ পর্যন্ত মাত্র ৪৫ভাগ আলু কৃষক সংগ্রহ করেছে। তিনি আরো জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব আলু কৃষক সংগ্রহ না করলে পঁচে যাবে। এতে তারা আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মতলব দক্ষিণ মার্শাল এন্ড মমতা কোল্ড স্টোরেজ এর ম্যানেজার আনোয়ার পাটওয়ারী জানান, আলুর দাম না থাকায় তাদের কোল্ড স্টোরেজও এখনো ৫৫ভাগ আলু পড়ে আছে।
    পাইকারী বিক্রেতা হোসেন আহমেদ জানান, ‘আলু মৌসুমে ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকার সিসি ঋণ নিয়ে কৃষকের কাছ থেকে আলু ক্রয় করে কোল্ড স্টোরেজ রেখেছি। কিন্তু বর্তমানে আলুর দাম না থাকায় ১২ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। তিনি এখন ঋণ দিতে না পেরে দেউলিয়া হয়ে পড়ছেন।
    কৃষক মিজানুর রহমান জানান, এবার বৃষ্টিপাতে আলুর প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পর যে আলু হয়েছে তা কোল্ড স্টোরেজে রেখে দাম না পেয়ে আরো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এভাবে বার বার ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে তারা এবার আলু চাষ করবে কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এভাবে আলুতে ক্ষতি হতে হতে হতাশায় চাঁদপুরে তিনজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। অথচ সরকার আলুর ক্ষতিপূরণ বা ভুর্তুকি দিচ্ছে না। চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী আহমেদ জানান, এবার অধিক বৃষ্টির কারনে সকল ফসল রোপন ও কর্তন পিছিয়ে পড়ছে। কৃষক আগে-ভাগে আলু এনে কী করবে। বাজার মূল্য কম থাকায় খাবার আলু কোল্ড স্টোরেজ থেকে তারা মার্কেটিং এর জন্য হয়তো সংগ্রহ করছে না।
    হতাশার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ২০১৭ মওসুমে বাংলাদেশে বাম্পার ফলন অর্থাৎ প্রায় এক কোটি মেট্রিক টন আলু উৎপন্ন হয়েছে এবং ৩৯০টি হিমাগারে ৫৩ লাখ মেট্রিক টন আলু সংরতি হয়েছে। বর্তমানে বাজারে শাক-সবজির দাম বেশি থাকা সত্ত্বে¡ও হিমাগারে সংরতি আলু অন্যান্য বছরের তুলনায় অত্যন্ত কম পরিমাণে ও ধীরগতিতে নি¤œমূল্যে বাজারজাত হচ্ছে। এ পর্যন্ত সংরতি আলুর মাত্র ২০ শতাংশ বাজারজাত হয়েছে। তথাপি আলুর দাম ও চাহিদা সবচেয়ে কম ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। বিগত এক মাস ধরে হিমাগারগুলো থেকে আলু অত্যন্ত ধীরগতিতে বাজারজাত হচ্ছে যা অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক ও উদ্বেগজনক। অথচ আলু বাজারজাতকরণের সময়কাল মাত্র চার মাস। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে চলতি সালে ২০ থেকে ২৫ লাখ টন আলু অবিক্রীত ও উদ্ধৃত্ত থেকে যাবে।

     

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর