• শিরোনাম

    বছরের শুরুতেই সরব রাজনীতি

    | ০৭ জানুয়ারি ২০১৮ | ৯:০০ পূর্বাহ্ণ

    বছরের শুরুতেই সরব রাজনীতি

    বছরের শুরুতেই সরব রাজনীতি

    বিশেষ প্রতিনিধি

    দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চার বছর পূর্তিকে (৫ জানুয়ারির নির্বাচন) কেন্দ্র করে রাজনীতি হঠাৎ করেই সরব হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী বছরের শুরুতেই রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মধ্যে। অতীতের মতো এবারও রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির আশঙ্কায় রাজধানীতে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের সমাবেশ বা মিছিলের অনুমতি পায়নি বিএনপি। রাজনৈতিক কৌশলের কথা বলে ঘরোয়া কর্মসূচিও এড়িয়ে গেছে দলটি। পক্ষান্তরে রাজনৈতিক মাঠে বেশ চাঙা ক্ষমতাসীনরা। ৫ জানুয়ারির আগে ও পরে মিলে গত কয়েকদিন ধরেই নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাঠ দখলে রেখেছে তারা।

    ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পূর্তিকে কেন্দ্র করে গতকাল পর্যন্ত দেশে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। আওয়ামী লীগ দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে রাজধানীর বনানী ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছে। পরদিন শনিবার ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে। অপরদিকে, বিএনপি দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস উল্লেখ করে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ও দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করেছে। তবে বিএনপি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দলের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা এবং কয়েক জেলায় লাঠিপেটা করে কর্মসূচি পণ্ড করে দেওয়ার অভিযোগ করেছে।

    মূল কর্মসূচি নির্বাচন পূর্তির হলেও সে সব কর্মসূচিতে উঠে এসেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি। এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন সরকারের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা। গতকালও এ ধরনের পাল্টা বক্তব্য অব্যাহত ছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই এ বছরকে নিজেদের ও গণতন্ত্রের বিজয়ের বছর বলে দাবি করেছে। এই সরকারে অধীনে নির্বাচন বানচালে বিএনপির সক্ষমতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছে আওয়ামী লীগ। আবার বিএনপিও সংবিধানের কথা বলে একতরফা নির্বাচন না করতে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

    webnewsdesign.com

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পূর্তিকে কেন্দ্র করেই মূলত নির্বাচনী রাজনীতিতে পা দিল দেশ। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, রাজনীতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। বিশেষ করে সরকার বা ক্ষমতাসীনরা যে নির্বাচন প্রশ্নে কোনো পক্ষকেই কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার সুযোগ দেবে না—বছরের শুরুর রাজনীতি দিয়েই তা বুঝিয়ে দিল। কেননা ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে পেরে ওঠেনি বিরোধীরা। রাজনীতির মাঠ পুরোটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

    তবে ৫ জানুয়ারির ক্ষমতাসীনদের কর্মসূচি নিয়ে বিএনপির মধ্যে চাপা উত্তেজনা ও ক্ষোভ রয়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিএনপি জনসম্মুখে দাবি করতেই পারে যে, তাদের কোনো কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি বিভিন্ন স্থানে তাদের কর্মসূচিতে পুলিশের বাধাকেও ইস্যু করতে পারে তারা।

    বছরের শুরুতেই এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা উদ্বিগ্ন দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গতকাল রাজধানীতে এক সমাবেশে এ ব্যাপারে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, সহিংসতা রাজনীতি এড়াতে আগামী নির্বাচন সুন্দর অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পারে। তিনি সংবিধান মেনে নির্বাচনের পক্ষে তার মত ব্যক্ত করে বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের দায়িত্ব যেমন সরকারের, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোরও। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষ যেন দেশে সহিংসতা করতে না পারে, সরকারকে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

    ৫ জানুয়ারির কর্মসূচি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্তি উপলক্ষে হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সে নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুই দলই নিজেদের রাজনৈতিক শক্তির পরীক্ষাও দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের মনোভাব ব্যক্ত হয়েছে। এ জন্য দুই দলের নেতারাই পরস্পরকে লক্ষ্য করে নানা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।

    ৫ জানুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করলে বিরল প্রজাতির প্রাণীর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে আসতেই হবে। আর নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের জন্য হবে দ্বিতীয় আত্মহত্যা। তাদের পরিণতি মুসলিম লীগের চেয়েও খারাপ হবে। তিনি বিএনপি সতর্ক করে দিয়ে এমনও বলেন যে, এ নির্বাচন মিস করলে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও মিস হয়ে যাবে। এমনকি তিনি বিএনপির প্রতি কঠোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী, যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপনাদের (বিএনপি) ঠেকানোর সাধ্য থাকলে দেখান। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণ আপনাদের প্রতিহত করবে।

    অন্যদিকে, বিএনপি এ বছরকে নিজেদের বছর বলে দাবি করেছে। ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এক অনুষ্ঠানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০১৮ হচ্ছে খালেদা জিয়ার বছর, বিএনপির বছর। ২০১৮ সাল হচ্ছে জনগণের বছর, গণতন্ত্রের বছর। এমনকি নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগের পতন হবে বলেও দাবি করেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, নির্বাচন না দিয়ে আওয়ামী লীগ পুলিশ, র‌্যাব, বন্দুক-পিস্তলের সহায়তা নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে। নির্বাচন দিলে পরাজয় অবশ্যম্ভাবী হবে, আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে। পরদিন গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে সরকার গণতান্ত্রিক কর্মসূচি বানচাল করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

    অবশ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন বছরের শুরু থেকেই বিশেষ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছিল দুই দলই। আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা জানিয়ে ছিলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে না দলটি। বরং বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি যেমন সহিংস আন্দোলন কর্মসূচি দিয়েছিল, এবার সেই চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমনের নীতি নেবে সরকার। এমনকি বিএনপিকে আগামী নির্বাচনকালীন সরকারে রাখার বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে বিএনপিকে কোনো প্রস্তাব দেওয়ারও আগ্রহ নেই। আর এবার বিএনপি সংসদে না থাকায় নির্বাচনকালীন ছোট পরিসরের মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় এক-দুইজনের বেশি রাখার সুযোগও নেই। ফলে গত নির্বাচনকালীন সরকারে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিকে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা আগামী নির্বাচনে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

    একইভাবে নতুন বছরে নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে মাঠে নামার ইঙ্গিত দিয়েছিল বিএনপি। অতীতে ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে সেখান থেকে বেরিয়ে একেবারে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করতে চান দলের নেতারা। কোনো অবস্থাতেই তাড়াহুড়ো করে হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না দল। সরকার যত কঠোর অবস্থান নিক বা উসকানিমূলক কথা বলুক, আপাতত ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার কৌশল নিয়েছে। দলটি মনে করছে, নির্বাচনের এক বছর আগে হঠকারিতা করা যাবে না বা ভুল কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৫ জানুয়ারির রাজনীতির মধ্য দিয়ে দুই দলের পূর্ব ঘোষিত কৌশলের প্রতিফলন ঘটেছে। তবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। একদিকে যেমন সরকারকে বিরোধী দল বা রাজনীতির দমন-পীড়ন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে; তেমনি বিরোধী দলেরও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সদিচ্ছা থাকতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী, এবার বিএনপির নির্বাচনকালীন সরকার বা অন্যান্য দাবি মেনে নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে সমঝোতার মধ্য দিয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    চাঁদপুরসহ ২২ জেলায় নতুন ডিসি

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

    ভূয়া কবিরাজের কারিশমা‘

    ১৭ জানুয়ারি ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, কচুয়া, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, সদর, ফরিদগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাচন
    ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, কচুয়া, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, সদর, ফরিদগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাচন