• শিরোনাম

    প্রসঙ্গ: ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় ॥ পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে সরকার

    | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ

    প্রসঙ্গ: ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় ॥ পুনর্বিবেচনার আবেদন করবে সরকার

    অনলাইন ডেস্ক ॥ ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ে সংক্ষুব্ধ সরকার রায় পুনর্বিবেচনা বা রিভিউর আবেদন করবে। তবে তা কখন করা হবে, সে প্রশ্নে সরকার এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। তা ছাড়া আলাদাভাবে এক্সপাঞ্জ চাওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও সরকার সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় আছে। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা প্রধান বিচারপতির অবসরে যাওয়া এবং তার আগে আদালতের কার্যদিবস নিয়েও হিসাব-নিকাশ করছেন। দেওয়ানি কার্যবিধিতে অবশ্য রায়দানকারী বিচারকের কাছেই রিভিউর আবেদন করার বিধান আছে। আর রিভিউর আবেদন করার সময় হচ্ছে রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে।

    যোগাযোগ করা হলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রথম আলোর কাছে রিভিউর জন্য মূল রায়ের সার্টিফায়েড কপি চেয়ে সরকারের দরখাস্ত করার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু রিভিউ আবেদন কবে করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা রায় পরীক্ষা করে দেখছি।’ এক্সপাঞ্জের জন্য আলাদা দরখাস্ত, নাকি রিভিউর দরখাস্তের মধ্যেই এক্সপাঞ্জ চাওয়া হবে, এর উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি এ বিষয়ে আর যত প্রশ্নই করুন, রায় পরীক্ষা করে দেখা চলমান রয়েছে, এর বাইরে এ মুহূর্তে সরকারের বক্তব্য নেই।’

    সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার অবসরে যাওয়ার তারিখ বিবেচনা করে রিভিউ আবেদনের বিকল্পও সরকার ভাবনায় রেখেছে। এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের তিন জ্যেষ্ঠ নেতা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সাবেক দুজন আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু এবং শফিক আহমেদ বলেছেন, তাঁরা নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যেই রিভিউ চাওয়ার পক্ষপাতী। তবে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল বাসেত মজুমদার মনে করেন, প্রধান বিচারপতির অবসরের পরেই এর রিভিউ চাওয়া উচিত হবে। তাঁর মতে যেহেতু বিলম্ব মার্জনা করার বিধান আছে, তাই সরকারের উচিত হবে বিলম্ব মার্জনার আবেদনসহ রিভিউর সুযোগ নেওয়া। তাঁর কথায়, সাংবিধানিক আইন নয়, প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে রাজনীতির ছাপ বেশি। রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির বেশি বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তাই তাঁর অবসরে যাওয়ার পরেই রিভিউ চাওয়া সমীচীন হবে। বাসেত মজুমদারের মতে, রায় সম্পর্কে এ পর্যন্ত যা বলা হয়েছে, তা আবেগের বশবর্তী হয়ে বলা হয়েছে। এগুলো আদালত অবমাননাকর নয়।

    webnewsdesign.com

    অন্যদিকে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘যদি প্রধান বিচারপতির রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি রিভিউ বা এক্সপাঞ্জের যুক্তি হয়, তাহলেও বিচারকদের ওপর আমাদের আস্থা রাখতে হবে। আমি মনে করি, কোনো বিষয়ে যদি প্রধান বিচারপতির সামনে গ্রহণযোগ্য যুক্তি পেশ করা যায়, তাহলে তিনি তা বিবেচনায় নেবেন। প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে দেওয়া বিরুদ্ধ যুক্তির প্রতি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি নেবেন বলেই আমার বিশ্বাস।’

    শফিক আহমেদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সম্প্রতি তিনি, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও আবদুল মতিন খসরুর সঙ্গে প্রধান বিচারপতির যে কথা হয়, তাতে তিনি প্রধান বিচারপতিকে নমনীয় দেখেছেন। প্রধান বিচারপতি তখনই বলেছিলেন, যদি এক্সপাঞ্জ করার মতো এমন বিষয় থাকে, তাহলে রিভিউতে তার প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে।

    এর আগে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির আলোচনায় রিভিউর কথা এসেছে বলে জানা যায়। কোনো ধরনের সমঝোতার ইঙ্গিত আছে কি না জানতে চাইলে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মতিন খসরু বলেন, তাঁর সে রকম কিছু জানা নেই। এ বিষয়ে দলে কোনো বৈঠক হয়েছে বলেও তাঁর জানা নেই। আর দেওয়ানি বিধি অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করা উচিত কি উচিত নয়, এ প্রশ্নে আবদুল মতিন খসরু বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত মত হলো, রিভিউর দরখাস্ত প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কাছেই করতে হবে। তাঁর কথায়, বিচারকদের ওপর আস্থা রাখতে হবে।

    প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের আলোচনায় কোনো অগ্রগতি ঘটেছে কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেছিলেন, তিনি এ বিষয়ে ‘আপাতত কোনো মন্তব্য’ করতে চান না।

    সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের মুখপাত্র সাব্বির ফয়েজ প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত সার্টিফায়েড কপি চেয়ে দরখাস্ত করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কপি সরবরাহের রীতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে। ১ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় বেরোয়। ওই দিনই তা ওয়েবসাইটে বেরিয়েছে। কিন্তু রিট আবেদনকারী মনজিল মোরসেদ বলেছেন, তিনি ১৬ আগস্ট সার্টিফায়েড কপি পেয়েছেন।

    আপিল বিভাগের বিধিতে বলা আছে, ‘রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউর জন্য দরখাস্ত করতে হবে। এই মামলার রায় হয়েছে ৩ জুলাই। সেই থেকে ৩০ দিন শেষ হয় ৩ আগস্ট।’ এই মামলার দরখাস্তকারীদের অন্যতম আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি রায়ের ৩ দিন পরে দরখাস্ত করেছিলেন। তিনি কপি পেয়েছেন ১৬ আগস্ট। সেই হিসেবে তিনি রিভিউ চাইলে তাঁকে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। তাঁর কথায়, সরকারেরও ইতিমধ্যে সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার কথা। এর আগে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক জানিয়েছিলেন, ৩ জুলাই রায়ের তারিখেই তাঁরা সার্টিফায়েড কপির জন্য দরখাস্ত করেছিলেন।

    এ বিষয়ে আদালতের প্রচলিত রীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা ল রিপোর্ট (ডিএলআর) সম্পাদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, রেওয়াজ হলো মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা রায় ঘোষণার দিনেই সার্টিফায়েড কপির জন্য দরখাস্ত দিয়ে থাকেন। তারপর সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার অফিস যে তারিখে ওই কপি রেডি করেন, সেই তারিখ থেকে ৩০ দিন গণনা শুরু হবে।

    অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন অবশ্য বলেন, আপিল বিভাগ সুয়োমোটো, দরখাস্তে এমনকি ১০ বছর পরেও বিলম্ব মার্জনা করে রিভিউ শুনতে পারেন।

    প্রধান বিচারপতির শেষ কার্যদিবস ৩১ জানুয়ারি ২০১৮। তিনি অবসরে যাবেন ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। উল্লেখ্য, শফিক আহমেদ ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ দরখাস্ত করার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আদালতের ছুটি বিবেচনায় নেওয়া যায়। সামনে দীর্ঘ ছুটি রয়েছে। সুতরাং দরখাস্ত দিয়ে প্রয়োজনে শুনানির জন্য সময় চাওয়া যেতে পারে।

    প্রধান বিচারপতির অবসরে যাওয়ার আগে বেশি কার্যদিবস নেই। সুপ্রিম কোর্টের সামনে এ মাসে আর মাত্র ৫ কার্যদিবস আছে। এরপর ২৫ আগস্ট থেকে টানা দেড় মাস ছুটি চলবে। খুলবে ৩ অক্টোবর।

    বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী সম্পাদিত (২০০৮) দেওয়ানির কার্যবিধির (পৃ. ৬৫১, ডিএলআর) রুল ২ বলেছে, দরখাস্ত বিচারকের কাছেই করতে হবে, যিনি রায় বা আদেশ দিয়েছেন। এবং তাঁর উত্তরসূরির কাছে করা যাবে না। (দি অ্যাপ্লিকেশন মাস্ট বি মেড টু দ্য জাজ হু পাসড দি ডিক্রি অর অর্ডার, অ্যান্ড নট টু হিজ সাকসেসর।) রুল ২ বলেছে, ‘পর্যাপ্ত কারণ না দেখানো হলে আদালত রিভিউর দরখাস্ত নাকচ করবেন। রুল ৬ বলেছে, যখন কোনো মামলা একাধিক বিচারক শুনবেন, তখন যদি তাঁরা বিভক্ত হন, তাহলে রিভিউ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন