‘যেসব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সেসব জেলায় একটি করে সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষা খাতে সরকারের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার প্রসারে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে দেশে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরাই প্রথম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিই। আমরা ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১২টি নতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি ও ৪৪টি নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে দুটি নতুন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।’

উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘১৯৯৬ সালে আমরা সরকার গঠন করে শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিই। এর ফলে মাত্র দু বছরে স্বাক্ষরতার হার ৪৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫.৫ শতাংশে উন্নীত হয়। এ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ‘ইউনেস্কো স্বাক্ষরতা পুরস্কার ১৯৯৮’ লাভ করে। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি-জামাত জোট ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসে। স্বাক্ষরতার হার কমে ৪৪ শতাংশে নেমে আসে। ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করি। শিক্ষাখাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে বর্তমানে স্বাক্ষরতার হার ৭২.৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।’’

‘‘সরকার দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন বাজেটের ১০০ ভাগ এবং রাজস্ব বাজেটের ৯০ ভাগ প্রদান করে। তাই উচ্চশিক্ষা অন্যান্য দেশের মতো ব্যয়বহুল নয়। উচ্চশিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘এক্রিডিটেশন কাউন্সিল আইন’ পাস হয়েছে এবং শিঘ্রই এর কার্যক্রম শুরু হবে। সরকারের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে গৃহীত নীতির কারণে বর্তমানে উচ্চশিক্ষায় প্রায় ৩৩ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।’’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ২৬৫জন শিক্ষার্থীর হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন শেখ হাসিনা। মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে ২৬৫ জন মেধাবী ও কৃতী ছাত্র-ছাত্রীকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হচ্ছে। তোমাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। তোমরা তোমাদের মেধার স্বাক্ষর রেখে অনুষদের সর্বোচ্চ নম্বর/সিজিপিএ পেয়ে অর্জন করেছ এই সম্মানসূচক স্বর্ণপদক। বৃহত্তর জীবনে প্রবেশের প্রারম্ভে এই অর্জন তোমাদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে আরও উৎসাহ জোগাবে। তোমাদের এই অর্জনে তোমাদের পিতা-মাতা, শিক্ষকমণ্ডলী, বিশ্ববিদ্যালয়-সর্বোপরি দেশ ও জাতি গর্বিত।’

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর বা সিজিপিএ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ দিয়ে থাকে ইউজিসি। এবার যে ২৬৫ শিক্ষার্থীকে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক দেওয়া হচ্ছে, তার মধ্যে ২০১৫ সালের শিক্ষার্থী ১২৪ জন, ২০১৬ সালের ১৪১ জন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন