• শিরোনাম

    নড়বড়ে ভবন, আতঙ্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা

    | ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ | ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

    নড়বড়ে ভবন, আতঙ্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা

    মতলব উত্তর উপজেলায় ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ
    নড়বড়ে ভবন, আতঙ্কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা
    মতলব প্রতিবেদক॥
    দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে একটি বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে মাঠে। এতে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীর পাঠ ব্যাহত হচ্ছে।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, যেসব বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত, সেগুলোর তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।
    উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই উপজেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৮০টি। এর মধ্যে নাসিরারকান্দি, কেশাইরকান্দি, দক্ষিণ রামপুর, চরলক্ষ্মীপুর, ফতুয়াকান্দি, হানিরপাড়, ইমামপুর, মাইজকান্দি, গোলাপকান্দি, নয়াকান্দি, রসুলপুর, উত্তর লুধুয়া, উত্তর মান্দারতলী, পাঠানচক, হিজলাকান্দি, উত্তর ইসলামাবাদ, শিবপুর, মজলিশপুর, বিনন্দপুর, কলসভাঙ্গা, ভাটিরসুলপুর, সর্দারকান্দি, সুজাতপুর, ধনাগোদা, ছোট কিনারচক, পাঠানবাজার, ঝিনাইয়া, কলাকান্দা, সুগন্ধি ও দক্ষিণ উদ্দমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা প্রকৌশলীর (এলজিইডি) পরামর্শক্রমে ২০১২ সালে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় এসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে। এর মধ্যে রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি কয়েক বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। আর সব মিলিয়ে ১৮০টি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার।
    গত বৃহস্পতিবার পাঠানবাজার, দক্ষিণ উদ্দমদী, উত্তর লুধুয়া, উত্তর মান্দারতলী ও ভাটিরসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, এসব বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদ ও দেয়ালে বড় বড় ফাটল। ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। মেঝে ভাঙাচোরা। কিছু বিদ্যালয়ের মেঝে দেবে গেছে। এগুলোর জানালা-দরজা ভাঙা। সেখানে ঝুঁকি নিয়েই চলছে পাঠদান। আতঙ্ক নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ জন্য পাঠে অনেকেরই মনোযোগ নেই।
    পাঠানবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ হালিমা নাজনীন বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ২২৫ জন। শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও দেয়াল ভেঙে পলেস্তারা ও সুরকি নিচে পড়ছে। বিকল্প শ্রেণিকক্ষ না থাকায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে ঝুঁকি নিয়েই সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। নতুন ভবন চেয়ে শিক্ষা কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
    রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, ওই বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ। তিনটি শ্রেণিকক্ষের সব কটি পাঠদানের অনুপযোগী। বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন ও রুনা আক্তার বলেন, ২০১২ সালে ওই বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তখন থেকে খোলা মাঠে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। প্রয়োজনীয়সংখ্যক বেঞ্চ না থাকায় দাঁড়িয়েই করছে তারা। বিষয়টি শিক্ষা কার্যালয়ে জানানো হয়েছে।
    ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবরিনা বলে, ‘ক্লাসরুম ও বেঞ্চ না থাকায় আমাগো মাঠে দাঁড়াইয়া ক্লাস করা লাগে। বৃষ্টি ও রোদের সময় ক্লাস করা যায় না। অ্যামনে আমাগো পড়ালেহার ক্ষতি অইতাছে। আমাগো স্কুলে একটা নতুন বিল্ডিং দরকার।

     

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন