• শিরোনাম

    নিষিদ্ধ ফুড সাপ্লিমেন্ট

    | ১৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৩:০৫ অপরাহ্ণ

    নিষিদ্ধ ফুড সাপ্লিমেন্ট

    প্রেসক্রিপশনে না লেখার নির্দেশ
    নিষিদ্ধ ফুড সাপ্লিমেন্ট
    বিশেষ প্রতিবেদক॥
    বিদেশ থেকে আনা ফুড সাপ্লিমেন্ট (খাদ্য সম্পূরক) জাতীয় একটি ট্যাবলেটের দাম পড়ে সাত টাকা। আর ৩০ ট্যাবলেট প্যাকেটজাত বা কৌটা করলে মাত্র ২১০ টাকা দাম হওয়ার কথা। অথচ একটি কৌটার দাম নেওয়া হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। এমন তথ্যই জানালেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক পরিচালক। তিনি বললেন, এ ধরনের প্রতারণা থেকে ক্রেতাদের রক্ষা করতে ফার্মেসিগুলোয় ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা বিক্রি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে অধিদপ্তর।
    পাশাপাশি ফুড সাপ্লিমেন্ট প্রেসক্রাইব না করতে চিকিৎসকদের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও। গত ২৭ জুলাই অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, দশম জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ফুড সাপ্লিমেন্ট নামের আইটেম চিকিৎসক যেন ব্যবস্থাপত্রে না লিখেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তাই সব চিকিৎসককে তাদের ব্যবস্থাপত্রে এ জাতীয় ট্যাবলেট না লেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
    জানা গেছে, ফুড সাপ্লিমেন্ট সারা দেশে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নজরে আসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির। এগুলোর বেশিরভাগই নিম্নমানের, অনুমোদনহীন ও অবৈধপথে আনা, যা আকর্ষণীয় ও চটকদার মোড়কে প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়া হয়। তাই কমিটির ১৬তম বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। চিকিৎসকরা যেন ফুড সাপ্লিমেন্ট প্রেসক্রাইব না করে সেটিসহ মোট আটটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় ওই বৈঠকে। এসব আইটেমের রেজিস্ট্রেশন না দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে গত ২৯ জুন চিঠি দেওয়া হয়। ওই সুপারিশ পাওয়ার পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে। এর পরই ফুড সাপ্লিমেন্ট প্রেসক্রাইব না করতে চিকিৎসকদের প্রতি নির্দেশনা জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরও অভিযান চালিয়ে এসব ট্যাবলেট জব্দ করছে। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্যের কারণে ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। এখনো হাত বাড়ালেই মেলে নিষিদ্ধ এই আইটেম। জানা গেছে, সারা দেশের ওষুধের ফার্মেসিগুলোয় ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’, ‘ই’সহ মাল্টিভিটামিন বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জিংক, ফাইবার ও মিনারেল পাউডারও বিক্রি হচ্ছে ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে। চিনির বিকল্প হিসেবেও পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সুগার পাউডার। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এগুলোকে ওষুধ হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে ঠিক জায়গা করে নিচ্ছে।
    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যমান ওষুধ আইনানুযায়ী কোনো প্রকার ফুড সাপ্লিমেন্ট সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন, বিক্রয় ও বিতরণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু তা মানছেন না বিক্রেতারা। এগুলো কী উপাদানে তৈরি, তাও দেখার কর্তৃপক্ষ নেই। বাজারজাত করতেও অনুমোদন লাগছে না। ওষুধের দোকানে বা সামনের টেবিলে এসব সাজানো থাকে। কিন্তু দেশের চিকিৎসকরা তাদের ব্যবস্থাপত্রে বিভিন্ন ধরনের ফুড সাপ্লিমেন্ট জাতীয় আইটেম লিখে থাকেন। আর সে যুক্তি দেখিয়ে ফার্মেসিসহ বিভিন্ন দোকানে এসব বিক্রি করা হয়।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক পরিচালক বলেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা একটি ট্যাবলেটের মূল্য দাঁড়ায় সাত টাকা। এই দামের ৩০ ট্যাবলেট একটি কৌটায় ভরে ২১০ টাকায় বিক্রি করার কথা। কিন্তু চটকদার মোড়ক লাগিয়ে তা বিক্রি করা হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। এটি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কারণ চিকিৎসকদের অনেকেই উচ্চমূল্যের ফুড সাপ্লিমেন্ট জাতীয় পণ্য (স্টেরয়েড সমৃদ্ধ ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফুড সাপ্লিমেন্ট মিনারেল ও জিংক) প্রেসক্রাইব করে থাকেন। এতে চিকিৎসকদের মাধ্যমেই রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন।
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, ফুড সাপ্লিমেন্ট কোনো ওষুধ নয়, এটি রোগ নিরাময়ে কাজ করে না। এটি খাদ্যের সহায়ক হতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে ফুড সাপ্লিমেন্ট রোগ নিরাময় করে এমন কিছু ইন্ডিকেটর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ফলে এর অপব্যবহার হচ্ছে এবং দামও নেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি। অনেক চিকিৎসকই ওষুধের সঙ্গে ফুড সাপ্লিমেন্ট ও প্রেসক্রাইব করে থাকেন। ওই প্রেসক্রাইব নিয়ে রোগী যখন ফার্মেসিতে যান, তখন মূল ওষুধ না দিয়ে আগে ফুড সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। তখন রোগীরা মূল ওষুধ বাদ দিয়ে এ জাতীয় ট্যাবলেট খান। এতে রোগ নিরাময় হচ্ছে না। বিষয়টি সরকারের নজর পড়ার পরই এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
    ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রুহুল আমিন জানান, অধিদপ্তর থেকে ফুড সাপ্লিমেন্ট উৎপাদন, আমদানি ও বিক্রির কোনো অনুমোদন দেওয়া হয় না। কারণ এগুলো দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে, মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকি ১০ থেকে ১৫ টাকার জিনিস দিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা সেগুলো জব্দ করে আইনি ব্যবস্থা নেই। তবে যেসব ফুড সাপ্লিমেন্ট খাদ্যের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি না। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আছে, চিকিৎসকরা যেন ফুড সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার নির্দেশনা না দেন। ফার্মেসিতেও এসব সামগ্রী বিক্রি, প্রদর্শন ও মজুদ করা নিষিদ্ধ। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে ফুড সাপ্লিমেন্ট পাওয়া গেলে তা জব্দ করার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন