• শিরোনাম

    নিত্যপণ্যের দামে বছরজুড়ে ভোগান্তি

    | ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২:৪২ অপরাহ্ণ

    নিত্যপণ্যের দামে বছরজুড়ে ভোগান্তি

    নিত্যপণ্যের বাজারে কখনো চাল, কখনো পেঁয়াজ, কখনোবা রসুন নিয়ে ছিল অস্থিরতা
    নিত্যপণ্যের দামে বছরজুড়ে ভোগান্তি
    মুনছুর অহমেদ বিপ্লব॥
    বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে ছিল অস্থিরতা। কখনো চাল, কখনো পেঁয়াজ, কখনোবা রসুনে। কাঁচামরিচ-শাকসবজিও ছিল না পিছিয়ে। মাঝেমধ্যে পণ্যগুলোর দাম এক হয়ে কষ্টে ভুগিয়েছে সাধারণ মানুষকে। বাজারে গিয়ে চাহিদা ও সামর্থ্যরে মধ্যে তাল মেলাতে পারেননি তারা। অনেকের তিন বেলা প্রয়োজনীয় খাবার জোটাতেও হিমশিম খেতে হয়। আয়ের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে কাটছাঁট করতে হয় প্রতিদিনের বাজার তালিকা।

    এছাড়া তেল, আটার দামও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। দাম বাড়ার পেছনে সঙ্কটের চেয়ে ব্যবসায়ীদের কারসাজিই ছিল বেশি। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায় কয়েকটি পণ্য। কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ে প্রায় তিনশ’ শতাংশের মতো।

    এসব পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি। তবে কয়েকটি পণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল। এ চিত্র খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)। আসল চিত্র ছিল আরো নেতিবাচক। টিসিবির মূল্য সীমায় কোনো পণ্যই পাওয়া যায় না। টিসিবির মূল্যের সঙ্গে বাস্তবের বিস্তর ফারাক।
    ২০১৭ সালে ভোক্তাদের সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে চাল। বছরের শুরু থেকে পণ্যটির দাম বাড়তে থাকে।

    webnewsdesign.com

    ধীরে ধীরে তা আগুন লাগায় পরিবারের কর্তাব্যক্তির গায়ে। ৩৮ টাকার মোটা চাল বছরের শুরু থেকেই লাফিয়ে লাফিয়ে কেজিপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫২-৫৪ টাকায়। আর সরু চালের দাম ৭২-৭৪ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবির হিসাবে এখন চাল কেজিপ্রতি ৪০-৬৫ টাকা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩৮-৫৬ টাকা। বছরজুড়ে বেড়েছে ২-১১ টাকা। একইভাবে সাধারণ মানের নাজির ও মিনিকেট ৫৬-৬২ টাকা, যা আগে ছিল ৪৪-৪৮ টাকা। বেড়েছে ১২-১৪ টাকা। ভালো মানের নাজির ও মিনিকেট ৬০-৬৫ টাকা, যা আগে ছিল ৪৮-৫৬ টাকা। বেড়েছে ৯-১২ টাকা।

    মাঝারি মানের চাল ৪৮-৫৪, যা আগে ছিল ৪০-৪৫ টাকা। মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা ও চায়না ইরি ৪২-৪৬ টাকা, যা আগে ছিল ৩৫-৩৮ টাকা। বেড়েছে ৭-৮ টাকা। তবে সরকারি এ হিসাবের সঙ্গে বিরাট অসংগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে খুচরা ও পাইকারি বাজারে। এখানে টিসিবির ৫৬-৬৫ টাকার উন্নতমানের নাজির ও মিনিকেট পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬৬ টাকায়। এতেই পার্থক্য বেরিয়ে এলো কেজিতে ১-২ টাকা।

    আর খুচরাতে এ পার্থক্য আরো ভয়াবহ। খুচরা বাজারে একই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৮ টাকা।
    এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী সোহেল চৌধুরী বলেন, বছরের প্রথম দিকের কয়েকটি মাস দাম না বাড়লেও বাকি সব মাসে চালের দাম বেড়েছে। কখনো প্রাকৃতিক কারণ আবার কখনো কৃত্রিম উপায়ে অর্থাৎ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চালের দাম বাড়ানো হয়।

    তিনি আরো বলেন, সাফায়েত আটাশ চাল ডিসেম্বরে ছিল ৪১ টাকা। বর্তমানে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে এক বছরে এ চালটির দাম বেড়েছে ৭ টাকা। একইভাবে মান ও ধরন ভেদে প্রায় সব চালেরই দাম বেড়েছে।
    একই সূত্রে গাঁথা পেঁয়াজও। বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পোঁজের ঝাঁজ বাড়তে থাকে।

    বছরের শেষ দিকে এসে ঝাঁজ আরো বেড়ে গৃহিণীর চোখ দিয়ে পানি বের হতে থাকে। জানা যায়, চলতি বছর জুলাইয়ের শেষভাগে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকার ওপরে ওঠে। এরপর ভারত, মিসরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি বাড়ায় পেঁয়াজের দাম কয়েক মাস বাড়েনি। কোরবানি ঈদের আগে ও পরে কয়েক দফায় দাম বেড়ে এখন ৯০-১৩০ টাকা কেজি ছুঁয়েছে। এক বছরে এই পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৭০-১০০ টাকা। টিসিবির চার্ট অনুযায়ী বাজারে এখন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০-১২০ টাকা, যা গত বছরে ছিল ২০-৩০ টাকা।

    টিসিবির সূত্র অনুযায়ী এক বছরে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে ৬০-৯০ টাকা।
    রসুনের দাম মোটামুটি এখন নাগালের মধ্যে আছে। এখন দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ এবং ভারতীয় রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। গত বছরের এই সময়ে দেশি রসুন ১৪০-১৫০ এবং ভারতীয় রসুন ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে পণ্যটি ক্রেতাদের গায়ে আগুন লাগিয়েছিল। চলতি বছরের জুনে হঠাৎ কয়েক দফা দাম বেড়ে ৪০০ টাকা কেজি ছাড়িয়ে যায়।
    আলোচিত ছিল আটা ও ময়দার দামও। বছরের প্রথম দিকে কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও সেপ্টেম্বর থেকে দাম বাড়তে শুরু করে। রমজানের পরে বেড়ে যাওয়া আটা ও ময়দার দাম এক লাফে বেড়েছে কেজিপ্রতি ৬ ও ৫ টাকা। রোজার আগে খুচরা বাজারে আটার দাম ছিল ২৪ টাকা এবং ময়দার দাম ছিল ৩২ টাকা কেজি। পরে কয়েক দফা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩০ ও ৩৫ টাকা কেজি দরে।

    দাম বাড়ার তালিকায় আছে তেলও। এক বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৪-১৫ টাকা। গত বছরের অক্টোবরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছিল (প্রতি লিটার) ব্র্যান্ডভেদে ৯৪-৯৫ টাকা। এর কয়েক দিনের পর ছয়-সাত টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১০২ টাকা হয়। দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়। সে হিসেবে গত সপ্তাহেও বাজারে ব্র্যান্ডভেদে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যেত প্রতিলিটার ১০৫ থেকে ১০৭ টাকায়।

    কয়েক দফায় পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তেলের দাম লিটারে ৩-৫ টাকা বাড়িয়েছে। বর্তমানে বাজারে এক লিটার বোতলজাত তেলের দাম রাখা হচ্ছে ১০৭-১০৯ টাকা। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৬ থেকে ৯০ টাকায়। পাম তেল ৭২-৭৫ ও সুপার পাম তেল ৭৫-৭৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
    টিসিবির তথ্য মতে, দেশে গত এক বছরের ব্যবধানে বোতলজাত তেলের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ। সয়াবিন তেল (লুজ) এক বছরে প্রতিলিটারে বেড়েছে ৩.৬৬ শতাংশ। সয়াবিন (বোতল) ৫ লিটার বেড়েছে ১৪.২৯ শতাংশ। সয়াবিন (বোতল) ১ লিটার বেড়েছে ১৪.২৯ শতাংশ।

    এ ছাড়া পাম অয়েল (লুজ) এক বছরে বেড়েছে ৬.৭৭ শতাংশ। পাম অয়েল (সুপার) ১ লিটার বেড়েছে ৭.৯৭ শতাংশ।
    কাঁচা মরিচের ঝালে দিশেহারা ছিল মধ্যবিত্ত ও নি¤œ আয়ের মানুষ। রান্না ঘরের অত্যাবশ্যকীয় এই পণ্যটি বছরের শুরুর দিকে দাম কম থাকলেও বছরের মাঝামাঝি অবস্থায় ক্রেতাদের গায়ে আগুন ছড়িয়েছে।

    জানুয়ারি মাসে কেজি প্রতি ৪০ টাকা বিক্রি হলেও এপ্রিল মাস থেকে দাম বাড়তে থাকে। যা অক্টোবরে এসে দাড়ায় ২০০ টাকা কেজি। এদিকে বছরের দুই-তিন মাস সবজির দাম নাগালের মধ্যে থাকলেও বাকি নয় মাসই মানুষকে ভুগিয়েছে। ৬০ টাকা কেজির নিচে ছিল না কোনো সবজির দাম।
    এই প্রসঙ্গে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, পণ্যের দাম বাড়বে-কমবে এটাই নিয়ম। তবে কয়েকটি পণ্যের দাম কিছুটা বেশি বেড়ে গেছে। যেটা নি¤œ আয়ের মানুষকে বেশি ভুগিয়েছে।

    তবে গড় অনুপাতে সবারই আয় বেড়েছে। সে হিসেবে ব্যয় একটু বেশিই বেড়েছে। এছাড়া এখন আর কিছু মন্তব্য করতে চাই না। আগামী মাসে প্রথম সপ্তাহের ক্যাবের পক্ষ থেকে মানুষের সার্বিক আয় ও ব্যয়ের রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে, সেখানে বিস্তারিত জানানো হবে।

     

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর