• শিরোনাম

    নিখোঁজ আতঙ্ক : হয়নি রহস্যের কূলকিনারা

    | ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ

    নিখোঁজ আতঙ্ক : হয়নি রহস্যের কূলকিনারা

    ফিরে দেখা ২০১৭

    নিখোঁজ আতঙ্ক : হয়নি রহস্যের কূলকিনারা

    প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:৫২

    ‘নিখোঁজ’ আর ‘মুক্তিপণহীন অপহরণ’ রহস্যে কেটেছে ২০১৭ সাল। এ রহস্যের কোনো কূলকিনারা হয়নি আজও। শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক।

    বছরজুড়েই আলোচনায় ছিল এসব বিশিষ্ট ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। বছরজুড়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিখোঁজ হওয়ার অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেউ কেউ ‘গুম’ও বলছেন।

    আচমকা একটা আস্ত মানুষ ‘উধাও’ হয়ে যাওয়ার নেপথ্য কারণও উদ্ঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যদিও এসব ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকেই আঙুল তুলেছেন স্বজনরা। এদের অনেকেই বাড়ি ফিরেছেন, ফিরে মুখ খুলছেন না। তবে বাড়ি না ফেরার পাল্লাটাই ভারী।

    webnewsdesign.com

    এ বছর ‘নিখোঁজ’ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে এক সপ্তাহে তিনজন ফিরে এসেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন কল্যাণ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার ও সাংবাদিক উৎপল দাস।

    যদিও কল্যাণ পার্টির মহাসচিবকে উদ্ধার দেখিয়ে একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। তিনি এখন কারাগারে। এরআগে একইভাবে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ‘নিখোঁজ’ হওয়া আরো তিনজন পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের একের পর এক ফিরে আসার ঘটনায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।

    তথ্যমতে, গত চার মাসে শুধু রাজধানী থেকেই নিখোঁজ হয়েছেন ১৬ জন। গত ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কল্যাণ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আমিনুরসহ ১১ জন ফিরে এসেছেন কিংবা তাদের পাওয়া গেছে। যদিও নিখোঁজদের ফিরে আসার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ভূমিকাই নেই।

    যে ১১ জনকে পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে ছয়জন নিরাপদে বাসায় ফিরেছেন। অন্যদিকে পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখনো নিখোঁজ আছেন ছয়জন।

    সর্বশেষ গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে ব্যাংকের শ্যামলী শাখা থেকে গুলশানে যাওয়ার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন ব্র্যাক ব্যাংকের শ্যামলী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাইমুল ইসলাম সৈকত। পরদিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় জিডি করা হয়। এখনো সৈকতের কোনো খোঁজ পায়নি পুলিশ। রাজধানীর মিরপুর ২ নম্বর এলাকায় তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। দেড় বছর ধরে তিনি ব্র্যাক ব্যাংকে চাকরি করছেন। এদিকে সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান বিমানবন্দর থেকে বিদেশ ফেরত মেয়েকে আনতে গত ৪ ডিসেম্বর বিকেলে ধানমন্ডির বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। তিনি এখনো ফেরেননি।

    বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, গত ১০ বছরে ৫৪৫ জন ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৯৭ জনকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর চলতি বছরের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিখোঁজ হয়েছেন ৫৬ জন, যাদের ৩৯ জনের এখনো খোঁজ মেলেনি। ফিরে এসেছেন বা পাওয়া গেছে মাত্র ১২ জনকে। অন্যদিকে বিএনপি দাবি করছে, ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত তাদের দলের ২০২ নেতাকর্মী গুম হয়েছেন। মজার বিষয় হচ্ছে, নিখোঁজ কিংবা অপহরণের শিকার কারো জন্যই কোনো ধরনের মুক্তিপণ চাওয়া হয়নি। কয়েকজন লোক গাড়িতে তুলে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়; এরপর একটি বাড়িতে আটকে রাখে এবং এক দিন আবার গাড়িতে করে রেখে যায়—নিখোঁজ হওয়ার পর ফেরত আসা সবার বক্তব্যই এ রকম।

    সর্বশেষ ফেরত আসা শিক্ষক মুবাশ্বির হাসান সিজার ও সাংবাদিক উৎপল দাসসহ নিখোঁজ বা অপহরণের পর আবার ফিরতে পারা ব্যক্তিরা এর বাইরে তেমন কিছুই বলছেন না। তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তদন্ত করতেও বলছেন না কেউ। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিজে থেকে তদন্ত করছে না। এমনকি মুখ খুলছে না উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরাও। প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার স্বস্তি থাকলেও আবারও হারানোর শঙ্কা আছে তাদের মধ্যে। গত চার বছরে এমন ৩৫টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নিখোঁজ ব্যক্তি ফিরে এলেও এর সঙ্গে কারা জড়িত সে সম্পর্কে কিছুই জানাননি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সেসব ‘অপহরণের’ রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। ব্যতিক্রম হিসেবে নিখোঁজ অবস্থা থেকে ফেরত আসা কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার সংবাদ সম্মেলন করে কিছু অভিযোগ করেন। তবে তিনি নিজে থেকেই লুকিয়ে ছিলেন বলে দাবি পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি)।

    এ বছরের আলোচিত কয়েকটি ‘নিখোঁজ’ ঘটনা : এ বছরের ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান নিখোঁজ হন। তবে নিখোঁজ হওয়ার চার মাস পর গত ২২ ডিসেম্বর তিনি ফিরে এসেছেন । পুলিশের দাবি, তিনি পালিয়ে ছিলেন। মোবাইল ট্র্যাকিং করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ছুটি কাটাতে ঢাকায় এসেছিলেন কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইশরাক আহমেদ (২০)। গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে ধানমন্ডির স্টার কাবাবে খেতে গিয়ে নিখোঁজ হন। চার মাস হয়ে গেলেও মেলেনি তার সন্ধান। ৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্লাস নিয়ে রাজধানীর আইডিবি ভবনে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন নর্থ-সাউথ শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার। সেই থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গত ২১ ডিসেম্বর বনশ্রীর বাসায় ফিরে আসেন এই শিক্ষক।

    কাতার ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ছিলেন মারুফ জামান। গত ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বাসা থেকে মেয়েকে আনতে প্রাইভেট কারে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই নিখোঁজ হন। সেদিন আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি তার। পরদিন রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকা থেকে তার গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন বাসায় ফোন দেন মারুফ জামান। বলেন, কয়েকজন লোক বাসায় আসবে। তারা তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ ও ডেক্সটপটি নিয়ে যাবেন। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার আর কথা হয়নি। সেদিন দুপুরে তার মেয়ে সামিহা জামান ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এখনো বাড়ি ফেরেননি মারুফ জামান।

    গত ১০ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে হঠাৎ নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যান পূর্ব-পশ্চিমবিডিডটকম নামের একটি অনলাইন পোর্টালের সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস। নিখোঁজের কয়েকদিন পর টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে উৎপলের সন্ধান পাওয়ার গুজব শোনা গেলেও সেখানে পাওয়া যায়নি তাকে। অবশেষে গত ১৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভুলতা এলাকায় তাকে পাওয়া যায়।

    চলতি বছরের ৩ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টায় নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন বিশিষ্ট লেখক, কবি, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট ফরহাদ মজহার। নিখোঁজের পর তাকে অপহরণের অভিযোগ করে তার পরিবার। তবে সেদিন সন্ধ্যায় ফরহাদ মজহারকে খুলনার হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের পর শুরু হয় আসল নাটক। দীর্ঘ ১০ দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানায়, ‘ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছিলেন।’ এরপর ২৮ ডিসেম্বর মিথ্যা নাটক সাজানোর দায়ে ফরহাদ মজহার দম্পতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে পুলিশ।

    গত ২২ আগস্ট বনানী ওভারপাসের নিচে একটি মাইক্রোবাস থেকে থাকা বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী সৈয়দ সাদাত আহমেদকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। গত চার মাসেও খোঁজ মেলেনি সাদাতের।

    স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও বেলারুশের অনারারি কনসাল অনিরুদ্ধ রায়। ২৭ আগস্ট বিকেলে গুলশানের ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয় তাকে। তবে আকস্মিকভাবে কোনো পুলিশি সহায়তা ছাড়া অপহরণের ৭৯ দিনের মাথায় অজ্ঞাত স্থান থেকে বাড়ি ফিরেন তিনি। তবে তিনি কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে ফিরেছেন এ বিষয়টি এখনো রহস্যই রয়ে গেছে।

    ২৭ অক্টোবর রাজধানী থেকে নিখোঁজ হন নবগঠিত দল বাংলাদেশ জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি মিঠুন চৌধুরী এবং এই জোটের নেতা আশিক ঘোষ। একটি কালো গাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে দাবি করে পরিবার। প্রায় আড়াই মাসেও মেলেনি তাদের সন্ধান।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ