• শিরোনাম

    নামসর্বস্ব চায়না পণ্যে সয়লাব দেশ

    | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১:২৭ অপরাহ্ণ

    নামসর্বস্ব চায়না পণ্যে সয়লাব দেশ

    নামসর্বস্ব চায়না পণ্যে সয়লাব দে

    নামসর্বস্ব চায়না পণ্যে সয়লাব দেশ

    বিক্রেতাদের দিয়ে এজেন্টদের প্রতারণা

    নিজস্ব প্রতিবেদক

     প্রযুক্তির প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে রাজধানীতে চলছে নামসর্বস্ব চায়না পণ্যের ব্যবসা। প্রায় ২ কোটি মানুষের শহর ঢাকা। বিচ্ছিন্ন দু-একটি প্রতিবাদের ঘটনা ছাড়া ন্যূনতম প্রভাব ফেলে না এসব নামসর্বস্ব পণ্য বিক্রেতাদের ক্রেতা ঠকানোর প্রতারণার এ ব্যবসায়। এরা ফেসবুক পেজ কিংবা আইডি খুলে দেদার অনলাইনেও বিক্রি করছে এসব পণ্য।

    ক্রেতাসাধারণ পণ্যের ব্যবহার করে ঠকেছেন কিংবা প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পারেন তখন আর তাদের ফেসবুক পেজে বা আইডিতে খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ এসব ফেইক আইডি। ফেইক এসব আইডি দিয়ে অনলাইনে আর রাস্তার ধারে এবং নগরের অলিগলিতে চিৎকার করে করে পণ্যের সুবিধার জানান দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারণাব্যবসা। বিভিন্ন চায়না পণ্যের মধ্যে পোকা-মাকড় প্রতিরোধী বাতি বা অ্যান্টি ইনসেক্ট বাল্বও একটি।

    সম্প্রতি রাজধানীতে এ বাল্বের চাহিদা যেমনই থাকুক না কেন, রাস্তার পাশে কিংবা ফুটপাতে হামেশাই চলছে এ বাল্বের বিক্রি ও প্রচারণা। এসবকিছুর পেছনে রয়েছে চায়না থেকে আমদারিকারক এজেন্টরা। এরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে সাধারণ বিক্রেতাদের দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতা ঠকানোর এ ব্যবসা। এজেন্টদের শেখানো বুলিই ক্রেতাদের কানে পৌঁছে দিয়ে এসব পণ্য বিক্রি করছেন তারা। মূলত সাধারণ এসব বিক্রেতাদের ব্যবহার করে শুধু বিক্রিই নয়, সারাদিন চিৎকার করে এসব পণ্যের প্রচারও করায় তারা।

    প্রচারণায় বিক্রেতারা বলন এই বাতি জ্বালালে পোকা-মাকড় বিশেষ করে ছারপোকা ঘরে থাকবে না। উইপোকা, তেলাপোকা দূর
    হবে। ফুটপাথ দিয়ে যাওয়ার সময় এই সুরেলা হাঁক-ডাক গেঁথে যায় সাধারণ ক্রেতাদের মন-মগজে। উই-তেলা-ছারপোকায় অতিষ্ঠ সাধারণ ক্রেতারা সর্বউপদ্রবনাশক এমন আদর্শ দাওয়াইর লোভে পড়ে এসব কিনে নেন। কিছু দিন ব্যবহার করে প্রতারিত হওয়ার পর দোকানির সাথে তর্কবিতর্ক, এমনকি হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় অনেককেই।

    তাদের অভিযোগ এই বাল্ব নাকি মোটেই কোনো পোকা-মাকড় তাড়ায় না, আর দশটা বাল্বের মতো এটাও একটা সাধারণ বাল্ব। এদিকে, ছারপোকা তাড়ানোর কথা বলায় বেশ আগ্রহের সঙ্গে এ বাল্ব কেনেন মেস বাসায় থাকা লোকজন। তাদের মধ্যে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররা বেশিই আগ্রহী এ বাল্বের প্রতি। ছারপোকা তাড়াতে এরাই বেশি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে। কথা হয় মালিবাগের একটি মেস বাসার ভাড়াটে স্টামফোর্ড ইউনির্ভাসিটির ছাত্র খোরশেদ আলম রাসেলের সাথে।

    তিনি বলেন, ছারপোকা তাড়াতে এ বাল্বের ব্যবহার শুরু করি। কিন্তু ছারপোকাতো দূরের কথা উল্টো আমার চোখের ক্ষতি করছে এ বাল্ব। এ বাল্ব ব্যবহারে পর থেকে তার চোখব্যথা করে বলে জানান তিনি। প্রযুক্তির উৎকর্ষের এ যুগে এমন কথা কেন বিশ্বাস করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রযৃক্তিনির্ভর এ যুগে একটা বাল্ব পোকা-মাকড় তাড়াবে না, এটা অবিশ্বাস করার মতো লোক নেই বললেই চলে। সাধরাণত এসব পণ্যের ব্যবসা বেশিই চলে রাজধানীর গুলিস্তানে।

    এছাড়াও অন্য কয়েকটি এলাকায়ও এমন ব্যবসা চলমান রয়েছে। গুলিস্তানের ফুটপাতে ইনসেক্ট বাল্ব বিক্রি করেন এমন একজন দোকানি বলেন, একটি এন্টি ইনসেক্ট এনার্জি বাল্বে দশ রকমের সুবিধা রয়েছে। যেমন এই বাল্ব জ্বালালে মশা-মাছি ঘরে থাকে না। উইপোকা, তেলাপোকা, ইঁদুর, ছারপোকাসহ নানা ধরনের মারাত্মক পোকা-মাকড় তাড়াতে সাহায্য করে এ বাল্ব। শুধু তাই নয়, এ বাল্বে বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয়। প্রত্যেকদিন সন্ধ্যার পর দুই ঘণ্টা ঘরে জ্বালিয়ে রাখলে এর কার্যক্ষমতা বোঝা যায় বলেও জানান তিনি।

    তিনি আরো বলেন, এটা চায়না থেকে আনা হয়েছে। এজেন্টের মাধ্যমে আমাদের হাতে পৌঁছায়। ওনাদের কাছে শুনেছি এই বাল্ব জ্বালালে পোকা-মাকড় দূর হয়। তিনি দাবি করেন, এ বাল্বের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তিনি নিজেও এটা ব্যবহার করে দেখেছেন। এই প্রত্যক্ষ ব্যবহারকারীর কথা শুনে আপনারও অবিশ্বাস করার কোনো সুযোগ নেই। এই বাল্ব কিনে প্রতারিত হওয়া জহির নামের একজন আমার সংবাদকে বলেন, হকারদের কথায় বিশ্বাস করে মাস দুয়েক আগে গুলিস্তানের ফুটপাথ থেকে একটি এন্টি ইনসেক্ট এনার্জি বাল্ব কিনি ৬০ টাকা দিয়ে।

    তারা বলেছিল, এটা ব্যবহারে ঘরে মশামাছি থাকবে না। কিন্তু ব্যবহারের পর তার কিছুই দেখলাম না। সোহাগ নামের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র জানান, আমিও একটি এন্টি ইনসেক্ট বাল্ব কিনেছিলাম। ভেবেছিলাম মশার কয়েল কেনা লাগবে না। পরে দেখলাম মশামাছি-পোকামাকড় তাড়াতে এ বাল্ব কোনো কাজই করে না বরং চোখব্যথা করে। এখন আর এ বাল্ব ব্যবহার করি না।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ