• শিরোনাম

    ধর্ষণ করে, চোখের সামনেই স্বামী ও পাঁচ সন্তানকে হত্যা করে সেনারা

    | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৬:০২ অপরাহ্ণ

    ধর্ষণ করে, চোখের সামনেই স্বামী ও পাঁচ সন্তানকে হত্যা করে সেনারা

    অনলাইন ডেস্ক ॥ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্য এক রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষণ করে চোখের সামনেই তার স্বামী ও পাঁচ সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা করে, ঘর পুড়িয়ে ফেলেছে। তাতেও ক্ষান্ত হয়নি সেনারা। ধর্ষণের পর গুলি করে কুপিয়ে আগুনে ফেলে দিলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি। গুলির ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তে এসে সেনাদের নির্যাতন থেকে একটু রক্ষা পেয়েছেন এ নারী।

    ১০দিন হলো পাহাড় ও নদীপথের দুর্গমপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন ৪০ বছরের এ নারী। চোখেমুখে অশ্রুর ছাপ। সব হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব। স্বজন হারোনোর যন্ত্রণায় কিছুক্ষণ পরপরই কেঁদে উঠছেন তিনি। তুলাতুলি গ্রামের আলমাস খাতুনের ঠিকানা এখন কক্সবাজারের উখিয়ার থ্যাংখালীর তাসমিয়া খোলা ৬নং আশ্রয়কেন্দ্রে।

    হাতে, গলায় বেনডিস, শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গে ক্ষতের দাগ। মাথায় হলুদ রঙ্গের ওড়না। হাটছেন খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে। এ অবস্থায় আলমাস খাতুনের সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ঈদুল আজহার তিন দিন আগে গত ৩০ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার তুলাতুলি গ্রামসহ তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা খালের কাছে বালুর চর নামক এলাকায় জড়ো হয়। এলাকাটি ঘিরে রাখা সেনাসদস্যরা তাদের সেখানে জড়ো হতে বলেছিল। গ্রামের এক রাখাইন জনপ্রতিনিধি তাদের সেখানে যেতে বলেন। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কারও কোনো ক্ষতি করা হবে না। কিন্তু গ্রামবাসী সেখানে সমবেত হওয়া মাত্র সেনাসদস্যরা সেই জায়গা ঘিরে ফেলে গুলিবর্ষণ শুরু করে। যারা গুলিতে মরেনি, তাদের জবাই করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ড থেকে ভাগ্যচক্রে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া এই নারী বলছেন, ওই দিন সেখানে গ্রামের বেশির ভাগ লোককেই মেরে ফেলা হয়েছে।

    webnewsdesign.com

    এ অসহায় মহিলা বলেন, আমার চোখের সামনে আমার স্বামী এবং পাঁচ ছেলে-মেয়েকে গুলি করে, আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে সেনারা। এর আগে আমাকে ৭ জন সেনা ধর্ষণ করে মেরে ফেলার জন্য ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুড়িয়ে দিয়েছে আমার শরীর। আমার হাতে গুলিও করেছে। গলায় ছুরি দিয়ে জাবাই করারো চেষ্টা করেছে। এ অবস্থা সেনারা ভাবছে আমি মরে গেছি। এমন দুর্বিষহ মুহূর্তে আল্লাহর ইশারায় আমার হুশ ফিরে আসে। বেঁচে থাকা আমার গ্রামের অন্য ৫ জন মহিলার সাথে বাড়ির পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেই, অসুস্থ শরীর নিয়ে সাতদিন পায়ে হেঁটে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়।

    তিনি আরো বলেন, আমি দেখেছি সেনাপোশাক পরা একদল লোক গ্রামের মানুষকে গুলি করে, জবাই করে এবং ধর্ষণের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।

    নাফ নদীর এক পারে কক্সবাজারের টেকনাফ, অন্যপারে রাখাইনের মংডু শহর। এই নদীর পাঁচটি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গারা রাখাইন থেকে বাংলাদেশের টেকনাফে প্রবেশ করছে। এগুলো হলো টেকনাফের নাইট্যংপাড়া, নয়াপাড়া, শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া, হারিয়াখালী ও ঘোলারচর। এ ছাড়া উখিয়ার পালংখালীর আঞ্জুমান পাড়া, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করে বাংলাদেশে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন