• শিরোনাম

    দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল

    | ০২ জানুয়ারি ২০১৮ | ১:০৪ অপরাহ্ণ

    দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল

    বিদায়ী বছরে নিহতের সংখ্যা ৫৬৪৫

    দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল

    নিজস্ব প্রতিবেদক

     বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় যত প্রাণহানি ঘটে, পৃথিবীর কোনো দেশে যুদ্ধেও এত মানুষ মারা যায় না। বিভিন্ন সংস্থার হিসাব মতে, গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে লক্ষাধিক লোক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে এ সংখ্যার আরও বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দিক থেকে এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। আর বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। বিশেষজ্ঞদের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে এর সমাধানে এখনই জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা দরকার।

    প্রতিদিনই যন্ত্রদানবের হত্যার শিকার হয়ে দেশের বহু জ্ঞানী-গুণী, বুদ্ধিজীবী, নিষ্পাপ শিশু থেকে বৃদ্ধ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে অনেককেই। বিজ্ঞমহল বলেছেন, দুর্ঘটনার জন্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এবং পুলিশ অনেকাংশে দায়ী। রাজধানীর একমাত্র জাতীয় অর্থপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে প্রতিনিয়ত চিকিৎসাধীন রোগীর বেশিরভাগই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার বলে জানিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসকরা। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) বার্ষিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন ১৭-তে উল্লেখ করা হয়েছে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা ২৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬ সালের সারা দেশে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ৪ হাজার ১৪৪ জন। ২০১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৪৫ জনে।

    সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)র চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে ২০১৭ সালে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। সংগঠনটির জরিপ অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে মোট ৩ হাজার ৩৪৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সড়কপথে ৩ হাজার ১৩১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৯৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৭৩৬ জন। রেলপথে ১৪৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২০১ জন। আহত ১১৭ জন। নৌপথে ৩৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ৫৫ জন আহত হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের চেয়ে ২০১৭ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৩৩টি। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ হাজার ৯০৮ জন, যা ২০১৬ সালের চেয়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

    বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সূত্র মতে, বিগত ১৯৯৪ সাল থেকে গত ২০১০ পর্যন্ত ১৭ বছরে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৭০ হাজার ৫০৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫০ হাজার ৫৪৪ জন নিহত এবং বহু লোক আহত হয়। এদিকে অন্যান্য সংস্থার সূত্রমতে, ২০১১ সালে সারা দেশে ৩ হাজার ২০৮ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১২ সালে প্রায় ৩ হাজার। এছাড়া ২০১৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫ হাজার ৯২৮, ২০১৫ সালে ৮ হাজার ৬৪২ জন, ২০১৬ সালে ৪ হাজার ১৪৪ জন এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে ৫ হাজার ৩৯৭ জন। জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক পরিচালক জানান, সেখানের আউটডোরে গড়ে সাড়ে ৩-৪শ এবং ইমার্জেন্সিতে দেড় শতাধিক রোগী আসেন। এসব রোগীর শতকরা ৫৫ থেকে ৬০ ভাগই বিভিন্ন ধরনের সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। তাদের চিকিৎসার পেছনেও স্বাস্থ্য খাতে সরকারের একটি বড় অংশ ব্যয় হয়। কাজেই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা উচিৎ।

    দুর্ঘটনা রোধে সক্রিয় সংগঠন অটোমোবাইলস ম্যাকানিক্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি খালিদ হোসেন বুদ্ধ বলেন, প্রতিবছর গাড়ি বেড়েছে। কিন্তু চালক বাড়েনি। দক্ষ চালক তৈরি হচ্ছে না। বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। মরছে মানুষ। লাইসেন্স বিহীন ও অবৈধ লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো, চালকের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব, যেখানে সেখানে পার্কিং, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, চালকের মোবাইল ফোনে কথা বলা, সিগারেট টানা, চালক দিয়ে অতিরিক্ত সময় ডিউটি করানো, ঘুমঘুম চোখে গাড়ি চালানো, সময়মত গাড়ির মেরামত না করানো, হ্যান্ড ব্রেক ঠিক না থাকা, গাড়ির সামনে রাবারিং চাকা, পেছনের ব্রেক লাইট ঠিক না থাকা, লুকিং গ্লাস না থাকা, হলুদ দাগের বাইরে গাড়ি চালানো, হেড লাইটের অর্ধেক অংশে কালো রং না করা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়ী। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির খুবই কম।

    এ প্রসঙ্গে রাজউক পরিচালক (প্রশাসন) ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার নিহতের ক্ষেত্রে ৩০৪/বি ধারামতে দায়ী চালক বা ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩ বছর এবং গুরুতর আহত বা পঙ্গু হবার ক্ষেত্রেও ৩ বছর জেল কিংবা ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। দুই ধরনের মামলাই জামিনযোগ্য বলে কাউকে জেলে থাকতে হয় না। আবার প্রয়োজনীয় সাক্ষীর অভাব, দীর্ঘসূত্রতার কারণে আদালতে যেতে অনীহা, জামিন নিয়ে দোষীদের পালিয়ে থাকার কারণে এ ধরনের মামলা থেকে ক্ষতিগ্রস্তরা অনেক সময় বিচারবঞ্চিত হন। এ ক্ষেত্রে ১ কিংবা ২ মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব মামলা নিষ্পত্তির বিধান করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন