• শিরোনাম

    থামছেই না মা’র হাতে সন্তান হত্যা

    | ২৮ জানুয়ারি ২০১৮ | ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ

    থামছেই না মা’র হাতে সন্তান হত্যা

    থামছেই না মা’র হাতে সন্তান হত্যা

    নিজস্ব প্রতিবেদক,

     প্রেমিককে সঙ্গী করে মা গলাকেটে হত্যা করেছে তার নিজের সন্তান। পরনারী আসক্তে পিতা নিজের শিশু সন্তানকে গলাটিপে বা আঁচড়ে হত্যা করেছে। কী মর্মান্তিক দৃশ্য। একজন বাবা কিংবা মায়ের এ ধরনের অনৈতিক সম্পর্কে নিষ্ঠুর বলি হচ্ছে তাদের অবুঝ শিশু। অথচ এ ধরনের ঘটনার পরেও কারো মনে নেই কোনো অনুশোচনা।
    বরং হত্যার ঘটনা আড়াল করতে সন্তানের রক্ত ঝরানো লাশের পাশে শারীরিক সম্পর্কের কথাও নির্দ্বিধায় প্রকাশ করেছে ঘাতক মা। অথচ নিজের সন্তানকে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার খবরে জাতির বিবেককে পর্যন্ত নাড়া দিচ্ছে।
    নারী-পুরুষের অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনাকে সামাজিক ব্যাধি উল্লেখ করে সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালবাসা ও বিশ্বাসের ঘাটতি, অবাধ মেলামেশা, মুঠোফোন, ভীনদেশি আকাশ সংস্কৃতি, যৌথ পরিবারের অনুপস্থিতি, পরিবারে ধর্ম ও নৈতিকতা চর্চার অভাব ও সামাজিক অবক্ষয় এর জন্য দায়ী। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১০ সালের জুন মাসে রাজধানীর আদাবরে বিষ মিশ্রিত জুস খাইয়ে ৬ বছরের সামিউলকে হত্যা করে শিশুটির মা এশার প্রেমিক বাক্কু।
    এশার পরিকল্পনায় বাক্কু শিশুটিকে হত্যার পর স্থানীয় একটি খালি প্লটে বস্তায় ভরে সামিউলের লাশ ফেলে দেয়। সেই সামিউল থেকে শুরু হলেও এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। জুরাইনে স্বামীর পরকীয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে দুশিশু সন্তানসহ মায়ের আতœহনন, কমলাপুরে একইভাবে দুশিশু সন্তানসহ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় আজো মানুষ আঁতকে ওঠে।
    সন্তানতুল্য কলেজছাত্র পরকীয়া প্রেমিক নিয়ে দুইসন্তানের জননীর স্বামীকে খুনের মতো ঘটনা ঘটছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, দেশে পারিবারিক হত্যাকা- আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী  বলেন, মায়ামমতা এমনিতেই কমে গেছে। মাতৃত্ব এখন আগের জায়গায় নেই। মাতৃত্বরূপ পরিবর্তন হয়ে গেছে। আজকাল কিছু মেয়েদের অর্থলোভ, ফ্যাশন, অলংকারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। নিত্যনতুন মাত্রায় আবির্ভূত হচ্ছে পাপাচার। অবাধ মেলামেশা এবং যৌনাচার বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, মাতৃত্ব আগে যেভাবে ছিল এখন সেভাবে নেই। আগে ভূমিষ্টকালীন দীর্ঘ যন্ত্রণার পর সন্তানের ওপর মায়ের যে মমতাবোধ ছিল এখন আধুনিক জন্মদান পদ্ধতির কারণে মায়েদেরও সন্তানের প্রতি মমতা কমে গেছে। এগুলো রোধ করতে হলে মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের সোস্যাল মুভমেন্ট তৈরি করতে হবে। জানতে চাইলে স্বদেশ মানবকল্যাণ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট লায়ন আবদুস সালাম বলেন, পরিবার হল মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। কিন্তু এখন পরিবারের মধ্যেও নিরাপত্তা খুঁজে পাওয়া দায় হয়ে পড়েছে। কেন জানি মানুষের মন থেকে স্নেহ, মায়ামমতা হ্রাস পাচ্ছে। যে কারণে আপনজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া স্বামীর অনুপস্থিতি, যৌথ পরিবারের অভাব, স্ত্রীদের অধিক ক্ষমতায়ন পরকীয়ার অন্যতম কারণ। কিন্তু পরকীয়ার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সন্তান। ফলে জীবন দিয়ে খেসারত দিতে হচ্ছে ওই সন্তানকে।

    কেস স্ট্যাডি-১ : ঘটনা গত সপ্তাহের। ডিশ সংযোগ প্রতিষ্ঠানের কর্মী মামুন। ২৭ বছরের ব্যক্তি পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করেছেন বছর চারেক আগে। সুন্দরী স্ত্রী সান্তনাকে নিয়ে ওঠেন ঢাকার সবুজবাগে। ঘর আলো করে আসে তাদের প্রথম সন্তান মাহফুজা। ২ বছরের শিশু মাহফুজা এবং স্বামীকে নিয়ে ভালোই কাটছিলো সান্তনার। কিন্তু হঠাৎই যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়ে মাথায়। সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। মাস তিনেক আগে গাইবান্ধা থেকে বোন-দুলাভাইয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন সান্তনার ছোট বোন স্বর্ণা। প্রথম দিকে দুলাভাইয়ের সঙ্গে আদরের শ্যালিকার একটু একটু করে রসালো আলাপ। শ্যালিকার নানা বায়না। দুলাভাইয়ের দুষ্টুমী। ততদিনে টিনএজার শ্যালিকা দুলাভাইকে তুষ্ট করতে বিলিয়ে দেয় নিজের সবটুকু। সেখানেই শেষ নয়। দখল করতে চায় তার বোনের স্থান। স্বামীর সঙ্গে বোনের আচরণে সন্দেহ হলে বোনকে বাড়িতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন সান্তনা। মাকে নিয়ে আসেন ঢাকায়। কয়েকদিন আগে গ্রামের উদ্দেশ্যে মায়ের হাতে বোনকেও তুলে দেন। গাবতলী থেকে গাইবান্ধার বাসে শাশুড়ি ও শ্যালিকাকে তুলে দেওয়ার কথা বলে মামুনও সঙ্গে যান। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শ্যালিকা-দুলাভাই লাপাত্তা। বৃদ্ধা শাশুড়ি একাকি খুঁজতে থাকেন মেয়ে জামাইকে। ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন সবুজবাগে মেয়ে সান্তনার বাসায়। সান্তনার বুঝতে আর বাকি রইলো না কিছুই। চোখে চলে আসে পানি। নিজের বোন হয়েও বোনের সংসারে ভাঙ্গন ধরাবে স্বর্ণা! চরম এ বাস্তবতা মেনে নিতে পারেনি সান্তনা। স্বামীর চলে যাবার একদিন এক রাত পার। মোবাইল ফোন বন্ধ। এরপর গত মঙ্গলবার সকাল। সবুজবাগের আহমেদবাগ ৩৬/৩/সি টিনসেড কলোনী থেকে চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে প্রতিবেশির। সান্তনার রুমে ছুটে যায় সবাই। দেখতে পান মা ও মেয়ে মাহফুজা ঝুলছে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে। পুলিশ এসে তাদের লাশ উদ্ধার করে। ওই দিনই সন্ধ্যায় স্বামী মামুন ও শ্যালিকা স্বর্ণাকে উত্তরখান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সবুজবাগ থানার ওসি আবদুল কুদ্দুস ফকির বলেন, সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
    কেস স্ট্যাডি-২ : চলতি সপ্তাহের প্রথদিকের ঘটনা এটি। ঘটনাটি নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারের। মা রহিমা বেগমের সঙ্গে কাঠমিস্ত্রি কবিরের অঙ্গরঙ্গ দৃশ্য দেখতে পায় ৭ বছরের শিশু সুরাইয়া। এই মেলামেশাই কাল হল মাদ্রাসা শিশু ছাত্রী সুরাইয়ার। হঠাৎ একদিন খোঁজ নেই সুরাইয়ার। সবাই জানে শিশুটি নিখোঁজ। সাধারণ ডায়েরিও করা হয় স্থানীয় থানায়। নিখোঁজের ১৩ দিন পর পাশের স্কুল সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে অর্ধগলিত সুরাইয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত নেমে পুলিশ সুরাইয়ার মা এবং প্রেমিক কবিরসহ চার জনকে গ্রেপ্তর করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে পড়ে ঘটনার রহস্য। গত শনিবার আড়াইহাজার থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত শিশুটির বাবা অহিদ পেশার কারণে ঢাকায় থাকেন। এ সুযোগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের কবির হোসেনের সঙ্গে নিহতের মা রহিমা বেগমের পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মায়ের সঙ্গে কবিরের অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা দেখে ফেলায় ওই দুজন মিলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।
    কেস স্ট্যাডি-৩ : গত বছরের নভেম্বর মাসের ঘটনা। বাড্ডায় খুন হন বাবা-মেয়ে। চাঞ্চল্যকর এ জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটনে বেশি বেগ হতে হয়নি পুলিশকে। নিহত জামিল খানের স্ত্রীর আচরণই রহস্য উদঘাটনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। উত্তর বাড্ডার একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও ২ সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন জামিল। পাশেই সাবলেটে থাকতেন ড্রাইভার শাহীনের পরিবার। কোনো এক সময় শাহীনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন জামিলের স্ত্রী আরজিনা। দীর্ঘদিন ধরে তাদের শারীরিক সম্পর্ক চলছিল। এরপরেও শাহীনের সঙ্গে ঘরবাঁধার আশায় স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে আরজিনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ। এক রাতে শাহীনকে নিয়ে ঘুমন্ত জামিলকে হত্যা করে আরজিনা। খুনের সময় বাবার গোঙ্গানি শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায় মেয়ে নূসরাতের। তাই তাকেও হত্যা। ঘটনাটি ডাকাতি বলে চালিয়ে দিতে নূসরাতকে প্রথমে ধর্ষণ করে শাহীন। পরে গলা টিপে হত্যা করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অকপটে এ হত্যার বর্ণনা দেয় শাহীন ও আরজিনা।
    কেস স্ট্যাডি-৪ : প্রেমিককে নিয়ে স্বামী ও মেয়েকে খুন করে রোশনা। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের হাওর এলাকা পুটামারার ঘটনা এটি। প্রেমিক মখনের সঙ্গে রোশনার কু-কর্ম দেখে ফেলেছিল মেয়ে রুলি বেগম। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ। মাকে করে তিরষ্কারও। সেই থেকে মেয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল রোশনা। প্রেমিক মখনকে নিয়ে করে খুনের পরিকল্পনা। এরপর হাওরের অথৈ জলে রোশনার সামনেই মেয়ে রুলি ও স্বামী আব্দুস সালামকে খুন করে মখন ও তার সহযোগীরা। আলোচিত এ জোড়া খুনের পর রোশনা মখনের সঙ্গেই ঘর সংসার শুরু করে। ঘটনার ৮ মাসের মাথায় আলোচিত এ জোড়া খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে পিবিআই। গত বছরের ১০ এপ্রিল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ উত্তরপাড়ার চান মিয়ার বাড়ি থেকে রোশনা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক মখন মিয়াকে একই কক্ষ থেকে আটক করে পুলিশ। পরদিনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় তারা।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ