• শিরোনাম

    জন্ম যৌনপল্লীতে, স্বপ্ন বলিউডের

    | ৩০ অক্টোবর ২০১৭ | ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

    জন্ম যৌনপল্লীতে, স্বপ্ন বলিউডের

    জন্ম যৌনপল্লীতে, স্বপ্ন বলিউডের

    নিজস্ব প্রতিবেদক দৌলতদিয়া থেকে ফিরে
    জন্ম যৌনপল্লীতে, স্বপ্ন বলিউডের

    ‘অভিনয় আমার খুবই ভালো লাগে। সৃষ্টিশীল অভিনয়ের মধ্যে নিজের ভেতরের কথা প্রকাশ করা যায়। বাইরের হাসি-কান্না ভেতরের হাসি-কান্নার প্রতিনিধিত্ব করে। শৈশব থেকেই নানা অনুষ্ঠানে অভিনয় করে আসছি। ঢাকায় গিয়ে শিল্পকলায় অভিনয় করে আমার টিমকে প্রথম করেছি। আমার স্বপ্ন বলিউডে অভিনয় করার।’

    জীবনের রঙ যেখানে নিত্যদিন ফিকে হয়ে আসে, সেখানে জন্ম নিয়েই রঙিন স্বপ্নে বিভোর চৌদ্দ বছরের কিশোর ফারহান আহম্মেদ ইয়াসিন। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাটের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীকে ‘নরক’ জানে সে। অথচ ওই নরকেই তার জন্ম। ফারহানের বেড়ে ওঠা এই যৌনপল্লীতেই। মায়ের অভিশপ্ত জীবন ফারহানকে পীড়া দেয় প্রতিক্ষণ। শেল হয়ে বিঁধে। তবুও মায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ফারহানের। মাকেই স্বর্গ জানে সে। মা-ও ভালোবাসার চাদরে আগলে রাখেন ফারহান-রাহিম-ফাতেমা জেনিন নামের তিন সন্তানকে।

    ফারহান দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ছে। মৃদুভাষী, ভদ্র, বিনয়ী অথচ প্রবল স্পৃহা ওকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে দিনে দিনে। ছিমছাম গড়ন, ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বায় নজর কাড়বে যে কারোরই। স্কুলের সবাই এক নামে চেনে ওকে। বিশেষত অভিনয়ের এতটুকু বয়সেই পল্লী ও পল্লীর বাইরে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে আরফান।

    webnewsdesign.com

    জিন্স প্যান্ট আর টি-শার্টে এদিন বেশ পরিপাটি লাগছিল ফারহানকে।
    দৌলতদিয়া যৌনপল্লী আর রেলস্টেশন মিলেমিশে একাকার। সকালের ট্রেন সেদিন দুপুরের পরে এলো। ট্রেনের হুইসেল বাজলেই যৌনপল্লীর দ্বার প্রসারিত হয়। ঠিক লঞ্চের সাইরেন বাজলেও এ পাড়ার বারবনিতাদের মনে আনন্দ সুর ঢেউ খেলে। এই বুঝি খদ্দের এলো গো!

    ফারহান যে ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছে, তাতে ঠিক ট্রেনের যাত্রী মনে হচ্ছে না। আবার ওর বসবাস যে এই পল্লীতেই, তাও বিশ্বাস করার যেন জো নেই। ওর বাচনভঙ্গি দেখেই কথা বলার উৎসাহ। কাছে যেতেই সালাম জানিয়ে হাত বাড়িয়ে দিল।

    দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় কথা। পল্লী নিয়ে সতর্কবার্তাও জানালো। দাদার বাড়ি মানিকগঞ্জের ঘিউরে। মা তার ফুফুর হাত ধরেই এ পল্লীতে আসেন। মূলত ওই ফুফুই শৈশবে ভারত থেকে পাচার করে নিয়ে আসেন ফারহানের মাকে। পাচারকারী ফুফুও যৌন পেশায় ছিলেন আগে থেকেই। এরপর আর সেই অন্ধকার জগৎ থেকে বের হতে পারেননি মা। তিনি আজও যেতে পারেননি, জন্মদেশ ভারতে।

    মা আর আদি পেশাতে নেই জানিয়ে ফারহান বলেন, পল্লীর মধ্যেই আমাদের বাড়ি। বাবা দোকান করেন এ পল্লীতেই। তাতেই সংসার চলে। একটু ভালো থাকার জন্যই মা-বাবা স্টেশনের এক বাড়িতে ঘর ভাড়া করে রেখেছেন আমাকে। মায়ের কাছে গিয়ে খাই আর থাকি ভাড়া বাড়িতে।

    নিজের প্রতি বিশ্বাস বাড়িয়ে ফারহান স্বপ্নকথা জানিয়ে বলে, আকাশসম স্বপ্ন আমার। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সংগঠনের হয়ে অভিনয় করছি। অভিনয় করি শিশুদের অধিকার নিয়েও। যৌনপেশার অভিশপ্ত জীবনে কেউ না আসুক, তার জন্য যৌনপল্লীর শিশুদের সচেতন করে তুলি। সেভ দ্য চিলড্রেন, চাইল্ড ক্লাব, থিয়েটার ফর ডেভেলপমেন্টে দায়িত্ব পালন করছি। নাটক, শর্ট ফ্লিম করে শিশুদের মাঝে আলোর দিশা দেয়ার চেষ্টা করছি। অভিনয় করে সেরা পুরস্কারও পেয়েছি কয়েকবার। প্রথম হয়েছি সেভ দ্য চিলড্রেনের হয়ে ঢাকার শিল্পকলায় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েও।

    স্বপ্ন দিয়েই স্বপ্ন ছুঁতে চায় ফারহান। বলে, বলিউডে অভিনয় করার স্বপ্ন দেখি। অভিনয় করেই যৌনপল্লীর পরিচয় ভুলে যেতে চাই। এই অভিশপ্ত পরিচয় ভোলাতে চাই আমার পরিবারকেও।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন