• শিরোনাম

    জঙ্গিদের শেষ কোথায়

    | ০১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ

    জঙ্গিদের শেষ কোথায়

    জঙ্গিদের শেষ কোথায়

    নিজস্ব প্রতিবেদক,

    আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জঙ্গিরা। জঙ্গিবাদ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ কঠোরতা ও সতর্কতায়ও থেমে নেই তারা। লোকালয়ে কোণঠাসা হয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলকে তাদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে গড়ে তুলছে। তারা এখন দেশের সীমান্তবর্তী, পার্বত্য অঞ্চল ও চরাঞ্চলকে নিরাপদ ঘাঁটি বানিয়ে তাদের কার্যক্রম প্রসারিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    কিন্তু তাদের সেসব ‘নিরাপদ আস্তানা’র সন্ধান পেয়ে সেখানেও অভিযান চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গত এক মাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪ জন জঙ্গি গ্রেফতার ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে। এসব অভিযান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদও জব্দ করেছে র‌্যাব-পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে একের পর এক জঙ্গি নিহত হচ্ছে, গ্রেফতার হচ্ছে তবু যে জঙ্গিদের শেষ নেই।

    webnewsdesign.com

    এদিকে, দেশের মাটিতে কোণঠাসা হয়ে জঙ্গিরা প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। সেখানে থেকে তারা জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত ২১ নভেম্বর কলকাতা থেকে দুই বাংলাদেশিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তারা হলো-সুনামগঞ্জের সামসেদ মিঞা, খুলনার রিয়াজুল ইসলাম (২৫) ও ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার মনতোষ দে। এসটিএফ জানিয়েছে, তাদের কাছে তথ্য ছিল—বাংলাদেশ থেকে দুই-তিনজন জঙ্গি পশ্চিমবঙ্গে এসেছে। এরপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে এ তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য। তাদের কাছ থেকে নয়টি আগ্নেয়াস্ত্র, এবিটি ও আলকায়েদার লিফলেট জব্দ করা হয়। তা ছাড়াও একটি ডায়েরি ও কিছু নথি পাওয়া গেছে। ডায়েরিতে বাংলাদেশি একজন ব্লগারের নাম ও নথিতে কলকাতার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্থানের নাম উল্লেখ রয়েছে। তারা অস্ত্র কেনার জন্য বেরিয়েছিল বলে স্বীকারও করেছে।

    এদিকে, হলি আর্টিজানে হামলার পর র‌্যাব ও পুলিশের একের পর এক অভিযানে নব্য জেএমবি ও আনসার আল ইসলামের জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। অব্যাহত অভিযানে জঙ্গিদের মানসিক ও সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর অনেকটাই অন্তরালে চলে যায় জঙ্গিরা। তবে দুর্ধর্ষ কয়েকজন জঙ্গি নেতা এখনো ধরা না পড়ায় সর্বোচ্চ তৎপরতায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এখনো জঙ্গিদের বেশ কিছু আস্তানা রয়ে গেছে। বেশ কয়েকজন দুর্ধর্ষ জঙ্গি পালিয়ে আছে। তাদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

    এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুরোনো জেএমবির সদস্যদের সঙ্গে মিলে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে কর্মকান্ড চালাচ্ছে নব্য জেএমবির পলাতক জঙ্গিরা। আবার পলাতক জঙ্গিরা দলে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি, বিস্ফোরকের মজুদ বাড়ানো, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং কৌশল পরিবর্তন করে হামলার ছক কষছে। এ কারণে জঙ্গি কর্মকান্ড নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উৎকণ্ঠা এখনো কমছে না। গত এক বছরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে নব্য জেএমবির ১৪ শীর্ষ নেতাসহ ৭৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে তিন শতাধিক জঙ্গি। তবে দুর্ধর্ষ ১৩ জঙ্গি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

    সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একের পর এক সফল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। জিয়াসহ পলাতক সবাই ধরা পড়বে। গুলশান হামলাসহ বড় ঘটনাগুলো যারা ঘটিয়েছে তাদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। জঙ্গিরা যেখানেই পালিয়ে থাকুক, সেখান থেকে তাদের ধরে আনবে আমাদের চৌকস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পালিয়ে থেকে জঙ্গিবাদ চালানোর কোনো সুযোগ নেই।

    জঙ্গি নিয়ে মত প্রকাশে সংযত হওয়ার নির্দেশ : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জঙ্গি নিয়ে ব্যক্তিগত মতামত, খবর শেয়ার ও বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংযত হতে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত আদেশ দেন তিনি। আদেশে বলা হয়েছে, অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি বিষয়ে গণমাধ্যম বা ইন্টারনেটে প্রকাশিত কোনো নিউজ শেয়ার দিয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এতে বাহিনী ও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের এ ধরনের মতামত প্রকাশ না করতে বলা হয়েছে। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আলাদা কোনো নীতিমালা নেই।

    গত এক মাসে গ্রেফতার ১৪ জঙ্গি, নিহত ৩ : ফেসবুকে ছদ্মনাম ব্যবহার করে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গিবাদে সদস্য সংগ্রহের অভিযোগে গত ২ নভেম্বর ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে শ্রাবণ ওরফে আবু শামকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ৫ নভেম্বর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাবকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, সংগঠনের বড় ভাইয়ের নির্দেশে এবং পরিচালনায় তারা এ হত্যাকান্ড ঘটান। তার সেই ‘বড় ভাই’ হলেন নব্য জেএমবির প্রধান ও সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক। ১৯ নভেম্বর রাতে রাজধানীর পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে জঙ্গি হামলায় অর্থদাতা ও মূল পরিকল্পনাকারী তানভির ইয়াসিন করিম ওরফে হিটম্যান ওরফে জিনকে গ্রেফতার করা হয়। তানভির এবং পলাতক আকরাম হোসেন খান নিলয় এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থ সরবরাহকারী।

    ২৪ নভেম্বর শুক্রবার রাতে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকা থেকে আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ (২৪) নামে এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আরাফাত ও তার তিনজন সহযোগী চাপাতি দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরাফাত পুলিশকে জানিয়েছেন, তাদের সংগঠনের বড় ভাইয়ের (জিয়া) নির্দেশে এবং পরিচালনায় এ হত্যাকান্ডে অংশ নেন। আর ওই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন জঙ্গি মুকুল রানা ওরফে শরীফ, যিনি রাজধানীর খিলগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তা ছাড়া আরাফাত জুলহাস-তনয়, নিলয় ও দীপন হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন। এদিকে, গত ৫ নভেম্বর অভিজিৎ হত্যা মামলায় সোহেল ওরফে সাকিব নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসার আল ইসলামের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোহেলের দেওয়া তথ্যে, গত ১৮ নভেম্বর তুরাগের বাউনিয়া থেকে মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    ২৭ নভেম্বর রাত ৩টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলাতলীতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় র‌্যাব। ওই অভিযানে জেএমবির তিন সদস্য নিহত হয়। তবে নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনো কিছুই জানা যায়নি। র‌্যাব জানিয়েছে, রাজশাহীর চর অঞ্চলটিতে দীর্ঘদিন থেকেই জঙ্গি আস্তানা বিষয়ে কাজ করছিল র‌্যাব। চরাঞ্চল হওয়ায় অপরাধ ও জঙ্গি কার্যক্রম শেষ করে এখানে অপরাধীরা ঘাঁটি বানায়। এ ছাড়া এখানে লোকজনের চলাফেরাও কম। আরেকটি কারণ হচ্ছে, বর্ডার ঘেঁষা অঞ্চল হওয়ায় এখানে জঙ্গি ট্রেনিং করার আদর্শ স্থান। র‌্যাবের অভিযানে নিহত সবার এ রকম পরিকল্পনা থেকেই এই চরাঞ্চলে ঘাঁটি গেড়েছিল। এলাকাটি ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা।

    ২৭ নভেম্বর গভীর রাতে রাজবাড়ী থেকে কামার ফেরদৌস বেগকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাবের দাবি-গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় নিহত জঙ্গিদের অন্যতম সহযোগী এবং হামলার অন্যতম আসামি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হলি আর্টিজান হামলাকারীদের বিশেষ সহযোগী ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি। হামলাকারীদের সঙ্গে এক বাসায় থাকতেন। এমনকি তারা একই সঙ্গে জঙ্গি ট্রেনিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। হলি আর্টিজান হামলার দিন তারা এক সঙ্গে বাসা থেকে বের হন। তবে কামার ফেরদৌস বেগ হলি আর্টিজান হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেননি বলে দাবি করেন।

    গত ২৮ নভেম্বর রাত ১টায় ময়মনসিংহের একটি বাড়িতে অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পায় র‌্যাব। সেখান থেকে অস্ত্র-গুলি ও অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম জব্দ হয়। এ ঘটনায় সোহেল ও হাবিব নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও এর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না—সে সম্পর্কে নিশ্চিত নয় র‌্যাব। ২৮ নভেম্বর ভোরে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থেকে বিস্ফোরক ও উগ্রবাদী বইসহ আবদুুর রাজ্জাক ওরফে মাসুম ও আবদুর মোমেন ওরফে সোহেল নামে দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এদিকে, ৩০ নভেম্বর রাজধানীর লালবাগ থেকে মুফতি মাওলানা তাওহীদুল ইসলাম নামে এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ