• শিরোনাম

    চিকিৎসা এখন বাণিজ্য

    | ১০ জানুয়ারি ২০১৮ | ১১:১১ পূর্বাহ্ণ

    চিকিৎসা এখন বাণিজ্য

    চিকিৎসা এখন বাণিজ্য

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    অসুস্থ মানুষের সেবা করার মতো মহান ব্রত নিয়ে চিকিৎসা পেশায় আগমন ঘটে একজন চিকিৎসকের। আর উন্নত স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকেই খুলে বসেন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পরবর্তীতে টাকার কাছে হেরে অনেকেই সরে যান নিজের দেয়া প্রতিশ্রুতি থেকে।

    সেবার মতো সেই মহান ব্রত যেন হয়ে যায় তুচ্ছ। বাণিজ্যে পরিণত হয় নিজের শিক্ষা ও মেধা। মেডিকেলের একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারি ব্যয় কম নয়।
    যা জনগণের টাকা। কিন্তু সেই শিক্ষার্থী-ই যখন ডাক্তার, তখন ফি ছাড়া রোগী দেখেন না। বরং কোন ডাক্তারের ভিজিট কত তা নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা।
    বেসরকারি হাসপাতালেও বিভিন্ন টেস্ট ও অপারেশনের রেট নিয়ে প্রতিযোগিতার কমতি নেই। কিন্তু কমতিতে থাকে মৃত্যু পথযাত্রী রোগীদের সেবার মানসিকতার। টাকার কাছে আজ সবকিছুই যেন তুচ্ছ। হাসপাতালের বিল পরিশোধে লাশ আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটছে এদেশে। এরকম ঘটনা মোটের ওপর একটি-দুটি নয়। অসংখ্য। এরকম ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে। সম্প্রতি শিশু বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে হয়েছে খুলনার পাইকগাছার বাসিন্দা এক হতভাগ্য মাতাকে।
    গত ১৮ ডিসেম্বর নবজাতক শিশুকন্যাকে বিক্রি করে ক্লিনিকের পাওনা পরিশোধ করেছেন খুলনার পাইকগাছার এক দরিদ্র দম্পতি। গত ১২ ডিসেম্বর পাইকগাছা ফারিন হাসপাতালে স্মরণখালী গ্রামের দিলিপ সরদারের স্ত্রী এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
    পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ওই দম্পতির আরও তিনটি কন্যাসন্তান থাকায় বিল পরিশোধ করে নবজাতককে ক্লিনিক থেকে নেওয়ার আগ্রহ ও সামর্থ্য কমছিল। বিষয়টি জানতে পেরে পরদিন প্রতিবেশী এক নারী শিশুটিকে নেয়ার আগ্রহ দেখায়। নবজাতকের বাবা-মায়ের সম্মতিতে ওই মহিলা ক্লিনিকের চার হাজার ২শ টাকা পরিশোধ করে শিশু সন্তানটি নিয়ে যায়। শুধু গ্রামাঞ্চল কিংবা জেলা শহরে নয়।
    খোদ রাজধানীর একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে লাশ আটকে রেখে টাকা দাবির ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগ রয়েছে নামিদামি অনেক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও। এসব ঘটনায় সচেতন মানুষের মধ্যে শুধু ক্ষোভই বিরাজ করেনি, জাতীয় সংসদেও এসব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংসদরা। লাশ আটকে রাখার মতো একটি ঘটনায় দশম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের ১১ম কার্যদিবসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। তিনি এ ঘটনাকে করুণ ও হৃদয়বিদারক বলে আখ্যায়িত করেন। ওই সাংসদ বলেছিলেন, এ ধরনের ঘটনায় জাতি হিসেবে আমাদের মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে।
    এর দায় সরকার এড়াতে পারে না, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কোনো দায় নয়, এটা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। তবে আশার কথা হচ্ছে অসচ্ছল ব্যক্তিরা হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে ব্যয় পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার লাশ জিম্মি করে টাকা আদায় করা যাবে না মর্মে গত সোমবার রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ব্যক্তিদের চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধে একটি তহবিল গঠন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
    কিন্তু শুধু আইন করেই কি মানতাকে জাগ্রত করা যাবে? এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিশেষজ্ঞমহল। স্বদেশ মানবকল্যাণ সোসাইটির সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়ন আব্দুস সালাম চৌধুরী আমার সংবাদকে বলেন, হাসপাতাল নিছক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানও বটে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, চিকিৎসা এখন আর সেবা নয়, পণ্য ও বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। হারিয়ে যেতে বসেছে সেবার মানসিকতা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্যই চিকিৎসার বিল আদায়ের অধিকার রাখেন। তবে লাশ আটকে রেখে কিংবা বিল পরিশোধে নবজাতককে বিক্রি করতে বাধ্য করা, মানবিকতার দৃষ্টিতে আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন