• শিরোনাম

    চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে বেপরোয়া সিএনজি, বাড়ছে দূর্ঘটনা!

    হাবিবুর রহমান | ০৫ জুন ২০২১ | ৯:৩৭ অপরাহ্ণ

    চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে বেপরোয়া সিএনজি, বাড়ছে দূর্ঘটনা!

    ফাইল ছবি

    চাঁদপুর জেলায় বেপরোয়া সিএনজির কারনে প্রতিনিয়তেই দূর্ঘটানা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেপরোয়া সিএনজি নিয়ন্ত্রন করতে গিয়ে প্রশাসনকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। আর অবৈধ সিএনজিকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির চাঁদাবাজদের পকেট ভারী হচ্ছে।

    জেলা বিআরটিএ সুত্রে জানাযায়, চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত রেজিষ্টিশন কৃত সিএনজির সংখ্যা ৬ হাজার ৭শ ১১টি। আর অবৈধ ভাবে জেলার মহাসড়ক ও বিভিন্ন উপজেলায় চলাচলরত সিএনজির সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারেরও অধিক ধারণা করা হচ্ছে। তাড়াও প্রতিনিয়তই নতুন নতুন সিএনজি সড়কে যুক্ত হচ্ছে। আর এ কারনেই সড়ক গুলোতে বাড়ছে দূর্ঘটনাও।

    এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জেলায় চলাচলরত সিএনজি গুলোর চালকদের সিংহভাগই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এবং গাড়ী চালানোর বিষয়ে অভিজ্ঞতা না থাকার কারনে দূঘটনার কবলে পড়তে হয়। এ দূর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যুর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, ঠিক তেমনিও ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করতে হচ্ছে। এ নিয়ে দেখা যায়, অনেক পরিবারের আয় উপার্জনকারীর মৃত্যু অথবা পঙ্গুত্বের কারনে পরিবারের মধ্যে বড় ধরনের অসহায়ত্ব নেমে আসে। পরিনামে অনেককেই ভিক্ষাবৃত্তি অথবা অন্যের ধারস্ত হতে হয়।

    webnewsdesign.com

    এ ছাড়াও জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে প্রশাসনের নিরবতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কে দেদারছে ঢুকে পড়ছে নাম্বারবিহীন এসব সিএনজি। বেপরোয়াভাবে রাস্তায় এসব চলাচল করলেও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) বা ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃপ কার্যত কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এছাড়াও হাজীগঞ্জে সড়কে চলাচলরত সিএনজি চালকদের বেশিরভাগেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। অদ ও অপরিপক্ক চালক দ্বারা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চলাচল করায় প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। মারা যাচ্ছে অসংখ্য সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী, আহত হয়ে সারাজীবনের পঙ্গুত্ব বরণ করে নিচ্ছে অনেকে। গত একমাসে জেলা ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাস-সিএনজি-অটোরিকশার সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে প্রায় অর্ধশত মানুষ।

    জেলায় অসংখ্য ভুঁইফোড় সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক সংগঠন থাকলেও নিয়ম না মেনে রাস্তায় গাড়ি চালানো কিংবা লাইসেন্স বিহীন ড্রাইভার দ্বারা গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে কোন ধরনের প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি এদের কাউকে। প্রশাসনিকভাবে মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হলে তখন সড়ক পথে যানবাহন উধাও হয়ে যায়। কিছুদিন পরে আবার ফিরে আসে। এভাবেই চলছে জেলার প্রধান সড়কে সিএনজি অটোরিকশার যাত্রী পরিবহন।

    যাত্রীদের অভিযোগ ও সিএনজির সংগঠন সূত্রে জানা যায়, জেলা ও জেলার ৮টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজারেরও অধিক সিএনজি চলাচল করে থাকে। এসব রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা যানবাহন আইন অনুযায়ী পরিবহনের কাজে ব্যবহারের নিয়ম না থাকলেও কিছু ভুঁইফোড় সংগঠনের দেয়া টোকেনের মাধ্যমে গাড়িগুলো রাস্তায় চলাচল করছে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্টেশনে লাইনম্যানের মাধ্যমে ২০-৩০-৪০-৫০ টাকা চাঁদার বিনিময়ে যাত্রী পরিবহন করছে।

    এমনকি মহা সড়কে চলাচলত সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া নিয়েও নৈরাজ্য অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষ এসব ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদ করলে সিএনজি চালকদের হাতে নাজেহাল হতে হচ্ছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক চালকই এ প্রতিবেদককে জানান, ভাই, আমাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও স্ব স্ব থানাকে ম্যানেজ করে গাড়ী চালতে হয়। কিন্তু, যাদের গাড়ীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই, তারাও আমাদের মতো বহু সিএনজির মালিক থানাকে ম্যানেজ করে সড়কে গাড়ী চলাচল করার সুযোগ পাচ্ছে।

    সম্প্রতি, নাম্বারবিহীন সিএনজিকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সিএনজিতে গ্যাস সরবরাহ না করার বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। যদিও কখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়, সে ক্ষেত্রে সিএনজি ষ্টেশন গুলোকে কিছুটা কঠোর হতে দেখা যায়। আবার অনেকেই ভুয়া নাম্বার প্লেট রেখে সে গুলোকে সিএনজিতে লাগিয়ে গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। আবার দেখা যায়, যে সিএনজিতে নাম্বার নেই, তখন ঐ গাড়ীর চালক নিজেই ভুয়া নাম্বার প্লেট লাগিয়ে গ্যাস সংগ্রের পর তা খুলে পেলে।

    এ বিষয়ে জেলা বিআরটিএ কর্মকর্তা এডি আনোয়ার হোসেন জানান, জেলায় ৬ হাজার ৭শ ১১টি সিএনজির রেজিষ্টেশন রয়েছে। আর অবৈধ চলছে প্রায় ৩গুন। বর্তমানে সরকারের সিদ্ধান্ত মতে সিএনজির রেজিষ্টেশন বন্ধ রয়েছে। তবে সরকার ঘোষণা দিলেই রেজিষ্টেশন কার্যক্রম শুরু হবে। তবে অবৈধ সিএনজি বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রায়ই সড়কে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে মামলা ও আটক করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার) জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারনে পুলিশ অবৈধ সিএনজির বিষয়ে নমনীয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অবৈধ সিএনজি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ববস্থা নেয়া হবে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ