• শিরোনাম

    চাঁদপুর ইলিশ চত্বর থেকে পূর্ব দিকে সড়ক যেনো ফসল বোনার জন্যে প্রস্তুত করা কোনো জমি

    | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১২:৩৯ অপরাহ্ণ

    চাঁদপুর ইলিশ চত্বর থেকে পূর্ব দিকে সড়ক যেনো ফসল বোনার জন্যে প্রস্তুত করা কোনো জমি

    অগ্রহায়ণে আষাঢ়ের বৃষ্টি জনদুর্ভোগ চরমে
    চাঁদপুর ইলিশ চত্বর থেকে পূর্ব দিকে সড়ক যেনো ফসল বোনার জন্যে প্রস্তুত করা কোনো জমি
    চাঁদপুর প্রতিবেদক,

    অগ্রহায়ণ মাসে আষাঢ়-শ্রাবণের মতো বিরামহীন বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ চরমে গিয়ে পেঁৗছেছে। বিশেষ করে চাঁদপুরে চলমান সড়ক উন্নয়ন কাজ এখন জনদুর্ভোগের চরম পর্যায়ে গিয়ে পেঁৗছেছে। চাঁদপুর শহরে ইলিশ চত্বর থেকে পূর্ব দিকে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়কটি যেনো মই দেয়া ফসলি জমি অর্থাৎ বর্ষকালে পানি নেমে যাওয়ার পর ফসলি জমিতে লাঙ্গল দিয়ে কাদা মাটি করে জমিকে ফসল বোনার জন্যে যেভাবে প্রস্তুত করা হয়, তেমন অবস্থায় পরিণত হয়েছে। গতকাল সে এলাকায় ভয়াবহ এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছোট চাকার গাড়ি দূরের কথা বড় চাকার গাড়িও গতকাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসা-যাওয়া করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাজে ধীরগতি এবং পরিমাণ মতো ও মানসম্মত বালু ও কংক্রিট না দেয়ায় বৃষ্টিতে সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে বলে সচেতন নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট কিছু ইঞ্জিনিয়ার মন্তব্য করেছেন। এছাড়া অসময়ের এ অতিবৃষ্টিতে ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
    অগ্রহায়ণ মাসের আজ ২৭ তারিখ। বাংলাদেশের ঋতু হিসেবে এ সময়ে পুরোপুরি শীত পড়ার কথা। এ সময়ে লাগাতার বৃষ্টি হওয়ার নিকট অতীতে কোনো রেকর্ড নেই। অথচ এবার বর্ষাকালে যেমন অতিবৃষ্টি হয়েছে, তেমনি এখন শীত মৌসুমেও ‘অসময়ের’ বৃষ্টি হচ্ছে। গত ৮ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত থেকে চাঁদপুরে বৃষ্টি হচ্ছে। থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। শনিবারও বলতে গেলে সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সকালের পর বৃষ্টি বন্ধ হয়, রোদেরও দেখা মিলে। মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। কিন্তু এই স্বস্তি বেশি সময় টেকেনি। বিকেল সাড়ে ৩টার পর থেকে আবার শুরু হয় বৃষ্টি। সন্ধ্যা যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে বৃষ্টির পরিমাণ ততই বেড়ে যায়। সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসে যোগাযোগ করা হলে কর্মরত কর্মকর্তা জানান, এ পর্যন্ত (গতকাল সন্ধ্যা ৭টা) গত ৪৮ ঘন্টায় চাঁদপুরে ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে আবহাওয়ার এই বৈরী অবস্থা। আজ অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়ে কাল থেকে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে বলে এই কর্মকর্তা জানান।

    এদিকে এই অসময়ের অতিবৃষ্টির কারণে রবি শস্যসহ শীতকালীন ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি তো হয়েছেই, পাশাপাশি চাঁদপুরের সড়ক বিভাগ ও পৌরসভায় সড়কের যে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছিলো তা একেবারে লাটে উঠেছে। চাঁদপুর শহরের সড়কগুলোয় এবং সওজ-এর আওতাধীন চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ওয়্যারলেস পর্যন্ত সড়কের এবার এমনিতেই খুবই বেহাল অবস্থা। যা অতীতে কখনো হয়নি, তার উপর সময়-অসময়ের অতি বৃষ্টি সড়কগুলোকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শহরের কালীবাড়ি এলাকায় (ফজলু ম্যানশন ও ঢাকা হোটেলের সামনে) এবং আঃ করিম পাটওয়ারী সড়কটিতে (সাবেক কুমিল্লা রোড) অনেকদিন যাবৎ খুবই বিধ্বস্ত অবস্থা বিরাজ করছে। এ সড়কটির ব্যাপারে চাঁদপুর পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের কোনো সদুত্তর নেই। অথচ এর চেয়েও কম ক্ষতিগ্রস্ত ও কম গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একাধিকবার সাময়িক মেরামত করা হয়েছে। প্রায় বছর খানেক ধরে কালীবাড়ি এলাকায় এবং করিম পাটওয়ারী সড়কে যানবাহনে এবং পায়ে হেঁটে চলাচল করতে মানুষজন যে কী নিদারুণ কষ্ট পাচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা বুঝে হোক আর না বুঝে হোক সরকার এবং পৌর মেয়রকে গালাগাল দিচ্ছে।
    চাঁদপুর সড়ক বিভাগের অধীনে শহরের ইলিশ চত্বর থেকে পূর্ব দিকে সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয় সম্প্রতি। সওজ-এর ভ্যাকু মেশিন দিয়ে রাস্তার পিচঢালাইসহ নিচের মাটি নিয়ে অনেক অংশ তুলে ফেলা হয়। পরে রোলার দিয়ে সমান করা হয়। এরপর বালু ও পাথরের কংক্রিট ফেলা হয়। এর উপর পাথর ফেলতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কতটুকু মান বজায় রেখেছেন তা এই বৃষ্টিতে স্পষ্ট হয়ে গেছে। গত আড়াই দিনের বৃষ্টিতে ইলিশ চত্বর থেকে চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত সড়কের যে কী ভয়ানক দুর্দশা হয়েছে তা গতকাল ওই জায়গায় যারা না গিয়েছেন তারা বুঝতে পারবেন না। চাঁদপুর শহরে প্রবেশ করার অতীব গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই অংশটির এমন বেহাল অবস্থায় জনজীবনে মারাত্মক দুর্ভোগ নেমে আসে।

    সরজমিনে সে এলাকায় গিয়ে মনে হলো, এটি কোনো সড়ক নয়। বষার পানি নেমে যাওয়ার পর ফসলি জমিতে লাঙ্গল দিয়ে মই দেয়ার পর জমিকে যেমন কাদা মাটি করা হয়, ঠিক তেমনই মনে হলো সড়কটি। অর্থাৎ এটি যে একটি পাকা সড়ক তা বোঝার কোনো উপায় নেই। কংক্রিটের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া গেলো না। শুধু কাদা মাটির বিস্তীর্ণ ভূমিই মনে হলো। বৃষ্টির কারণে কংক্রিট যদি নিচেও চলে যায় তাহলেও তো এমন কাদা মাটি হয়ে যাওয়ার কথা না, যদি সত্যিকার অর্থে বালুই দিয়ে থাকে। অর্থাৎ ঠিকাদার বালু ফেলেছে ঠিকই, কিন্তু তা মাটি মিশ্রিত বালু। যার কারণে এখন সেখানে কাদা মাটিতে একাকার হয়ে আছে। এসব কাজ সম্পর্কে যারা ধারণা রাখেন এমন অনেক সচেতন মানুষ এবং চাঁদপুর সওজের দ্বিতীয় শ্রেণীর কোনো কোনো ইঞ্জিনিয়ার এই প্রতিবেদককে বলেন, এই কাজে পাথরের কংক্রিট দেয়ার কথা ৭০ ভাগ আর বালু দেয়ার কথা ৩০ ভাগ। অথচ ঠিকাদার করেছেন এর উল্টোটা। অর্থাৎ বালু ফেলেছেন ৭০ ভাগ আর কংক্রিট ফেলেছেন ৩০ ভাগ। এর মধ্যেও করেছেন দুই নম্বরী। অর্থাৎ বালু এবং পাথরের কংক্রিটও কাজ অনুযায়ী মানসম্মত দেয়া হয়নি।

    webnewsdesign.com

    অবশ্য এমন অভিযোগ সওজ চাঁদপুর-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত অস্বীকার করে বলেন, কাজ ঠিক মতই করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে এমনটা হয়েছে। এখন আমরা সেগুলো তুলে নিচ্ছি। ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ করতে হবে। আর অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখানে আসলে দুটা গ্রুপ আছে তো। তাই যারা কাজটি পায়নি তারা এমন অভিযোগ তুলছে।
    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাটওয়ারীর সাথে এই প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ষোলঘর থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পশ্চিম গেইট পর্যন্ত আমরা রাস্তায় দুই পর্বে লেয়ার দিয়েছি, সে জন্যে সে অংশে এই বৃষ্টিতেও কোনো সমস্যা হয়নি। আর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে পশ্চিমে ইলিশ চত্বর পর্যন্ত এক লেয়ার দেয়া হয়েছে। তাই সে অংশে বৃষ্টিতে পাথর সব নিচে গিয়ে কাদা মাটি হয়ে গেছে। আমরা এখন সেগুলো তুলে নিচ্ছি। পরে রোদে ভালো করে শুকিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা হবে। আর এ অবস্থায় যানবাহন চলাচল করার জন্যেও সাময়িক ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের কারণে আমার আর্থিক অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর