• শিরোনাম

    ঘাটে ঘাটে রোগীদের ভোগান্তি

    | ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ

    ঘাটে ঘাটে রোগীদের ভোগান্তি

    সঠিক সিদ্ধান্তের অভাব

    ঘাটে ঘাটে রোগীদের ভোগান্তি

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    পায়ের ক্ষত নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০৯ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন দরিদ্র নারী হোসনে আরা।

    কিছুদিন বেডে রেখে চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসকরা জানালেন এ ধরনের চিকিৎসা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেই।
    তারা পাঠালেন রাজধানীর মহখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে।
    সেখানে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা রেফারেল কাগজ দেখে অবাক হন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা বললেন, এখানে তো এরকম রোগী কখনও পাঠানোর কথা না।
    আপনারা আবার যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। দ্বিতীয়বার সেখানে যাওয়ার পর হোসনে আরাকে ভর্তি না করে পাঠানো হলো রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য। সেখানকার একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক পরীক্ষা করে পরামর্শ দেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে যাওয়ার জন্য।
    ওই চিকিৎসকের কথামতো ওই সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পর তারা জানালেন এখানে তো এ চিকিৎসা হয় না, আপনারা আবার যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আবার যাওয়া হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অবশেষে সেখানে ঠাঁই হলো এবং ক্ষত পা কেটে ফেলার পরও হোসনে আরার ভাগ্যদেবী প্রসন্ন হয়নি। গত রোববার স্বজনদের কান্নার সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে মাত্র ৫০ বছর বয়সেই মারা গেলেন।
    এভাবে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে শুধু হোসনে আরাই নয়, আরো অনেক রোগী ঘাটে ঘাটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। একদিকে দুর্ভোগ এবং অন্যদিকে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।
    রোগের জটিলতা বাড়ছে এবং বাড়তি টাকা খরচ করে হচ্ছে সর্বস্বান্ত। মাঝেমধ্যে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে এমন হয়রানি ও মৃত্যু শুধু যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ঘটছে, এমনটি নয়। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ছোটোবড় অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেও দেখা গেছে। আবার এসব হাসপাতালে জটিল রোগীও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেÑ এমন নজিরও রয়েছে।
    বলা যায়, বেশিরভাগ রোগীই সুস্থ হচ্ছে। কিন্তু মাঝেমাঝে কেন সঠিক চিকিৎসা ও সিদ্ধান্তের অভাবে হোসনে আরার মতো সামান্য পায়ের ক্ষত বা জটিল রোগ নিয়ে রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে এবং এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌঁড়ানোর প্রয়োজন পড়ছেÑ এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে এসব ঘটনার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী দলীয় পদোন্নতি। দলবাজ অদক্ষ চিকিৎসককে ইউনিটিপ্রধান করাই এর মূল কারণ। বিএনপি সরকারের সময় ড্যাব নামক দলীয় চিকিৎসক সংগঠন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপের দাপট।
    এখন সরকারি হাসপাতালে চলছে স্বাচিপের প্রভাব। দলের ক্ষমতা খাটিয়ে ইউনিট চিফ হচ্ছেন এবং পদোন্নতি নিচ্ছেন তাদের অনেকেই। যদিও স্বাচিপের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান এবং মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ কিছুদিন আগে এ ধরনের দলবাজির পদোন্নতি সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে আমার সংবাদকে বলেছিলেন তারা কখনও অদক্ষ দলীয় চিকিৎসককে পদোন্নতির জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেন না। সরকার তার নিজস্ব নিয়মেই চিকিৎসকদের পদোন্নতি দিচ্ছে।
    এদিকে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে রোগীদের দুর্ভোগ ও মৃত্যুর আরো একটি কারণ পাওয়া গেছে। সেটি হচ্ছে দুপুর আড়াইটায় ছুটির পর যখন বড় চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত চেম্বারে চলে যান তখন জুনিয়র চিকিৎসকরা রোগীদের দেখেন এবং ভর্তি ও অন্যান্য চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন। তখন জটিল রোগে অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিচালকরা বরাবরই বলছেন, জটিল রোগীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকেন। আবার কোনো রোগীর শারীরিক অবস্থা হঠাৎ খারাপ হলে কল করে বড় চিকিৎসকদের নিয়ে আসা হয়।
    অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কেবল সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবই নয়, সরকারি হাসপাতালে অহরহই ভোগান্তি হচ্ছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও। বিনামূল্যে সব পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে করাতে এসে হতাশ গরিব রোগীরা। বেশিরভাগ পরীক্ষা করাতে পারলেও মাঝেমধ্যেই এমনসব ছোটোখাটো পরীক্ষার জন্য বড় ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে রোগীদের, যা দেখলে অবাক হওয়ারই কথা। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় এসে এত বড় বড় সরকারি হাসপাতালে যদি এমন হয় তাহলে কেমন লাগে। অথচ তাই হচ্ছে। সামান্য প্রস্রাব পরীক্ষা, ব্লাড কালচার, জন্ডিসের পরীক্ষা, ইকো পরীক্ষারও ব্যবস্থা নেই ঢাকার অনেক বড় হাসপাতালেও।
    অথচ এসব পরীক্ষা এখন মামুলি ব্যাপার। যে কোনও ছোটোখাটো প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হচ্ছে। বড় হাসপাতালে এসব ছোটো পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরিব রোগীরা নানা ঝামেলায় পড়ছে এবং প্রাইভেট হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করাতে গিয়ে বাড়তি অর্থও খরচ করতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিচালকরা দাবি করেছেন, দুয়েকটি ছাড়া সব ধরনের চিকিৎসা ও টেস্টের ব্যবস্থাই সরকারি হাসপাতালে আছে। আবার কখনও রি-এজেন্ট বা কাঁচামালের অভাব, কখনো যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে বাইরে টেস্টের প্রয়োজন হতে পারে।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ