• শিরোনাম

    ‘ক্যাডার বনাম নন-ক্যাডার’ দ্বন্দ্বে বন্ধ করে শিক্ষকদের আর্তমর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা হোক

    | ৩০ নভেম্বর ২০১৭ | ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

    ‘ক্যাডার বনাম নন-ক্যাডার’ দ্বন্দ্বে বন্ধ করে শিক্ষকদের আর্তমর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা হোক

    ‘ক্যাডার বনাম নন-ক্যাডার’ দ্বন্দ্বে বন্ধ করে শিক্ষকদের আর্তমর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা হোক
    —–হারুন-অর-রশিদ—–


    আইনে একটি কথা আছে বিচারের মারপ্যাচে শতজন অপরাধী ছাড়া পেয়ে যাক কিন্তু একজন নিরাপরাধও যেন শাস্তি না পায়। জীবনে কখনো পড়া লেখার বাহিরে কোন বিষয় নিয়ে লেখার জন্য চেষ্টা বা দুঃসাহস দেখাই নাই। আজ আপনাদের কাছ থেকে দোয়া নিয়ে শুরু করতে চাই, জানি না কতটুকু স্বার্থক হব।

    জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিশ্ববাসীর কাছে যিনি “মাদার অফ হিউম্যানিটি” নামে পরিচিত। শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে প্রতিটি উপজেলায় তথা যে সকল উপজেলায় কোন সরকারী কলেজ নেই সেই সকল উপজেলায় একটি করে কলেজকে জাতীয়করণের নীতিমালা গ্রহণ করে যা সকলের কাছে প্রসংশনীয়। জাতীয়করণের নীতিমালা বাস্তবায়নের সকল কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

    webnewsdesign.com

    ২৮৩ টি কলেজের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের নির্দেশে সরকারের বরাবর দান পত্র দলিল (ডিড অব গিফ্ট) এর মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি করে দেওয়া হয়। এখন শুধু জিও জারি করার অপেক্ষা রয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়তো জিও জারি করে দিবেন। কিন্তু আমরা শিক্ষকরা ক্যাডার বনাম নন ক্যাডার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে সমাজে শিক্ষকদের যেটুকু সম্মান ছিল তা আজ ধূলায় মিশিয়ে দিচ্ছি।

    যারা এসব কাজে লিপ্ত তাদের সংখ্যা অতি নগণ্য। আমাদের সাধারণ শিক্ষক সমাজের কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপর ১০০ ভাগ আস্থা আছে। তিনি কোন পক্ষকে আশাহত করবেন না। ওনাদের মত গুণীজনকে অপমান বা দায়ী করবো না, শুধু কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখার জন্য অনুরোধ করছি।

    কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতার অজুহাতে যাদের শূণ্য থেকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে তোলা কলেজটি জাতীয়করণভূক্ত হয়েছে তারা যেন কোনভাবে বঞ্চিত না হয়, কারণ এখন কার বিসিএস/বেসরকারি কলেজের শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা ৯০ দশকের শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা নয়।

    সে সময়ে পাস কোর্স এর মাষ্টার্স ২য় শ্রেণী থাকলেই শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা অর্জন করত। আমরা হয়তো ভুলেই গেছি, এক সময় বাংলাদেশের হাতে গণা ১০-১২টি কলেজে অনার্স কোর্স চালু ছিল। তাই মফস্বলের হত দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা অনার্স পড়ার জন্য দূর দুরান্তে গিয়ে লেখাপড়া করা সম্ভব হত না। তা ছাড়া ডিগ্রি কোর্সের ছাত্র/ছাত্রীদের মাষ্টার্স কোর্স পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হলে প্রিলিমিনারী কোর্স করতে হয়, যা অনার্স ও ডিগ্রি কোর্সের সিলেবাসের মধ্যে যেটুকু বাকী থাকে তা পূরণ করা হয়।

    অর্থাৎ একজন ছাত্র-ছাত্রী প্রিলিমিনারী কোর্স সম্পন্ন করলে তা অনার্স কোর্স সম্পন্ন কারী ছাত্র-ছাত্রীদের পর্যায়ে উন্নিত হয়, আর সে জন্যই অনার্স পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীদের মতই ডিগ্রি পাস করা ছাত্র-ছাত্রী মাষ্টার্স শেষ পর্বে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে আসছে। এখানে কোন ধরণের বৈষম্য রাখলে তা হবে অন্যায় এবং অমানবিক।

    আমরা ক্যাডার বা নন ক্যাডার বুঝিনা, আমরা বুঝি আমাদের যে সময় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেই সময় বেসরকারী নিয়োগ ক্ষেত্রে কাম্য যোগ্যতা কি ছিল? সেই শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন বিধি মোতাবেক নিয়োগকৃত সকল শিক্ষক আত্তীকরণহোক এবং চাকরীকাল ১০০% গণনা করে যে যা পাবে তা দেওয়া হোক। আমরা চাইনা আমাদের শিক্ষক সমাজের মধ্যে চলমান বিরোধ দীর্ঘ স্থায়ী হোক। জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জন্য আনা পি.এস.সি তৈরী করে নতুন বিধিমালা তৈরী করা হোক।

    ২৮৩টি কলেজের কোন পদ শূণ্য হলে ঐ নতুন পি.এস.সির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ করে শূণ্য পদ পূরণ করা। পরবর্তীতে নতুন কোন কলেজ জাতীয়করণ করলে তা বিধির আওতায় করালে মামলার হাত থেকে সরকার তথা শিক্ষা ক্ষেত্র মুক্ত হবে। আমরা চাই না আমাদের মধ্যে কোন বিভেদ থাকুক।

    লেখায় কোন ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর অনুরোধ করছি আসুন আমরা ফেসবুকে অন্যকে আঘাত দিয়ে কিছু না লিখি, আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর উপর আস্থা রাখি। আসুন আমরা সকল পক্ষ ধৈর্যশীল হই।

    লেখক- হারুন-অর-রশিদ
    সহকারী অধ্যাপক (ভূগোল),
    হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

     

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন