• শিরোনাম

    কে এই নিয়াজুল

    | ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ | ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ

    কে এই নিয়াজুল

     কে এই নিয়াজুল

    নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
    ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে কিছুদিন আগে। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইভীর দিকে অস্ত্র হাতে তেড়ে আসা ও গণপিটুনির শিকার হওয়া যুবলীগ ক্যাডার নিয়াজুল ইসলাম খানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।মেয়র আইভীকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগে আসামি তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে তার নাম। সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জিএমএ সাত্তার বাদী হয়ে গত ২৩ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। এতে নিয়াজুলসহ ৯ জনের নাম রেখে অজ্ঞাত এক হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

    সংঘর্ষের ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে মেয়র আইভী অভিযোগ করেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্র হাতে তেড়ে আসে নিয়াজুল। তার প্রাণনাশের লক্ষ্যে ওই হামলা চালানো হয়েছে।

    কে এই নিয়াজুল?

    webnewsdesign.com

    অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের আশীর্বাদপুষ্ট ক্যাডার হিসেবে উত্থান হয় যুবলীগ নেতা নিয়াজুলের। আওয়ামী লীগের গত শাসনামলে দোর্দণ্ড প্রভাবশালী হিসেবে ক্যাডার পরিচিতি পায় যে চার ব্যক্তি তার অন্যতম হচ্ছে নিয়াজুল। সে সময় তাদের ‘খলিফা’ হিসেবে ডাকা হতো। অন্য তিন জনের মধ্যে মাহাতাব উদ্দিন লাল ও গোলাম সারোয়ার অসুস্থতায় মারা গেছে। আর নুরুল আমিন মাকসুদ নিহত হয় আততায়ীর গুলিতে।

    নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জানান, নিয়াজুল একসময় পাইকপাড়া এলাকায় থাকতো। তখন সে দর্জি ছিল। ওই সংসদ সদস্যের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দর্জি থেকে কোটি টাকার মালিক বনে গেছে নিয়াজুল। আব্দুর রহমানের ভাষ্য, ‘ ওইসংসদ সদস্যের ক্যাডার বাহিনীর এক সেনাপতি নিয়াজুল ইসলাম খান। সে চাঁদাবাজি, জমিদখল, ভূমিদস্যুতা ও সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছে। দুনীতি দমন কমিশন এখন কী করে সেটাই দেখার বিষয়।’

    যুবলীগের রাজনীতি দিয়ে শুরু

    কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, নিয়াজুল ইসলাম খান যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। ১৯৮৬ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালে প্রয়াত নাসিম ওসমান সংসদ সদস্য হলে শামীম ওসমানের হাত ধরে তার উত্থান হয়। ১৯৮৮ সালে জোড়া খুনের (কামাল ও কালাম)মামলার আসামি সে। ১৯৯৬ সালে অস্ত্রের লাইসেন্স পায় নিয়াজুল। এরপর নিজেকে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করতো সে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এলজিইডির ঠিকাদারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে।

    এছাড়া গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিয়াজুলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। নগরীর চাঁদমারীতে সেনাবাহিনীর জায়গার গড়ে ওঠা বস্তিও নিয়ন্ত্রণ করতো সে। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় (ওয়ান ইলেভেন) বস্তি উচ্ছেদ করে ওই জায়গা নিয়ন্ত্রণে নেয় সেনাবাহিনী।

    বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে নিয়াজুলের বড় ভাই সুইট র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়। ওই সরকারের আমলেই তাদের আত্মীয় যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডও নিহত হয় র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’। ২০০১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হলে নারায়ণগঞ্জের অন্য চিহ্নিত সন্ত্রাসীর মতো নিয়াজুলও পালিয়ে যায় ভারতে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে ফেরে সে।

    দেশে ফিরে নগরীর উত্তর চাষাঢ়া এলাকায় নিজের বাড়ির নিচে ও রেললাইন এলাকায় গোডাউন নিয়ে ঝুট ব্যবসা করে আসছিল নিয়াজুল। এছাড়া শহরের শিবু মার্কেট এলাকায় ‘রানী মা’ নামে তার একটি বহুতল মার্কেট রয়েছে। সেখানে ‘রানী মা’ নামের একটি রেস্তোরাঁ চালায় সে।

    গডফাদারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কোটিপতি

    নিয়াজুল ইসলাম খানের পুরো পরিবারকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সাধারণ দর্জি থেকে গডফাদারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কোটিপতি বনে গেছে নিয়াজুল। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্যই র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে তার ভাই সুইট। উভয়ে ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।’

    একই মন্তব্য করলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ। তার কথায়, ‘নারায়ণগঞ্জের গডফাদারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে নিয়াজুল ও সুইট দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই বাড়ি, গাড়ি ও মার্কেটসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে তারা।’

    নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বললেন, ‘দুই ভাই নিয়াজুল ও সুইটকে নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে জানে সবাই। র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত সুইটের বিরুদ্ধে চাঁদমারী বস্তি, এলজিইডিতে চাঁদাবাজি, ঝুট-সন্ত্রাস, জমিদখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। শুধু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেই ক্ষান্ত ছিল না সে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগও ছিল। সুইটের যেসব অপকর্মের অভিযোগ থানা-পুলিশ পর্যন্ত গেছে তা তার বিভিন্ন অপকর্মের তুলনায় ছিল খুবই সামান্য। তাদের দুই ভাইয়ের ভয়ে কেউ মামলা বা অভিযোগ করার সাহস পেতেন না। নিয়াজুল একই কায়দায় একই নেতার ছত্রছায়ায় থেকে বিভিন্ন অপকর্ম করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। একইসঙ্গে অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছে ও ব্যবসায়ী সাজার চেষ্টা করেছে।’

    নগরীর চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা সালাম মিয়াও বলেছেন,‘নিয়াজুলের পুরো পরিবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের সব ভাইকে এলাকার মানুষ ভয় পায়। নিরীহ মানুষের জমিদখল ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তারা।’

    সেদিন যা হয়েছিল

    ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জানুয়ারি বিকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় মেয়র আইভী ও সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ আহত হন। এদিন দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।

    এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, নগরীর সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সড়কের ফুটপাথগুলো হকারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন মেয়র আইভী। এই সিদ্ধান্তে হকাররা প্রতিবাদ জানালে তাদের সমর্থন জানান শামীম ওসমান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য রাখার ঘটনাও ঘটে। সবশেষ মেয়র আইভী নগরীর ফুটপাথ থেকে হকারদের উচ্ছেদের ঘোষণা দিলে তাদের আবারও ফুটপাথে বসানোর ঘোষণা দেন শামীম ওসমান।

    এর প্রতিবাদে নগর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে মেয়র আইভী তার নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিলসহ চাষাঢ়া এলাকায় আসেন। তারা মুক্তি জেনারেল হাসপাতালে সামনে এলে শামীম ওসমানের সমর্থক ও হকাররা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় মেয়র আইভী ও তার লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি করে নিয়াজুল ইসলাম। নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে আইভীকে রক্ষা করেন। পরে লোকজন নিয়াজুলকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরদিন ১৭ জানুয়ারি নিয়াজুল বাদী হয়ে তার অস্ত্র ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সুফিয়ানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ