• শিরোনাম

    কেন সিনেমাগুলো সেরা অস্কারে?

    | ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ | ১২:৪২ অপরাহ্ণ

    কেন সিনেমাগুলো সেরা অস্কারে?

    কেন সিনেমাগুলো সেরা অস্কারে?

    বিনোদন ডেস্ক

    কেন সিনেমাগুলো সেরা অস্কারে?

    বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অস্কারের ৯০তম আসরে সর্বাধিক ১৩টি মনোনয়ন পেলো গুইলারমো দেল তোরো পরিচালিত ‘দ্য শেপ অব ওয়াটার’। দ্বিতীয় সর্বাধিক আটটি বিভাগে মনোনীত হয়েছে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ডানকার্ক’। সাতটি মনোনয়ন এসেছে ‘থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং, মিসৌরি’। আমরা দেখে নেই, সেরা সিনেমার তকমা পাওয়া গুলো কেন সেরা?

    ডানকার্ক:

    ক্রিস্টোফার নোলানের এই ছবিটি বেশ এগিয়ে থাকবে এবারের অস্কার দৌড়ে। সেরা সিনেমা, পরিচালক সিনেমাটোগ্রাফার, সম্পাদনাসহ আটটি ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পেয়েছে। তবে এ সিনেমার সবচেয়ে যে বিষয়টি আকর্ষণ করে তাহলো ব্যকগ্রাউন্ড স্কোর। কারণ এই সিনেমার কাজের ৫০% দখল করে আছে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। ভয়ংকর রুদ্ধশ্বাস অদ্ভুদ। পুরো দেড়ঘন্টা আপনাকে নরকে ঢুবিয়ে নিয়ে যাবে। অসহায়তা, ভয় টের পাবেন প্রতি মুহুর্তে। অনেক চেষ্টা করেও সেই কাহিনীর মধ্য থেকে বার হতে পারবেন না। আর এই মহান কাজটি করেছেন হ্যান্স জিমার। যিনি এর আগে ‘লায়ন কিং’ এর জন্য অস্কার পেয়েছেন। ইন্টারস্টেলার, ইনসেপশনের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর করেছিলেন। প্রতিটি সুক্ষাতিসুক্ষ ব্যাপারগুলি অসাধারণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন মিউজিকের খেলায়। এবারো কি অস্কার পাবেন? দেখা যাক! এমনটাই মনে করছেন অনেকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ সিনেমাটি দর্শকদের পাশাপাশি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    webnewsdesign.com

    দ্য পোস্ট:

    অনেকেই অস্কার দৌড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রাখছেন ‘দ্য পোস্ট’ কেই। আর না রেখে উপায় আছে? পরিচালক হিসেবে স্টিফেন স্পিলবার্গ এর পাশাপাশি আছে টম হ্যাংকস আর মেরিল স্ট্রিপ জুটি। ছবির কাহিনী জুড়ে রয়েছে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সংগ্রাম।

    মেরিল স্ট্রিপের চরিত্রটির নাম ক্যাথরিন গ্র্যাহাম। ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার প্রকাশক। ২০ বছরের বেশি সময় তিনি এই পদে কাজ করেছেন। তিনিই ভিয়েতনাম যুদ্ধবিষয়ক পেন্টাগনের নথিপত্র প্রকাশ করেছিলেন তাঁর পত্রিকায়।

    গ্র্যাহাম খুব সাহসী ছিলেন। তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি পত্রিকা বন্ধ হওয়া ও জেল খাটার ঝুঁকিও নিয়েছিলেন। টম হ্যাঙ্কস অভিনয় করেছেন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার তৎকালীন সম্পাদক বেন ব্র্যাডলির ভূমিকায়। বেন এই নথিপত্র ছাপার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেন গ্র্যাহামকে। এই নথিপত্র প্রথমে ছাপা শুরু করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে পত্রিকাটি নথি ছাপা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। তখন ওয়াশিংটন পোস্ট তা ছাপা শুরু করে।

    সেরা ছবির দৌড়ে এগিয়ে। অনেকে মনে করছেন মেরিল স্ট্রিপও পেয়ে যেতে পারেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারটি।

    থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং মিসৌরি:

    অনেকটা ভৌতিক কমেডি ধাঁচের ‘থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং মিসৌরি’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন মার্টিন ম্যাকডোনা। ২০১৭ সালের সেরা চলচ্চিত্রগুলোর একটি এটি। ছবিটি অস্কার মনোনয়নের আগেও আন্তর্জাতিক মানের বেশকিছু পুরস্কার জিতেছে। এতে অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী ফ্রান্সিস ম্যাকডর্মেন্ড।

    এক দুঃখী মায়ের গল্প। তার মেয়ে খুন হয়েছে। কিন্তু হত্যাকারীকে খুঁজতে পুলিশের অবহেলায় হতাশা জন্ম নেয় তার মধ্যে। তাই সড়কের ধারে বিলবোর্ডে ক্ষোভ জানিয়ে পুনঃতদন্তের জন্য পুলিশ বিভাগের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন তিনি। এই গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘থ্রি বিলবোর্ডস আউটসাইড এবিং, মিসৌরি’। ছবির গল্পে অনেকটা ভৌতিকতার ছোঁয়া আছে। শহরে হঠাৎ খুন হয়ে যায় এক তরুণী। কিন্ত পুলিশ কিছুকেই সে খুনিকে ধরতে পারছিল না। অবশেষে বাধ্য হয়ে মেয়েটির মা নিজেই নেমে পড়েন খুনির খোঁজে। আর চ্যালেঞ্জ জানান পুলিশ প্রশাসনকে।

    অনেকেই ধরে নিয়েছেন, ফ্রান্সিস ম্যাকডোরামন্ড সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর খেতাবও পেতে পারেন।

    কল মি বাই ইউর নেম:

    ইতালীয় পরিচালক লুকা গুয়াদাগনিনোর রোমান্টিক চলচ্চিত্র ‘কল মি বাই ইউর নেম’। একজন কিশোরের অবসাদগ্রস্ত গ্রীষ্মের ছুটিকে বেশ আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।

    অসম এক প্রেমের গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে এ ছবির কাহিনী। যার পটভূমি জুড়ে রয়েছে ইতালি। নামী এক অধ্যাপকের সাথে প্রেমে জড়িয়ে যায় এক তরুণী। তাদের মাঝে বয়সের বিস্তর ফারাক। তবু এগিয়ে যায় প্রেম নিঃসঙ্গ দিনগুলির মতো।

    সেরা চিত্রনাট্য (অ্যাডাপ্টেড) কিংবা সেরা অভিনেতা হিসেবে টিমোথি শালামে পুরস্কারটি পেয়ে যেতে পারে।

    লেডি বার্ড:

    রটেন টমেটো সাইটের রেটিং অনুযায়ী, ১০০ শতাংশ রেটিং এ এগিয়ে আছে লেডি বার্ড ছবিটি। তবে অস্কার কমিটি সব সময় চলচ্চিত্র সমালোচকদের কথায় কান দেন না।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র সমালোচকদের সংগঠন ন্যাশনাল সোসাইটি অব ফিল্ম ক্রিটিকসের (এনএসএফসি) দৃষ্টিতে ‘লেডি বার্ড’ হলো ২০১৭ সালের ‘সেরা চলচ্চিত্র’ এবং এর নির্মাতা গ্রিটা গারভিগ হলেন ‘সেরা পরিচালক’।

    নিউইয়র্কে সংগঠনটির সদস্যদের ভোট ‘সেরা চিত্রনাট্য’ ও ‘সেরা পার্শ্বচরিত্র অভিনেত্রী’-র পক্ষেও রয়েছে। কমেডি ড্রামা ‘লেডি বার্ড’ গেল টরেন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে উদ্বোধনী প্রদর্শনী দেখে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়েছিলেন দর্শকরা। ছবিটিতে বয়ঃসন্ধিকালের অস্থির সময়কে দারুণ দক্ষতার সঙ্গে দেখিয়েছেন চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক গ্রিটা গেরভিগ।

    দ্য শেপ অব ওয়াটার:

    একটি রহস্যময় জলজ প্রাণী এবং একটি চুপচাপ মেয়ের মধ্যে অন্যতম রোম্যান্সের কাহিনী নিয়ে দ্যা সেইপ অব ওয়াটার ছবিটি। স্যালি হকিন্সের অভিনয় করা এই ছবিটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বেশ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে। অনেকের ধারণা স্যালি হকিন্স এই বছর সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারটিও পেয়ে যেতে পারে। আশ্চর্য্য জনক অনেক কিছুই হতে পারে, সবচেয়ে বেশি নমিনেশন যে পেয়েছে।

    ডার্কেস্ট আওয়ার:

    পরিচালক জো রাইটের এই ‘পলিটিক্যাল ড্রামা’ র সময়, ১৯৪০-এর মে মাস। নেভিল চেম্বারলেনের (‌রোনাল্ড পিকআপ) পরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চার্চিলের (গ্যারি ওল্ডম্যান) ক্ষমতার শীর্ষে উত্তরণ, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বেড়়া টপকে ‘ইউরোপের আতঙ্ক’। হিটলারের সঙ্গে আপস না করা, ‘ডানকার্ক’ থেকে ইংরেজ সৈনিকদের বের করতে ‘অপারেশন ডায়ানামো’র পরিকল্পনা— এমন এক অন্ধকার সময়ের প্রেক্ষাপটে এ সিনেমা গল্পের জাল বুনেছে।

    দুর্দান্ত কিছু দৃশ্যের জন্যও সিনেমাটি দেখতে ভাল লাগবে। একটি দৃশ্য যেমন, চারদিকে গাঢ় অন্ধকার। আর ঠিক মাঝখানে চার্চিলকে নিয়ে উপরে উঠছে আলো ঝলমলে লিফ্‌ট। এ যেন সমসাময়িক সময়টাকেই ব্যঙ্গ করে। কারণ, সেই সময় হিটলারের নাৎসি সেনারা প্রায় গোটা পশ্চিম ইউরোপকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করছে।

    ফ্যান্টম থ্রেড:

    ড্যানিয়েল ডে-লুইস অভিনয়কে বিদায় জানালেন। সে হিসেবে তার সর্বশেষ সিনেমা এটি। তিনবারের অস্কারজয়ী অভিনেতা এবারও বাজিমাত করতে পারেন।

    ফ্যান্টম থ্রেড এর পটভূমি ১৯৫০-এর লন্ডন, ফ্যাশন ডিজাইনার রেনল্ডস উডককের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডে-লুইস। উডকক লন্ডনের ফ্যাশন জগতের খুব পরিচিত নাম, তার বানানো ড্রেসের খ্যাতি শহরজোড়া। উডককের জীবনে প্রেম আসে বেশ দেরিতে- সেই প্রেম আবার অনেক জটিলতার ভিতর আবর্তিত হয়।

    এটা প্রেম কাহিনীই, কিন্তু গল্পটা খুব আকাঙ্ক্ষিত কোন পরিণতিতে নিয়ে যাবেনা আপনাকে। পল থমাস এন্ডারসনের পরিচালনায় এটি ড্যানিয়েল ডে-লুইসের দ্বিতীয় সিনেমা

    তবে সেরা ছবির তালিকায় প্রত্যাশিত ছিল ‘গেট আউট’, ‘দ্যা ফ্লোরিডা প্রজেক্ট’, ‘মাদার’, ফার্স্ট দে কিল্ড মাই ফাদার’ ছবিগুলো।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন