• শিরোনাম

    কী হবে আগামীকাল

    | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

    কী হবে আগামীকাল

    উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় মানুষ

    কী হবে আগামীকাল

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে টানটান উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কী হবে সেদিন—এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দেশের মানুষ। রায় কেন্দ্র করে অনেক দিন পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে কোনো দল কর্মসূচি ঘোষণা করেনি; কিন্তু সর্বশক্তি নিয়ে রাজপথে থাকার ঘোষণায় চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি কতটা বেপরোয়া হতে পারে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ক্ষমতাসীনরা কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে—সে ভাবনা পেয়ে বসেছে বেশি। সেদিন কি বড় ধরনের কোনো সহিংসতা হবে; নাকি শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি পালন করবে রাজনৈতিক দলগুলো—সেদিকেই তাকিয়ে সবাই। এমনকি রায় কেন্দ্র করে দেশের পরবর্তী সার্বিক রাজনীতি ও পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে—এমন ভাবনাও সর্বমহলে। মানুষ কি নির্বিঘ্নে থাকতে পারবে, নাকি ৫ জানুয়ারির মতো সহিংস পরিস্থিতির মুখে—সে উদ্বেগও পেয়ে বসেছে জনমনে।

    রায় কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই দেশে এক ধরনের টানটান উত্তেজনা চলছে। সারা দেশে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটছে গ্রেফতারের ঘটনাও। রাজধানীর প্রধান সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহমূলক পথচারীদের তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় পুলিশি টহল বেড়েছে। এসব ঘটনায় বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের নিপীড়নের অভিযোগ এনেছে।

    রায়ের দিন নাশকতা প্রতিরোধের কর্মকৌশল ঠিক করতে সরকারের নীতিনির্ধারকরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। গত সোমবারও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিকে নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপি সদর দফতরে বৈঠক করেছেন ঊর্ধ্বতন পুুলিশ কর্মকর্তারা। নাশকতার আশঙ্কা করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য এসেছে, সড়ক ও রেলপথে হামলা চালানো হতে পারে। এমনকি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সদর দফতর থেকে সব রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক ও পুলিশ সুপারদের কাছে একটি বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

    গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সেদিন বিএনপির যেকোনো অরাজকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীরাও পথে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি যদিও মুখে বলছে দলীয় নির্দেশে সেদিন শান্তিপূর্ণ কমসূচি করবে তারা; কিন্তু খালেদা জিয়ার সাজা হলে পরিস্থিতি কোনদিকে যায়, তা বলতে পারছেন না দলের নীতিনির্ধারকরা। গুলশান থেকে আদালতপাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ মানববন্ধনের পরিকল্পনা রয়েছে দলের।

    ‘কোনো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিঘেœর অপপ্রয়াস ঘটাতে পারে’-এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেদিন রাজধানীতে মিছিল এবং ছুরি-লাঠির মতো অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ওই দিন ভোর ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

    সেদিন বিএনপি যাতে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সে জন্য কাউন্সিলরদের মাঠে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। একইভাবে ওইদিন যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে গজারি হাতে রাস্তায় থাকার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বাস মালিক-শ্রমিকরা।

    আগামীকাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। গত ২৫ জানুয়ারি ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান ২০০৮ সাল থেকে চলমান এই মামলার রায়ের এই দিন ঠিক করে দেন। সেদিন থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দেশে। দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা ও বাগ্বিতণ্ডা অস্থিরতা তৈরি করে দেশে। রায়ের দিন যত কাছে আসতে থাকে, ততই উদ্বেগ বাড়তে থাকে মানুষের মধ্যে। এই মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজা হতে পারে খালেদা জিয়ার।

    বিএনপির যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অরাজকতা ঠেকাতে অনেক আগে থেকেই রায়ের দিন মাঠে সতর্ক থাকার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ওই দিন থেকে শুরু করে পরের তিন দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন দলের নেতাকর্মীরা। রাজধানীর পাশাপাশি সারা দেশে এমন ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তৃণমূলকে। দলের সূত্রগুলো জানায়, দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হবে বলে মনে করেন তারা। সে কারণে ওইদিন রাজপথে বিএনপি ব্যাপক সহিংসতা করতে পারে বলে তাদের কাছে খবর আছে। তাই ওইদিন সকাল থেকে পরবর্তী তিন দিন রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় সতর্ক থাকবে আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন ও ১৪ দলের নেতাকর্মীরা। তারা পরিস্থিতির আলোকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

    গত সোমবার কেন্দ্রীয় ১৪ দল বৈঠক করে খালেদা জিয়ার রায়ের দিন মাঠে সতর্ক থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রায়ের দিন কারা কোথায় এবং কীভাবে অবস্থান করবেন সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রমতে, খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি যদি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস, জ্বালাও-পোড়াও করা শুরু করে, তাহলে স্থানীয় জনগণ, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে আওয়ামী লীগ। বিএনপিকে রাজপথে সহিংসতা করতে দেবে না তারা। তবে ক্ষমতাসীনরা কোনো উসকানি দেবে না। কোনো উসকানিতে পা দেবে না।

    এ ব্যাপারে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে থেকে সেতুমন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ায়দুল কাদের খালেদা জিয়ার রায় কেন্দ্র করে বিএনপির কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিতে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন। ‘প্রয়োজনে জনগণের জানমাল নিরাপত্তা রক্ষায়’ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি। রায় কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর হস্তে তা দমন করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

    অন্যদিকে, আগামীকাল আদালতপাড়ায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি। দলীয় সূত্রমতে, গুলশান থেকে বিভিন্ন পয়েন্টভিত্তিক এলাকায় নেতাকর্মীরা থাকবে। কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হবে। রায় যাই হোক, সবকিছু ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করবে মাঠের বিরোধী দল। বিএনপি থেকে কোনো ধরনের উসকানি দেওয়া হবে না। তবে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ যদি কিছু করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেবে দলটি।

    দলীয় সূত্র জানায়, রায় নেতিবাচক হলেই আন্দোলনে যাবে বিএনপি। এ জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কার পরামর্শে দল চলবে সেসব সিদ্ধান্তও হয়েছে। আগামীকাল সকাল থেকেই গুলশানে বিএনপি নেত্রীর বাড়ি থেকে পুরান ঢাকার বকশীবাজারের বিশেষ আদালত পর্যন্ত রাজপথে থাকবে দলটির নেতাকর্মীরা। এ জন্য দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। সহযোগী সংগঠনগুলোকেও সেভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। গুলশান থেকে বকশীবাজার পর্যন্ত খালেদা জিয়া যে পথ দিয়ে আদালতে যাবেন, সে পথে মানববন্ধনের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা ঢাকার শক্তি জানান দেবেন। তবে কোনো ধরনের উসকানি দেবেন না তারা।

    এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ম্যাডামকে নিয়ে আদালতে যাব। আমরা কোনো ধরনের সহিংসতা বিশ্বাস করি না। ধৈর্য ধরে আদালত এলাকায় উপস্থিত থাকব। যেহেতু মামলাটি রাজনৈতিক, তাই রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করব।

    সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারির পর আরো তিন-চার দিনের পরিস্থিতি মাথায় রেখে নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার থেকে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বা তল্লাশি চৌকি বসানো হবে। তল্লাশির পর যানবাহন ঢাকার ভেতর ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। এ ছাড়া পথেও বিভিন্ন স্থানে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হবে। রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। রায়ের দিন ঢাকার কোনো স্থানেই বিএনপির নেতাকর্মীসহ কাউকেই জড়ো হতে দেবে না পুলিশ। কেউ জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করলেই পুলিশ ছররা গুলি চালাবে। আগুন সন্ত্রাস বা কোনো নাশকতা হলে তা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি সন্দেহভাজন নাশকতাকারী ধরতে এরই মধ্যে অভিযানে নেমেছে তারা। এরই অংশ হিসেবে গত ছয় দিনে বিএনপির ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানায়।

    রাজধানীর পাশাপাশি ঢাকার বাইরেও সতর্ক ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নাশকতার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়ক আজ ও আগামীকাল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে গতকাল রাত থেকেই। রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও গতকাল রাত থেকে সড়ক পরিবহন পরিচালনা সীমিত আকারে করা হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি ঘিরে সব ধরনের নৈরাজ্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত আছে। কোনো নাশকতা ও নৈরাজ্য করতে দেওয়া হবে না। এ দেশের মানুষ তা সহ্য করবে না।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন
    হাজীগঞ্জে ছোট বোনের হাতে বড় বোন খুন