• শিরোনাম

    কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ জুন ২০২১ | ১২:০২ অপরাহ্ণ

    কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি

    তালগাছে বাবুই পাখির বাসা।

    “বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়ই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টির, ঝড়ে। বাবুই হাসিয়া কহে, সন্দেহ কি তাই? কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়। পাকা হোক, তবু ভাই, পরেরও বাসা, নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাঁচা”।

    রজনীকান্ত সেনের কবিতার সেই বাবুই পাখি আজ হারিয়ে যাচ্ছে। বাবুই পাখি সুনিপুণ এক কারিগর। কারুকার্যময় বাসা তৈরী করে নতুন নতুন সঙ্গীর সঙ্গে সখ্যতা গড়া যার নেশা। এক সময় গ্রামবাংলায় ছোট্র এ বাবুই পাখির বাসাগুলো ছিলো চোখে পড়ার মতো। এ পাখি যেমন বুদ্ধিমান তেমনি শিল্পির মতো অপরুপ তার কারুকার্য।

    বাবুই পাখি দেখতে অনেকটা চড়ুই পাখির মত। তবে আকারে একটু বড়। এরা ঝাঁক বেঁধে তাল গাছের চুড়ায় বসবাস করে, এরা খুব মেধাবী পরিশ্রমি পাখি হিসেবে পরিচিত। গ্রামগঞ্জে বাবুই পাখি আর আগের মত চোখে পড়ে না। একদিকে নির্বিচারে পাখি শিকার ও তাল গাছ কেটে ফেলা অন্যদিকে খাঁচায় বন্দি করে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেচা কেনাও হচ্ছে এ পাখি। যার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে সুনিপুন কারিগর বাবুই পাখি ।বাবুই পাখিরা সাধারণত তাল গাছের চুড়ায় বাসা বাঁধে। বাবুই পাখির বাসা গ্রামগঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য।

    webnewsdesign.com

    বাবুই পাখি নিয়ে কবি সাহিত্যিকরা অনেক গল্প ও কবিতা লিখেছেন। তাল গাছের পাতার নিচের অংশে বাবুই পাখি বাসা তৈরী করে।বাবুই পাখিদের বাসা বানানোর নির্মাণ শৈলী, কারিগরি দক্ষতা দেখে আধুনিক যুগের প্রকৌশলীদেরও ভাবিয়ে তোলে।তাল পাতার ছেড়া তন্তু দিয়ে তারা বাসা বাঁধে।

    পাতা ছিড়ে এনে সুক্ষ ভাবে ঠোঁট দিয়ে তা গাঁথুনী করে বাসা তৈরী করে, তাই এর নাম শিল্পী বাবুই পাখিও বলা হয়ে থাকে। ঝড় বৃষ্টিতেও সেই বাসা ভেঙ্গে পড়ে না।তাল পাতার বাসায় কোন ভাবেই জল ঢোকে না। এ বাসায় প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য রয়েছে একাধিক দরজা। এ এক অদ্ভুত দৃশ্য। অন্ধকার ঘরকে কিভাবে আলোকিত করতে হয় তাও বাবুই পাখিরা ভালো ভাবেই জানে।

    বাবুই পাখির বাসার ভিতর আধুনিক যুগের মত লাইটের ব্যবস্থা আছে। বাসার ভেতর একটু গোবর রাখা হয়, তার ভেতর জোনাকি পোকার মাথাটি ঢুকিয়ে দেয়া হয়। ফলে জোনাকির আলোতে বাসা আলোকিত হয়ে উঠে। কারুকার্যময় এ বাসা দেখিয়ে পুরুষ বাবুই পাখি তার প্রেমিকার মন ভুলিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলে।

    সুনিপুন এ কারিগর এভাবে একের পর এক বাসা তৈরী করে নতুন নতুন সঙ্গী জুটিয়ে নিজ হাতে গড়া সেই বাসায় স্বল্প দিনের সুখের ঘর বাঁধে। এভাবেই আমৃত্যু চলতে থাকে পুরুষ বাবুই পাখির বাসা তৈরী আর সঙ্গী বদলের পালা ।

    ফরিদপুরের চারণ কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মী বিজয় পোদ্দার বলেন, ‘আমাদের মাঝ থেকে তালগাছ ও বাবুই পাখি হারিয়ে যেতে বসেছে। পল্লী গ্রামে দু-চারটা তালগাছ চোখে পড়লেও বাবুই পাখির একেবারেই দেখা মেলে না। পুরো ফরিদপুর জেলা ঘুরে হয়তো হাতেগোনা ৮ থেকে ১০টি তালগাছে বাবুইপাখি ও তার বাসা দেখা যেতে পারে। আমাদের মাঝ থেকে বাবুই যেন বিলুপ্তির শেষ প্রান্তে। একসময় হয়তো বইয়ের পাতায় আর গানের ভেতর ছাড়া চোখে দেখা মিলবে না।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি