• শিরোনাম

    করোনাভাইরাস: দুর্নীতির কারণে মৃত্যুর আহাজারি আর কতো?

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ জুন ২০২০ | ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ

    করোনাভাইরাস: দুর্নীতির কারণে মৃত্যুর আহাজারি আর কতো?

     

    মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মানুষ। প্রতিটা মুহূর্ত তাড়া করে বেড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস আতংক। সে সাথে অনিশ্চিত ভবিষৎ। প্রিয়জনদের আক্রান্ত আর মৃত্যুর খবর এখন নিত্যকার বিষয়। শোক সান্তনা কে কাকে দিবে তা বলা মুশকিল। তটস্থ জনজীবনে মৃত্যুর আহাজারি বাড়ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো অনিয়ম দুর্নীতি ও চিকিৎসার অব্যবস্থাপনা।

    অবকাঠামোগত উন্নয়নকে জনজীবনের সামগ্রিক উন্নয়ন বলা যায় না। ‘সামাজিক নিরাপত্তা’- শব্দটি কেবল খাতা কলমে প্রচলিত আছে এ দেশে। তা না হলে কোভিড ১৯ এর মহামারীর কালে মানুষকে চিকিৎসার হাহাকার নিয়ে মরতে হত না। ত্রাণ আর সরকারের আর্থিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে গরীব জনগোষ্ঠী।

    বাস্তবতা মানুষকে প্রতিবাদী করে তুলছে। আর সে কারণে প্রতিষ্ঠিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মৃত্যু নিয়ে কটাক্ষ করতে মানুষ দ্বিধা করছে না। যে কোন মানুষের কৃতকর্মের বিচারের দায়ভার স্রষ্টার। মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে সমালোচনা করা উচিৎ নয়। সেখানে কোভিড ১৯ এ চিকিৎসা না পেয়ে স্বাস্থ্যখাতের হালখাতা মেলে ধরেছে জনগণ। সরকারের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের চিত্র জনগণের কাছে স্পষ্ট। অনিয়ম দুর্নীতি করে অর্থের পাহাড় গড়ে ও অসহায় আজ প্রভাবশালী ধনবানরা। দেশের দূর্বল চিকিৎসা ব্যবস্থার ভয়াবহ পরিণতির শিকার তারাও। সার্মথ্যবান হয়েও সুচিকিৎসার আশায় যেতে পারছে না বিদেশ। এটাই নিয়তির বিধান। কোভিড ১৯ মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে নিয়মের ব্যতয় অবিচার যুগে যুগে চলতে পারে না।

    শোষণের যাতাকলে পিষ্ট জনগণকে প্রতিবাদ করতে হয়নি। বরং হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটে মৃত্যুবরণের করুন দশা থেকে উন্মোচিত হয়েছে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতা। ইট পাথরের গড়া হাসপাতালের বিল্ডিংগুলোতে সুষ্ঠু চিকিৎসার সরঞ্জাম নেই। আইসিইউ, ভেন্টিলেটর আর অক্সিজেনের অভাবে মরছে মানুষ। কিন্তু দেশের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বরাদ্দের টাকা খরচ হয় ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশে মিথ্যা হিসাবের পর্দা বালিশ কিনে। কিংবা বিদেশ ভ্রমণে৷ রাজনৈতিক আর প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের সমন্বয়ে সাধারণ জনগণের টাকা নিয়ে প্রহসনের খেলা দেশকে ধবংস করছে।করোনাভাইরাস

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কাদের জন্য এ জিজ্ঞাসা এখন সকলের৷ কোভিড ১৯ এর মহামারীর কালে মাস্ক নিয়ে কেলেংকারী দেখে শিহরিত হয়েছে জনগণ। তবে অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ হয়ে যায় না। দেশের টাকা লুটপাটকারীরা সাধারণত দেশে চিকিৎসা নেয় না। তবে কোভিড ১৯ এ তারা বাধ্য দেশের ভগ্নদশা হাসপাতালে যেতে। নিজেদের দেশের বেহাল দশার জন্য তারা কাউকে দায়ী করতে পারে না। কারণ এ দেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীর ন্যায্য প্রাপ্যকে মুষ্টিমেয় লোক কুক্ষিগত করেছে।

    প্রভাবশালীদের মৃত্যুতে খবর হয়, শোকের বার্তা আসে। কিন্তু সব সাধারণ মানুষের খবর আসে না গণমাধ্যমে। করোনাভাইরাসে প্রতিদিন সারাদেশে সরকারি হিসাবের বাইরেও লোক মারা যাচ্ছে। সারাদিনের মৃত্যুর খবরের সাথে সরকারি হিসাব মিলে না। কারণ করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অব্যবস্থাপনার কারণে সবাই হাসপাতালে ঠাঁঁই পাচ্ছে না। একটু নিঃশ্বাস নেবার আশায় হাসপাতালে গিয়ে মিলছে না অক্সিজেন। তাই রাস্তায় পড়ে থাকা মৃত মানুষের ছবি লজ্জিত করে দেশকে।

    ২০২০- ২০২১ সালের বাজেটে গত অর্থ বছরের তুলনায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার মত বেশি অর্থাৎ ২৯ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ স্বাস্থ্য খাতে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা প্রস্তাবিত মোট বাজেটের ৭.২ শতাংশ। এ বিশাল অংকের অর্থ করোনাভাইরাসের মহামারীর উপলব্ধি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় সঠিকভাবে ব্যয় হোক এটাই প্রত্যাশিত। কারণ চিকিৎসার অভাবে মানুষ আর মরতে চায় না। আর জনগনের হক মেরে দেয়া দুর্নীতিবাজদের সহ্য করা ও অন্যায়- একথাটা ভুলে গেলে চলবে না।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ