• শিরোনাম

    কক্সবাজার সৈকতে চাঁদাবাজি পর্যটকরা বিরক্ত, অতিষ্ঠ

    | ৩০ অক্টোবর ২০১৭ | ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

    কক্সবাজার সৈকতে চাঁদাবাজি পর্যটকরা বিরক্ত, অতিষ্ঠ

    কক্সবাজার সৈকতে চাঁদাবাজি পর্যটকরা বিরক্ত, অতিষ্ঠ

    কক্সবাজার প্রতিবেদক,

    চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ নানা ধরনের গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দায়িত্বে থাকা বিচকর্মীরা। তাদের হাত থেকে পর্যটক থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ী কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অধীনে থাকা এসব বিচকর্মী দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

    বিচকর্মীরা প্রতি মাসে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মাসের পর মাস চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুদিন বিচ বাইক ও ওয়াটার বাইক বন্ধ রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরে গত শনিবার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদের মধ্যস্থতায় বিচকর্মীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সমঝোতার মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ফের শুরু করা হয়।

    ওয়াটার বাইক ও বিচ বাইকের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা নিজেদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের কাছে বিচকর্মীরা আতঙ্কের নাম। কেউ অভিযোগ করলেও রয়েছে বিপদ। অনেকে অভিযোগ করে উল্টো জেল-জরিমানার শিকার হয়েছেন।

    webnewsdesign.com

    কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ বলেন, ‘বিচকর্মীদের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ কেউ হাজির করতে পারবে না। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাহিদুর রহমান বলেন, ‘বিচকর্মীদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। কারো অপকর্মের কারণে জেলা প্রশাসন এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ভাবমূর্তির ক্ষতি হলে সহ্য করা হবে না। আমি দ্রুত বৈঠক ডেকেছি। এসব বিষয়ে কোনো অনিয়ম থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    সৈকতের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সমুদ্র সৈকতে আসলে তাদের দায়িত্ব কী তা কেউ জানে না। তারা শুধু চাঁদাবাজিতেই ব্যস্ত থাকেন। সাগরে চলমান ওয়াটার বাইক থেকে দৈনিক ২০০ টাকা, ৪০ জন ঝালমুড়ি বিক্রেতার কাছ থেকে দৈনিক ২০ টাকা হারে ৮০০ টাকা, ১০০ জন কপি বিক্রেতার কাছ থেকে দৈনিক ২০ টাকা হারে ২০০০ টাকা, ৫০ জন বাদাম বিক্রেতার কাছ থেকে দৈনিক ২০ টাকা হারে ১০০০ টাকা, ৩০ জন কলা বিক্রেতার কাছ থেকে ২০ টাকা হারে ৬০০ টাকা, ২৫ জন ঘোড়া চালকের কাছ থেকে ৫০ টাকা হারে ১২৫০ টাকা এবং প্রায় ১০০ জন চিপস, পানি সিগারেটসহ অন্য হকারের কাছ থেকে ২০ টাকা হারে ২০০০ টাকা দৈনিক চাঁদাবাজি করেন বিচকর্মীরা।

    স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিচকর্মীদের মধ্যে সুপারভাইজার মাহবুব, শফিউল ও জাহেদ সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া। তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বেশি খারাপ আচরণ করেন। পর্যটকদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। এর মধ্যে বিচকর্মী মাহবুব সুপারভাইজার হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বিচকর্মীরা। মাহবুবের তিন ভাই বিচকর্মী বলে জানা গেছে। এমনকি মাহবুব কখনো কখনো নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট বলেও দাবি করেন। কেউ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পরবর্তীতে ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল ও সৈকতে ব্যবসা করতে দেবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।

    অভিযোগ প্রসঙ্গে বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব দাবি করেন, তিনি এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি বলেন, ‘কেউ তো সামনে অভিযোগ করে না। সবাই পেছনে পেছনে বলে। এসব বলে কেউ আমার কিছু করতে পারবে না।’

    কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান কাজেমী বলেন, ‘বিচকর্মীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ আসছে। এর মধ্যে পর্যটকদের ইভটিজিং এবং মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনাও রয়েছে। যেহেতু তারা একটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাই আমরা তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি অ্যাকশনে যাই না। সব বিষয় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।’

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ