• শিরোনাম

    ওহাবী ও ওহাবীদের আকিদা – মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী

    মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী | ০১ জুলাই ২০২১ | ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

    ওহাবী ও ওহাবীদের আকিদা – মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী

    ফাইল ছবি

    ওহাবী বলতে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী (১১১৫-১২০১হিঃ, ১৭০৩-১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দ) এর অনুসারীদেরকে বুঝায়। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব এর জীবদ্দশায় তার মতাদর্শকে “ওয়াহ্হাবিয়া” নামে নামকরণ করা হয়।

    তিনি নজরের “উয়াইনা” স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার জীবনের বিশাল একটি অংশ ভ্রমণে ব্যয় করেন। তিনি ইরাকের বসরায় চার বছর বসবাস করেন। পাঁচ বছরে বাগদাদে ছিলেন। এক বছরে কুর্দিস্তানে এবং দুই বছর হামাযানেও অবস্থান করেন। যেখান থেকে বাদশা নাদির শাহের শাসনামলের শুরুতে তিনি ইস্পাহানে চলে আসেন।

    অতঃপর তিনি কুম্ব গমন করে পুনঃরায় আপন জন্মস্থান ‘উয়াইনায়’ প্রত্যাবর্তন করেন। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী তার জীবনে এরিস্টোটলীয় দর্শন,ইশরাকিয়া মতবাদ এবং সুফিতত্ত্ব ব্যাপকভাবে চর্চা করেন। যে কারণে শিরককে মন্থন করার এবং সুফিতত্ত্বের গভীরে প্রবেশ করা সুযোগ পান। এর থেকেই তার ভেতরে শিরক বিরোধী এবং তাওহীদপন্থী চিন্তাভাবনা সৃষ্টি হয়।

    webnewsdesign.com

    তিনি কবর বা মাজার সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করেন। এগুলোকে কেন্দ্র করে তিনি তার শিরক ও পীর বিরোধী মতবাদ প্রচার শুরু করেন।
    আপন জন্মস্থানে দীর্ঘ আট মাস নীরব থাকার পর তিনি তার মতবাদ প্রচার শুরু করলে আপনজন সহ অসংখ্য মানুষ তার বিরুদ্ধে চলে যায়।

    বিশেষ করে তার ভাই সোলায়মান এবং চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ তার ঘোর বিরোধিতা করেন। এই কারণে তাকে আপন জন্মভূমি হতে বহিস্কৃত হতে হয়। এক পর্যায়ে সুলতান সোলায়মান ওই অঞ্চলের গভর্নর এর নিকট তার নির্বাসনের দাবি করে পত্র প্রেরণ করেন।

    অতঃপর তিনি সেখান থেকে বিদায় গ্রহণ করে “দারিয়ায়” চলে আসেন। দারিয়ার ৭০টি গ্রামের সরদার মুহাম্মদ ইবনে সাউদ তার চিন্তাধারা গ্রহণ করেন। শাসন ক্ষমতা মোহাম্মদ বিন সাঈদের হাতে থাকলেও মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী ধর্মীয় ব্যাপারে নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করেন।

    ফলে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী শাসক পরিবারের সাথে এমন ভাবে মিশে গিয়েছিলেন যে, এই শাসক পরিবারে উত্থান এবং পতনের সাথে তার জীবন অবিচ্ছেদ্য রূপ ধারণ করে। মুহাম্মদ ইবনে সাউদ মৃত্যুবরণ করলে তার পুত্র আব্দুল আজিজ ক্ষমতায় আরোহন করলে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীকে তিনি ধর্মীয় নেতার পদে বহাল রাখেন।

    পর্যায়ক্রমে মুহাম্মদ ইবনে সাউদ সৌদি আরবে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীর ধর্মীয় প্রচারণা বেগবান হয়ে উঠে এবং অল্প সময়ে চতুর্দিকে তার বিস্তৃতি ছড়িয়ে পড়ে। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীর মতবাদ একটি আন্দোলনে পরিণত হয়।

    ওহাবী_আকিদা_এবং_আমল_সমূহ
    “””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
    ১। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদী চারটি মাযহাব হক এবং সিহাহ সিত্তার হাদীসসমূহের প্রমাণিকতা স্বীকার করে নিলেও তাঁর প্রধান কাজ হলঃ মুর্শিদ বা পীরতন্ত্রকে উৎখাত করা।

    ২। দরবেশদের কবরের ওপরে গম্বুজ সমূহ ভেঙ্গে ফেলা।
    ৩। সাওয়াবের নিয়তে কোন কবরের দিকে সফর করা হারাম।

    ৪‌। যারা ওলী-আউলিয়ার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করে তাদের প্রতিবাদ করা।

    ৫। দোয়ার মধ্যে কোন নবী, ওলী, পীর-দরবেশ, ফেরেশতার নামের অসীলা দেওয়া যাবে না।
    ৬। আল্লাহ ব্যতীত কারো সাহায্য প্রার্থনা করা শিরক।

    ৭। আল কোরআন, সুন্নাহ এবং যুক্তিমূলক জ্ঞান ছাড়া অন্য কোন প্রকার এলেমকে স্বীকৃতি দেওয়া কুফরির শামিল।

    ৮। ফরজ নামাজের জামাতের যোগদান করা অবশ্য কর্তব্য।
    ৯। তামাকের ধুমপান হারাম। পান করলে চল্লিশটি বেত্রাঘাত যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

    ১০। গালি-গালাজের অপরাধের দায়ে কাযীর বিচার মান্য।
    ১১। গোপন মুনাফার জন্য যাকাত প্রদান করতে হবে।

    ১২। কালিমা তাইয়্যেবা মুখে উচ্চারণ করলেই মমিন হবেনা বরং সে অনুযায়ী তার আচার-আচরণ থাকতে হবে।

    ১৩। ১০০ দানার তাসবীহর মালা ব্যবহার করা যাবে না’ বরং আঙ্গুলের রেখা গুলির উপরে তাসবীহ বা আল্লাহর নাম, দোয়া-দরুদ গণনা করতে হবে।

    ১৪। মসজিদের মিনারা করা যাবে না।
    ১৫। মসজিদ কোন অবস্থাতেই নকশা বা সাজ-সজ্জা করা যাবে না।

    ১৬। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যোগের যে সকল বৃক্ষ বা স্থাপনা অথবা জান্নাতুল বাকীতে সাহাবীদের কবরের উপরে যে, গম্বুজ নির্মিত হয়েছিল তা ভেঙ্গে ফেলতে হবে। এরই সূত্র ধরে সেই ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত গাছ-পালা এবং স্থাপনা, সমাধি-সৌধ সমূহ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়‌। তার স্বয়ং নেতৃত্বে জোবায়ের জায়েদ ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর কবরটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

    ১৭। আযানের স্থানে আজান ব্যতীত কোনো কথা বলা হারাম।

    এই ওহাবী সম্প্রদায়ের মানুষেরা নিজেদেরকে কখনো মুওয়াহহিদীন- একত্ববাদী বলে পরিচয় দেয়। আবার কখনো আদিপন্থী সালাফি বলে পরিচয় দেয় আবার কখনো তারা তাদের এই ওয়াহাবি আন্দোলনকে তরীকায়ে মুহাম্মদী বলে প্রকাশ করে।

    (ইসলামী বিশ্বকোষ ৬ষ্ঠ খন্ড ৩০১ পৃষ্ঠা)
    আল্লাহ তায়ালা এই ওয়াহাবী বাতিল ফের্কার ফেতনা থেকে আমাদের ঈমান ও আমলে হেফাজত করুন। আমীন!

    মুফতি ফজলুল কাদের বাগদাদী, খতিব, আলীগঞ্জ হযতর মাদ্দাখাঁ র. জামে মসজিদ, হাজীগঞ্জ

     

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি
    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি