• শিরোনাম

    ওই অধ্যক্ষ সাবেক জামায়াত নেতা

    | ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

    ওই অধ্যক্ষ সাবেক জামায়াত নেতা

    ওই অধ্যক্ষ সাবেক জামায়াত নেতা
    ওই অধ্যক্ষ সাবেক জামায়াত নেতা
     ওই অধ্যক্ষ সাবেক জামায়াত নেতা বলে আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন। এদিকে তাকে এখনো চাকরি থেকে বরখাস্ত না করায় মুক্তিযোদ্ধা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ বিরাজ করছে। বুধবার এক বিবৃবিতে তারা সাবেক জামায়াত ও শিবির নেতা অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীন সরকারকে দ্রুত সাসপেন্ড করার দাবি জানান।
    মামলার বাদী এবং জেলা পরিষদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের তালুকদার বিবৃতিতে জানান, গ্রেফতার হওয়ার পাঁচদিন পরেও জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতা ওই অধ্যক্ষকে রহস্যজনক কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়নি। তিনি এজন্য মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরেক সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান তুলাকে দায়ী করেন। মুক্তিযোদ্ধার ব্যানার টানিয়ে ওই জামায়াত নেতাকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। পৌর মেয়র এবং আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল হক ছানা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ নির্লজ্জের মতো এ জামায়াত-শিবির নেতাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
    উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল জব্বার সরকার অভিযোগ করেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান তুলা জামায়াত-শিবির ও রাজাকার আলবদর তোষণ নীতি শুরু করেছেন। তাই অধ্যক্ষকে সাসপেন্ড না করে তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। এদিকে মঙ্গলবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জামায়াত তোষণের জন্য সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান তুলাকে ভৎসনা করা হয়।
    মিটিংয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদারসহ একাধিক জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, সরকারের সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে চাকরির জন্য জামায়াত নেতা ওই অধ্যক্ষকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বুদ্ধিজীবী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি দলীয় সনদপত্র নিয়ে দেন ওই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।
    কৃষকলীগ নেতা এবং আলমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মোমেন অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতাকে আওয়ামী বুদ্ধিজীবী সনদ দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। আর এ কাজের নেপথ্যে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান তুলা।
    এ ব্যাপারে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান তুলা জানান, ওই অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তিনি কখনো জামায়াত-রাজাকার তোষণ করেন নি। তবে গ্রেফতার হওয়া অধ্যক্ষ মুখ ফসকে ওই কথা বলেছেন। এ জন্যই সমস্যা হয়েছে।
    আওয়ামী লীগ সভাপতি হালিমুজ্জামান তালুকদার জানান, ওই জামায়াত-শিবির নেতাকে আওয়ামী বুদ্ধিজীবী হিসেবে সনদ দেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকলে তার নেপথ্যে ছিলেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবহান তুলা। আর ওই সনদ নিয়ে আওয়ামী বুদ্ধিজীবী হিসেবে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে ফিলিপাইন ভ্রমণ করে আসেন।
    এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং গোপালপুর থানার এসআই আব্দুল হাই জানান, মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীন সরকারকে দুইদিনের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন। বৃহস্পতিবার তাকে জেলহাজত থেকে নিয়ে টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশ অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাকে গোপালপুর থানায় নিয়ে আসা হবে না।
    উল্লেখ, শনিবার বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বেহেস্ত নসিব কামনা করে মোনাজাত করায় ওই অধ্যক্ষকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে ওইদিন রাতে তার বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারায় জনগণের মধ্যে ঘৃণা ছড়ানো, জনগণকে দাঙ্গার জন্য উস্কানি দেওয়াসহ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করা হয়।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ
    বোকরা নিষিদ্ধ! হাজীগঞ্জে বোরকা পরার অপরাধে আধাঁঘন্টা খাতা আটক রাখার অভিযোগ