• শিরোনাম

    অর্ধেক টাকা এখনো আদায় হয়নি

    | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | ৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ

    অর্ধেক টাকা এখনো আদায় হয়নি

     

    এবি ব্যাংকের অফশোর ইউনিটের অনিয়মের অর্ধেকের বেশি অর্থ এখনো উদ্ধার হয়নি। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে বিতরণ করা ৫ কোটি ৫১ লাখ ডলারের মধ্যে ২ কোটি ৩১ লাখ ডলার (২২৩ কোটি টাকা) ফেরত এনেছে। বাকি ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার এখনো আদায় হয়নি। ফলে অনাদায়ি এ বিপুল পরিমাণ অর্থ শেষ পর্যন্ত আদায় হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

    চার বিদেশি গ্রাহককে ব্যাংকটি ৫ কোটি ৫১ লাখ ডলার (৪৪০ কোটি টাকা) ঋণসুবিধা দিয়েছিল। যার পুরোটাই পাচার হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    এদিকে এই অনিয়মের ঘটনায় ব্যাংকটি অফশোর ইউনিটের (ওবিইউ) প্রধান ও চট্টগ্রামের ইপিজেডের ওবিইউ ব্যবস্থাপককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঋণের ৩১০ কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    webnewsdesign.com

    এবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান চৌধুরী গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা আসলে পাচার হয়নি, ঋণ হিসেবে গেছে। এ কারণে অর্ধেক টাকা আদায় করা গেছে। চলতি মাসেও টাকা এসেছে। এ ছাড়া একজন গ্রাহক টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা আশাবাদী, পুরো অর্থই আদায় করা যাবে।’

     মশিউর চৌধুরী আরও বলেন, ‘বড় গ্রাহক সিমাট জেনারেল কিছু অর্থ দিলেও বাকি অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ওই ঘটনায় ওবিইউ কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। অন্যদের সতর্ক করা হয়েছে।’

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে গত বছরের শুরুতে ধরা পড়ে, এবি ব্যাংকের অফশোর ইউনিট থেকে চার বিদেশি কোম্পানির নামে ৫ কোটি ১০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি ৪১০ কোটি টাকা) ঋণ দেওয়া হয়। তবে প্রতিষ্ঠান চারটি যে উদ্দেশ্যে ঋণ নেয়, তার কোনোটিই যথাযথ ব্যবহার করেনি। প্রতিষ্ঠান চারটি হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্লোবাল এমই জেনারেল ট্রেডিং ও সিমাট জেনারেল ট্রেডিং, সিঙ্গাপুরের এটিজেড কমিউনিকেশন ও ইউরোকার্স হোল্ডিং। এর মধ্যে ইউরোকার্স হোল্ডিংয়ের ঋণের সুবিধাভোগী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানের মালিকানাধীন প্যাসিফিক মোটরস। তিনি এবি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও ৩০ শতাংশ শেয়ারের অংশীদার।

    এবি ব্যাংক সূত্র জানায়, ঋণের পুরো অংশ ফেরত দিয়েছে গ্লোবাল এমই জেনারেল ট্রেডিং, যার বাংলাদেশি অংশীদার রহিমআফরোজ গ্লোবাল লিমিটেড। সিমাট জেনারেল ট্রেডিং ২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার নিলেও মাত্র ৯৪ লাখ ডলার ফেরত দিয়েছে। বাকি অর্থ আদায়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাড়া পায়নি ব্যাংক। এটিজেড কমিউনিকেশন ১ কোটি ডলার নিয়ে ফেরত দিয়েছে ৫৭ লাখ ডলার। সবশেষ ৯ সেপ্টেম্বর ৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউরোকার্স হোল্ডিং ১ কোটি ৪৪ লাখ ডলার নিয়ে ফেরত দিয়েছে ৬৭ লাখ ডলার।

    এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ ঘটনায় ওবিইউর প্রধান আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর পদোন্নতি ও বেতন বৃদ্ধি ১ বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের ইপিজেডের ওবিইউ ব্যবস্থাপককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। খেলাপি এ ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি রাখছে ব্যাংকটি। ২০১৬ সালে ১০ শতাংশ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করেছে। পরের তিন বছরে ৩০ শতাংশ হারে বাকি সঞ্চিতি রাখবে। এ ঋণের বিষয়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ওয়াহিদুল হক বক্তব্য দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। এ জন্য ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    Leave a comment

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর
    দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও যাচ্ছে মতলবের ক্ষীর